পরামর্শ নিতে আসা মাদকাসক্ত পরিবারের কষ্টের কথা
‘আমি আর পারছি না, এই পৃথিবীর কোনো কিছুই ভালো লাগে না। একমাত্র ছেলের মাদকাসক্তির কারণে রাতে আমার ঘুম হয় না, সংসারে মন বসে না, সামাজিক জীবন বলে আমার আর অবশিষ্ট কিছু নেই। কীভাবে ছেলেকে ওই পথ থেকে ফিরিয়ে আনব, প্লিজ আমাকে পরামর্শ দিন।’
নাম প্রকাশ না করে এক মা যখন এভাবে তাঁর কষ্টের কথা বলছিলেন, তখন অনেক অভিভাবক ও পরামর্শকের কারও কারও চোখ ছলছল করছিল।
প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বিকেলে ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে পরামর্শ-সহায়তার আয়োজন করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক অভিভাবক তাঁদের ছেলে-মেয়ে ও ছোট ভাইয়ের মাদকাসক্ত হয়ে পড়া এবং তাদের করুণ পরিণতির কথা বলে এ থেকে পরিত্রাণের পরামর্শ চান।
এতে পরামর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা মনোচিকিত্সক মোহিত কামাল, ডা. খালেদা আক্তার, ডা. আহমেদ হেলাল, ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল ও ক্রিয়া মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের রিসোর্স কো-অর্ডিনেটর গবেষণা সমন্বয়কারী সুমি কাজী। শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য দেন। সভা পরিচালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান রওশন।
পরামর্শকেরা বলেন, পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার যোগাযোগের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের সঙ্গে আচরণ করতে হবে বন্ধুর মতো। মা-বাবাকে কাউন্সিলিং করতে হবে। পরিবারের ছোট ছোট সমস্যাকে এক টেবিলে বসে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধান খুঁজতে হবে। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সন্তানকে মাদকসেবীর অপবাদ দেওয়া ঠিক হবে না।
অন্য একজন মা বলেন, ‘আমার বাসার যেখানে সেখানে রক্ত এবং ইনজেকশনের সিরিঞ্জ পড়ে থাকে। ছেলে মাঝেমধ্যেই বলে, “মা আমার মাথা ঘুরছে।” আমি জানি, আমার ছেলে মাদক নিচ্ছে, কিন্তু সে স্বীকার করে না। মাদক নেওয়ার কথা বললেই রেগে যায়, ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলে। পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে একবার ইনজেকশন নেয়, আবার বের হয়ে ইনজেকশন নেয়।’ এই প্রশ্নের উত্তরে মোহিত কামাল বলেন, ‘আপনার ছেলে ফাঁদে পড়েছে। আপনাদের উচিত, আদর-মমতা দিয়ে তাকে উদ্ধার করা। বিষয়টি নিয়ে মা-বাবার মধ্যে মনোমালিন্য হলে ছেলে চোরাবালিতে হারিয়ে যাবে।’
ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল বলেন, ‘আপনাদের আরও ধৈর্য ধরতে হবে। কোনো পরিবারে মাদকসেবী থাকলে মাদকাসক্তের যেমন চিকিত্সা প্রয়োজন, ঠিক তেমনি মা-বাবা বা অভিভাবকদেরও কাউন্সিলিং করতে হবে।’ উল্লেখ্য, এটি ছিল প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আন্দোলনের ১৪তম পরামর্শ সভা।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






