পুলিশি তদন্ত দুর্বল পার পেয়ে যাচ্ছে আসামিরা!
পুলিশের পক্ষপাতিত্ব ও দুর্বল তদন্তের কারণে বগুড়ায় এসিড-সন্ত্রাসের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিরা সাজা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গত আট বছরে জেলায় ৭৩টির মধ্যে ২৩টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ২০টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়ে গেছে। আর ১১টি মামলার রায়ে সাজা পেয়েছে সাতজন। বাকি ১৯টি মামলা বিচারাধীন আছে।
এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন অনুমোদিত বেসরকারি সংস্থা লাইট হাউস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আট বছরে বগুড়া জেলায় ১২৫টি এসিড-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে ১৩০ জন নারী, শিশু ও পুরুষ। ৭৩টি ঘটনার মামলা হলেও বাকিগুলোর কোনো মামলা হয়নি। এই মামলাগুলোর মধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন। ২০টি মামলার রায়ে আসামিরা খালাস পেয়েছে। ২৩টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। ১১টি মামলায় সাতজনের সাজা হয়েছে। এতে চারজনের যাবজ্জীবন এবং তিনজনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে।
এসিড-সহিংসতা নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা পেসড। এর নির্বাহী পরিচালক মাহফুজা আরা বলেন, এসিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিচার চাইতে গিয়ে সেভাবে বিচার পাচ্ছে না। পুলিশের কারণেই অনেক মামলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পুলিশকে হাত করে মামলাগুলো শেষ করছে।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার লাঠিগঞ্জ গ্রামের নূরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি খাতুন ও তাঁর মেয়ে মিথিলা পারভীনকে এসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেওয়া হয় গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে। এ ব্যাপারে গাবতলী থানায় মামলা হয়। পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। বিউটি খাতুন অভিযোগ করেন, পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাঁদের পক্ষ নিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আদালতে নারাজি আবেদন করেছেন।
দুপচাঁচিয়া উপজেলার পূর্ব আলোহালি গ্রামের কাবিল উদ্দিন (৫৫) জমি-সংক্রান্ত বিরোধে এসিড-সহিংসতার শিকার হন ২০০৭ সালের ২৭ মার্চ। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাঁর মেয়ে সাবিনা খাতুন মামলা করেন। কাবিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে যেভাবে মামলা করতে চেয়েছেন, সেভাবে মামলা নেয়নি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কারণে তিনি সুষ্ঠু বিচার পাননি।
বগুড়ার আইনজীবী আবদুল মতিন বলেন, পুলিশের দুর্বল তদন্তের কারণে অনেক মামলায় আসামিদের সাজা হয়নি।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখারুল ইসলাম খান বলেন, এসিড-সহিংসতা প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় বগুড়ায় এই অপরাধ কমে এসেছে। দুর্বল অভিযোগপত্রের কারণে অনেক আসামি ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, স্বর্ণের দোকানগুলো থেকে যেন কেউ এসিড কিনতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লাইসেন্স ছাড়া এসিড ব্যবহার বন্ধ করারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






