শ্যামনগরে প্রথম আলোর ত্রাণ
‘তুমরা যহন ছিমাই, চিনি দুধ দিলে ঈদের দিন রাঁধি খাবোনি’
‘তুহানে (আইলা) সব খেয়াছে। ঘুর-বাড়ি সব ভাসে গে। এখনো ভিটের ওপর তাল সুমান পানি। আর কুনো দিন ঘুরে যাতি পারব কি না তা কতি পাতিনে। এ বাঁধির ওপর হত দিন থাকা যায় এভাবি। রাত্রি ঠান্ডা দিনে নোদ। এভাবি কি ছিলেপুলেনে বাঁচি থাকি যায়? তা তুমরা যহন ছিমাই, চিনি, দুধসহ জিনিসপত্র দিলে তালি সকুলে মিলে ঈদের দিন রাঁধি খাবোনি, আনন্দ কুরবানি।’
গতকাল বুধবার প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ত্রাণ পেয়ে এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেন সাতক্ষীরার আইলাদুর্গত শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের হিমেলা খাতুন (৬০)। একই গ্রামের খেদেজান বিবি (৫৫) বলেন, ‘তোমাগের ত্রাণ পাইয়ে ছিলেপুলে নিয়ে একটু ঈদের দিন আনন্দ করতে পাবুনে, খাতি পাবুনে। আগের ঈদে ছিলেপুলেরে নতুন জামা-কাপড় দিতে পারিনি। কোনো ভালো খাবার নান্ধি পারিনি। কুপাল কারে কয়, আমাগো সব ছেল, আইলা আমাগো ফকির কুরে দে।’ একই কথা বলেন গাবুরা গ্রামের জাহানারা খাতুন (৫৫), খোলশেবুনিয়া গ্রামের মোজাহার গাজী (৭০), বাবুরালি গাইন (৬৬) ও আশরাফ হোসেনসহ আরও অনেকে।
গতকাল ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের খোলপেটুয়া, খোলশেবুনিয়া, লক্ষ্মীখালী, মধ্যম খোলশেবুনিয়া, চকবারা, ডুমুরিয়া ও ৯ নম্বর সোরা গ্রামের ২৮০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে সাড়ে সাত কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি লবণ, এক কেজি সেমাই, আধা কেজি চিনি, ৫০ গ্রাম গুঁড়ো দুধ, চারটি খাবার স্যালাইন ও এক লিটার মিনারেল ওয়াটার দেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতা করেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিউল আযম ওরফে লেনিন, ইউপি সদস্য জিএম রফিকুল ইসলাম, দফাদার মুজিবর রহমান, সমাজকর্মী জিএম কামরুল ইসলাম, আমিনুর রহমান, হাসান বাকার, প্রথম আলোর সাতক্ষীরা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ পাত্র, সদস্য সুব্রত কুমার দাস, সুমন সাহা, সঞ্জয় সরকার, অতুল মিত্র, মো. শাহজাহান, দীপায়ন ঘোষ, মো. অহিদজ্জামান, সুমন মণ্ডল, সুব্রত দাস, মকুল দাস, মৃতুঞ্জয় বসাক ও সাতক্ষীরার প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






