শীতার্তদের পাশে প্রথম আলো
‘তুমুরাহ একখান কম্বল দিলেন, আজি ভালো করে নিন্দাম’
‘এইখান জারত হামাক কাহ দেখিবা আসে না বারে, মাটিখানত পোয়াল (খড়) বিছায় থাকেছু, জারের তানে নিন ধরে না, আগত সাহায্য তুলে খাচিনু, এলা আর বেড়াবা পারু না, আজি তুমুরাহ একখান কম্বল দিলেন, আল্লাহ তুমার ভালো করিবে, আজি ভালো করে নিন্দাম।’ প্রথম আলোর দেওয়া কম্বল পেয়ে এভাবে অনুভূতি প্রকাশ করেন পঞ্চগড় পৌর এলাকার রামেরডাঙ্গা বস্তির আমিনা বেওয়া (৮০)। একই বস্তির অশীতিপর দুলাল বলেন, ‘এই ঠান্ডা খানত মোর একখান মোটা কাপড় নাই, কিনিবাও পারু না। আইজ তুমুরাহ দিলেন।’
তীব্র শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার অবলম্বন কম্বল পেয়ে একইভাবে আনন্দ প্রকাশ করেন ওই বস্তির জমিলা, কান্দুরি, বাতাসি, রহিমা, শুকুরী বেওয়াসহ অনেকেই।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় শহরের ডোকরোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে পৌর এলাকার রামেরডাঙ্গা, খালপাড়া, নতুন বস্তি, তুলারডাঙ্গা, তেলীপাড়া, ইসলামবাগ, মসজিদপাড়া, বাগানবাড়ি এলাকার ১৫০ জন দুস্থ নারী-পুরুষের মধ্যে প্রথম আলোর উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়। এর আগে বন্ধুসভার সদস্যরা এলাকা ঘুরে প্রকৃত দুস্থদের তালিকা তৈরি করেন।
কম্বল বিতরণ করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী গিয়াসউদ্দিন। এ সময় স্থানীয় বন্ধুসভার সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম, জীবন, মাহবুব, মাফফুজ, আরমান, জাপান, রকি, মুনমুন ও প্রথম আলোর পঞ্চগড় প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কাজী গিয়াসউদ্দিন বলেন, প্রথম আলোর এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পৌরসভায় অনেক বস্তিবাসী আছে। সরকারিভাবে মাত্র ২৪০টি এবং রেডক্রিসেন্ট কিছু কম্বল বিতরণ করেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। পৌর এলাকায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার কম্বল প্রয়োজন। প্রথম আলোর উদ্যোগে পৌর এলাকার দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ একটি ভালো কাজ হয়েছে।







SULTAN
২০১০.০১.০৬ ১১:২৩Email sazzad_buet@yahoo.com