তিন জেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ
শীতার্তদের পাশে প্রথম আলো ‘এই শীতে কেউ খোঁজ নেয় নাই’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় দুস্থ শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের অধীনে এবং স্থানীয় বন্ধুসভার সহযোগিতায় এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের গয়লা, আমলাপাড়া, কালিবাড়ী, ঘুরকা ও একডালা এলাকার ৪০ জন দুস্থ শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়। গয়লা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কম্বল বিতরণের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন, শিমলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান, গৌরী আরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা, ক্রীড়া সংগঠক আফতাব উদ্দীন, সিরাজগঞ্জ জেলা বন্ধুসভার সভাপতি হেলাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কম্বল পেয়ে গয়লা গ্রামের সাহারা বেওয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘এই শীতে কেউ খোঁজ নেয় নাই। আপনারা এই কম্বল দিল্যান। পোত্তিকার (পত্রিকার) লোকজন কম্বল দেয়, এই পোথথম হুনলাম। আল্লাহ আপনাগো বাঁচাইয়্যা রাহুক।’
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাবুডাইং ও শান্তিপাড়ার ১০০টি পরিবারের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। ওই দিন বিদ্যালয়ের মাঠে সরস্বতী পূজা ও শিশু শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন তাঁরা। সেখানে প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কম্বল পাওয়াটা তাঁদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। কম্বল পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কম্বল পাওয়ার খুশিতে সত্তুরোর্ধ্ব কবিরাজ মাঝি বিদ্যালয়ের শিশুদের সঙ্গে নাচেও অংশ নেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কবিরাজ মাঝি বলেন, ‘এত খুশি হয়্যাছি, মনে হইছে বয়স কমে গেছে।’
বাবুডাইং গ্রামের মাকুয়া কোল ৫০ বলেন, ‘আইজক্যার দিনটা ভালো কইর্যা মনে থাকবে। গাঁয়ের সবাই একসঙ্গে এত খুশি এ্যার আগে হয়নি কখুনো।’
কম্বল বিতরণে সহায়তা করেন আদিবাসী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র, সহকারী শিক্ষক সুদর্শন পাল, বাবুডাইং আদিবাসী গ্রামের মোড়ল সুরেন কোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা নঈমূল বারী প্রমুখ।
নাটোর সদর উপজেলার চকরামপুর মহল্লায় গত বুধবার ১০০ প্রতিবন্ধীর মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। কম্বল পেয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রতিবন্ধী প্রদ্যুত কুমার (১৬) বলে, ‘ঠান্ডায় দুই সপ্তাহ ঘর থ্যাকি বার হতে পারিনি। বাদামও বিক্রি করতে পারিনি। এই কম্বলডা পায়া খুব উপকার হলি। কাল থ্যাকি বাদাম বেচতে যাতে পারব।’ নাটোর জেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা ‘নন্দন’-এর কার্যালয়ে এ কম্বল বিতরণে সহায়তা করেন সংস্থার সভাপতি নূর মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক নাদিরা পারভীন।







kamonashis
২০১০.০১.২৩ ১৮:৪৫