শ্যামনগরে প্রথম আলো দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধন
প্রথম আলোর এ উদ্যোগ ব্যতিক্রমধর্মী। ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানার পর থেকে এ অঞ্চলে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রশংসার দাবি রাখে। সব ভালো কাজের সঙ্গেই যে তারা রয়েছে, তা সুন্দরবন-ঘেঁষা গ্রাম সিংহড়তলীতে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে আবার প্রমাণিত হলো। প্রথম আলো বেঁচে থাকলে এ দেশের পশ্চাত্পদ এলাকা উন্নত হবে। দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় সহযোগিতার হাত বাড়বে অসহায় মানুষের জন্য।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী গ্রামে ‘প্রথম আলো দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে এবং কারিতাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় ৫০ শতাংশ জমির ওপর ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এটি মূলত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে। দুর্যোগের সময় সেখানে প্রায় এক হাজার লোক আশ্রয় নিতে পারবে। তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। এ বছর আগস্টের মাঝামাঝি এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও, শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল বারী, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাববীর আহমদ, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, ব্যাংক কর্মকর্তা সামী হাফিজ, কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিচালক আখিলা ডি রোজারিও, শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পী রানী মৃধা, পরিবেশ স্কুলের সভাপতি ও প্রথম আলো দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমিদাতা আবুল কাসেম এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অসিম কুমার মৃধা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাতক্ষীরায় প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি। পরে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজের ফলক উন্মোচন করা হয়।
আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রথম আলো বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে মানুষকে সচেতন করতে চায়। তারা এসিডদগ্ধদের পাশে দাঁড়ায়, শীতার্তদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে। এ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতা করছে কারিতাস। দক্ষ কারিগর দিয়ে তারা এ ভবনটি নির্মাণ করবে। এ কাজে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ভবনটি নির্মাণের পর এর যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আপনাদেরই। এর সঠিক ব্যবহার হলে প্রথম আলোর উদ্যোগ সফল হবে। আইলার পরদিন থেকে প্রথম আলোর বন্ধুসভার সদস্যরা সাতক্ষীরা, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। তিনি বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমিদাতা আবুল কাসেম জমি দান করে সম্মানিত হয়েছেন। তিনি জমি না দিলে এখানে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা যেত না।
কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও বলেন, ভালো কাজের সঙ্গে, ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করিতাস কাজ করতে ইচ্ছুক। প্রথম আলোর সামাজিক কাজে যুক্ত হতে পেরে ভালোই লাগছে। তাদের লক্ষ্য মানব উন্নয়ন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল বারী বলেন, এ উদ্যোগের জন্য প্রথম আলোকে শ্যামনগরের চার লাখ মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। প্রথম আলো ট্রাস্ট আইলার পর থেকে এ অঞ্চলে কী ধরনের কাজ করছে তা সবার জানা। শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ এ কাজে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
শ্যামনগরের ইউএনও শাববীর আহমদ বলেন, সমাজকে বদলাতে হলে কথা নয় কাজ করতে হবে। আবুল কাসেম জমি দান করে আসল কাজটি করেছেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা সামী হাফিজ বলেন, দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে থাকে তাঁদের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নাম প্রচারে বিশ্বাসী নয়। এ কারণে সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপক সহযোগিতা করেও তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম কোথাও আসেনি।
শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পী রানী মৃধা বলেন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সিংহড়তলী গ্রামের এই স্থান বেছে নেওয়ায় এলাকার মানুষ নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছে।
মুন্সিগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান অসিম কুমার মৃধা বলেন, প্রথম আলো এই অঞ্চলের ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে বারবার ভূমিকা রেখেছে পত্রিকার পাতায়। তাঁদের এই উদ্যোগ এ এলাকার মানুষ মনে রাখবে যুগ যুগ ধরে। কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিচালক আখিলা ডি রোজারিও বলেন, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রটি শতভাগ গুণগত মানসম্পন্নভাবে নির্মাণ করা হবে।
আশ্রয়কেন্দ্রের জমিদাতা আবুল কাসেমের বাড়ির পাশে তাঁর একটি বড় পুকুর রয়েছে। এক সময় গ্রামের প্রায় ৫০০ মানুষ প্রতিদিন এই পুকুরের পানি ব্যবহার করত। আইলার সময় ওই পুকুরে লোনাপানি ঢুকে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ পানি সেচে পুকুরটিকে লোনাপানি মুক্ত করেছে। এখন এর সংস্কারে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন। প্রথম আলো ট্রাস্ট এই সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। গতকাল প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ওই পুকুর পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেন।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






