শীতবস্ত্র পেলেন ৬২৫ জন

‘তোরা বেশি করি কম্বল আনেন’

প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ০৩-০২-২০১০

  • ১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘মাঘের জাড়ে (শীতে) মইষের (মহিষের) শিং নড়ে—তোরা মোক সেই জাড় থাকি বাঁচাইনেন।’ নতুন কম্বল পেয়ে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন শান্তিবালা (৮০)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ও বন্ধুসভার সহযোগিতায় দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তাঁর মতো ১০০ দুস্থের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া সাতক্ষীরার আশাশুনি, নড়াইল সদর, রাজশাহীর বাগমারা ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ৫২৫ জন দুস্থের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরের আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
দিনাজপুর: কাহারোলের সুন্দরপুর ইউনিয়নের গড়নড়পুর যুবসংঘ ক্লাবের কার্যালয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের দুস্থ নারী-পুরুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। কম্বল পেয়ে বাতাসু বর্মণ (৮৫) বলেন, ‘তোমহার দেওয়া কম্বল পাই (পেয়ে) হামার জাড় জুড়াবি, কিন্তুক হামার মতন আরও ঢেইর বুড়া-বুড়ি আছে। ওরা দেখিলে মন খারাপ করিবি। এর পরে তোরা বেশি করি কম্বল আনেন।’
কম্বল বিতরণের সময় শিক্ষক গোপেশ চন্দ্র রায়, যোগেশ চন্দ্র রায়, বোরহান উদ্দিন, ইব্রাহীম খলিল, প্রথম আলো দিনাজপুর বন্ধুসভার এখলাসুর রহমান, আশরাফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা: ‘পথঘাট নি, এদিকে আইতে চায় না কেউ। তুমরা কষ্ট কুরে দূর থ্যাকি এইছো, খোদা তোমাগে মুঙ্গল কুরবে।’ কম্বল পেয়ে বলছিলেন আশাশুনি উপজেলার চাকলা গ্রামের চানমতি খাতুন (৭০)। গতকাল আশাশুনির বন্যতলা, কুড়িকাউনিয়া, প্রতাপনগর, চাকলা, দিকলারআইট গ্রামে এমন ১৭৫ জনকে কম্বল দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অমল কৃষ্ণ মণ্ডল, নূরুল ইসলাম, প্রথম আলো সাতক্ষীরা বন্ধুসভার প্রকাশ পাত্র, অরূপ পাল।
নড়াইল: জেলা পরিষদ ডাকবাংলো চত্বরে গতকাল দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীসহ ১০০ জনের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। নতুন কম্বল পেয়ে প্রতিবন্ধী মোস্তফা বলেন, ‘আমরা জাড়ে (শীত) মরে গিলিও কেউ আমাগে ডায়ে (ডেকে) গরম কাপুড় দেয় না। তুমরা দিলে।’
কম্বল বিতরণের সময় ভাষাসৈনিক রিজিয়া বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাওলাদার রকিবুল বারী, বন্ধুসভার তপতী সেন, আবিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী): ‘মুই যে কয় দিন বাইচ্যা আছি, হেই কয় দিন আমনেগো লাইগ্যা দোয়া কইর্যা যামু’—বন্ধুসভার সদস্যরা কলাপাড়ার কামারপট্টি এলাকার বৃদ্ধ সুলতান হাওলাদারের গায়ে একটি কম্বল জড়িয়ে দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। গত সোমবার রাত নয়টার দিকে উপজেলা সদরের বাদুরতলী, কুইটাল পট্টি, গোডাউন ঘাট, আখড়া কলোনিসহ কয়েকটি এলাকার ৫০ জন দুস্থকে কম্বল দেওয়া হয়।
এ সময় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক এস এম মোশারফ হোসেন, কলেজশিক্ষক আলমগীর হোসেন, প্রথম আলো কলাপাড়া বন্ধুসভার হেমায়েত উদ্দিন, জাফর উল্লাহ প্রমুখ।
বাগমারা (রাজশাহী): বাগমারা উপজেলায় গত সোমবার বিকেলে শীতবস্ত্র দেওয়া হয় ২০০ জনের মধ্যে। এদের ১০০ জনকে কম্বল ও অন্যদের সোয়েটার দেওয়া হয়। শীতবস্ত্র পান দেউলা, মোহনপুর, ভবানীগঞ্জ, দরগামাড়িয়া, বাগমারা, একডালা, মাঝিগ্রাম, শ্রীপুর, বাঙ্গালপাড়া, খাজাপাড়া, বালানগর, গোপালপুর, শ্যামপুর, কর্ণিপাড়া ও মচমইল গ্রামের দুস্থরা। বাগমারা পাইলট বিদ্যালয় মাঠে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম দুস্থদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন। এ সময় প্রথম আলো বাগমারা বন্ধুসভার মেজবাহুল হক, আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
২০১০.০২.০৩ ০৬:৪০
I would like to thank for the team. It is really a good job.