আবার স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছেন রওশন আরা
‘আমি নিজে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। ছেলেও দশম শ্রেণীতে পড়ে। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। প্রথম আলো মাথাগোঁজার জন্য এক খণ্ড জমি কিনে দিয়ে সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে। আবার আমার মনে সাহস জেগেছে।’ এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল থেকে জমির দলিল পেয়ে এভাবেই নিজের স্বপ্নপূরণের কথা জানালেন এসিডদগ্ধ রওশন আরা।
এই তহবিল থেকে ২০০৮ সালে ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তাঁকে ছয় শতক জমি কিনে দেওয়া হয়। সেই থেকে রওশন আরা জমিটি ভোগ করে আসছিলেন। ওই জমির দলিল হস্তান্তর উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ কাটলা গ্রামে রওশন আরার বাড়িতে সহায়ক তহবিলের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় পুনর্বাসন ও সচেতনতামূলক সভা।
সভায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান দলিলটি রওশন আরার হাতে তুলে দেন। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো সহায়ক তহবিলের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল। আরও উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন, ট্রান্সকম ডিস্ট্রিবিউশনের দিনাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ্-আল-মামুন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, রওশন আরার বাবা মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন মণ্ডল প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ্ সরকার।
২০০২ সালের ১৯ জুন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় রওশন আরা এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হন। এতে তাঁর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্বামী সাইদুল ইসলাম রওশন আরাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিলের পক্ষ থেকে রওশন আরার মতো আরও ২৩০ জন নারীকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






