বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্ট
বিশ্বকাপ আর গানের সুরে মাদককে ‘না’
সবার মুখে বিশ্বকাপ ফুটবল। কি দর্শক, কি অতিথি! দর্শকেরা তো রীতিমতো প্রিয় দলের জার্সি পরে পানিতে হইহুল্লোড় করছেন। হঠাৎ কথাশিল্পী আনিসুল হক, অভিনেতা জাহিদ হাসান, শিল্পী মেহরীন, কবির বকুলকে দেখে সবাই ছুটলেন। কেউ ছুঁয়ে দেখেন, কেউ বা ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন ভেতরের এই মানুষগুলোকে ঘিরে। এভাবে প্রিয় মুখের সঙ্গে কখনো গানে গানে, কখনো কথামালায়, কখনো বা হাত তুলে মাদককে ‘না’ বললেন ফয়’স লেক ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের দর্শকেরা।
গতকাল শনিবার বিকেলে প্রথম আলোর আয়োজনে বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্ট হয়। এতে সহযোগিতা করেন বাংলালিংক, কনকর্ড, চ্যানেল আই ও প্রথম আলো চট্টগ্রামের বন্ু্লসভার সদস্যরা।
প্রিয় মুখের কথা ও গান শুনতে দুপুরের পর থেকেই কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে ভিড় করতে থাকেন দর্শকেরা। শেষ বিকেলে যখন উপস্থাপক আব্দুন নূর মাইকে ফুঁ দিলেন, তখন তাঁরা মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।
তাঁদের মন মাতাতে প্রথমেই মঞ্চে আসেন দুরবিনের শিল্পীরা। তাঁরা একে একে ওড়াই চলো স্বপ্ন ডানা, ভালোবাসি বড় ভালোবাসি, সোনা বউ শুনছনি, স্বপ্নের জানালা খুলে হারিয়ে যাই ইত্যাদি গান পরিবেশন করেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে কথামালা। আনিসুল হক উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশকে ভালোবাসুন, মাদককে “না” বলুন। নিজেকে গড়ে তুলতে মাদক পরিহার করতে হবে।’
অভিনেত্রী অপি করিম মঞ্চে এসেই জানিয়ে দিলেন তিনি ব্রাজিলের সমর্থক। তিনি বলেন, ‘প্রিয় দল যত গোল খাক, হেরে যাক, মাদক নেওয়া চলবে না।’ জাহিদ হাসান আবার আর্জেন্টিনার সমর্থক। কিন্তু তাঁর কথায়ও একই সুর, ‘সুস্থ থাকতে হলে মাদক বর্জন করতে হবে।’ একবার সিগারেটের বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি।
শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু, আসিফ, মেহরীন, মডেল মীম সবাই একসঙ্গে হাতে হাত তুলে মাদকের প্রতি ঘৃণা উচ্চারণ করেন। তাঁদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকেরাও। বদলে যাওয়ার শপথ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, কনকর্ডের মহাব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, দেশের ৫০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী মাদক নেয়। তরুণসমাজকে এ পথ ছাড়তে হবে। এর মধ্যে গান নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পী আসিফ। তিনি গাইলেন ‘বদলে যাও বদলে দাও’, ‘সাবাস বাংলাদেশ’ গানগুলো। আর মেহরীন গাইলেন ‘ঢোল বাজে’, ‘আনাড়ি’ ও ‘রাজকুমার’।
আর গোধূলিলগ্নে মঞ্চ মাতালেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর গিটার ও কণ্ঠের জাদুতে মোহিত দর্শকেরা। পানির ঢেউয়ের তালে তালে তাঁরা নাচলেন। প্রথমেই আইয়ুব বাচ্চু গাইলেন ‘আড্ডা’ গানটি। শেষ করলেন ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’ গানটি দিয়ে। তবে শেষটি যত না তিনি গাইলেন, তার চেয়ে বেশি গাইলেন দর্শকেরা। বাচ্চুর এমন কম গানে কি আর তৃষ্ণা মেটে! কিন্তু কী করা, বাড়ি ফিরতে হবে যে। তাড়া যেমন আইয়ুব বাচ্চুর, তেমনি দর্শকদেরও। তাই সুরের আবেশ নিয়ে আর্জেন্টিনা-জার্মানি দ্বৈরথ দেখতে সবাই পা বাড়ালেন বাড়ির পথে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






