নতুন করে শুরুর ইচ্ছা এসিডদগ্ধ আর্জিনার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি | তারিখ: ০৬-০৮-২০১০

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘হেরা আমারে এসিড মাইরা গতর-মুখ পুইড়া দিছিল। এখন প্রথম আলো আমারে বাঁইচা থাহোনের সাহায্য হরছে। বন্ধুকির জমির ফসল বেইচা ছেলেমেয়েগোর লেহাপড়া হিকামু।’ এক বিঘা জমির বন্ধকী দলিল হাতে পেয়ে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করার ইচ্ছার কথা জানালেন এসিডদগ্ধ গৃহবধূ আর্জিনা খাতুন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় বগুড়ার ধুনট উপজেলার শ্যামগাতি গ্রামে এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল থেকে তাঁকে পুনর্বাসন করা হয়।
শ্যামগাতি গ্রামের জমি বন্ধকদাতা আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলার পিরহাটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। তিনি সব ভালো কাজে প্রথম আলোর পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এসিডদগ্ধ আর্জিনা তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘যারা আমাকে এত বড় শাস্তি দিল, আইন তাগোরে কিছুই হরতে পারে নাই। আমি একদিন তাগোরে উচিৎ শিক্ষা দিতে চাই।’
সহায়ক তহবিলের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল জানান, সহায়ক তহবিলের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ২৩০ জন এসিডদগ্ধ নারীকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। সভায় আরও বক্তব্য দেন ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস ছালাম, সাংবাদিক রফিকুল আলম, আমিনুল ইসলাম, স্কুলশিক্ষক ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।
মামলা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার হিজুলি গ্রামের ভ্যানচালক মাহাতাব আলীর স্ত্রী আরজিনা খাতুনকে (২৬) গত ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর গভীর রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে এবং তাঁর মুখ, শরীর ও গলায় এসিড ঢেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আর্জিনার স্বামী বাদী হয়ে আবু বকর, তাঁর ছেলে রঞ্জু মিয়া ও আবদুল গফুরসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শেরপুর থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে জীবিকার সন্ধানে আর্জিনা গ্রাম ছেড়ে ঢাকার পথে পাড়ি জমান।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন