শিরোনাম:

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগ

‘আনন্দ লাগতাছে, প্রতিদিন স্কুলে যামু’

জামালপুর প্রতিনিধি | তারিখ: ১০-০৮-২০১০

  • ১০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

নৌকা পাওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সাঁতার কেটে স্কুলে যাওয়ার দৃশ্য। গত ১২ জুলাই প্রথম আলোয় প্রকাশিত ছবি (বাঁয়ে) প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে নৌকা পেয়ে উল্লসিত ইসলামপুরের কাচীহারা আলাই পূর্বপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা

ছবি: প্রথম আলো

‘নৌকা পাইয়া আমাদের মনে খুব আনন্দ লাগতাছে। স্কুলে আসতে আর পাতিল দিয়া সাঁতার পারন লাগব না। কাপড়চোপড় ভিজব না। আমরা আর স্কুল কামাই দিমু না। প্রতিদিন স্কুলে যামু।’ প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে দেওয়া দুটি নৌকা পেয়ে কাচীহারা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী জবা আক্তার এভাবেই তার অনুভূতি জানিয়েছে।
বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় আলাই পূর্বপাড়া গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এ নিয়ে গত ১২ জুলাই প্রথম আলোয় ‘আলোর পথে পাতিল সাঁতার’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। ওই প্রতিবেদনটি সবার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো কাজ হয়নি। সমস্যা সমস্যাই রয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রথম আলো গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে তাদের পাশে দাঁড়াল।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কাচীহারা আলাই পূর্বপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য গতকাল সোমবার নৌকা দুটি দেওয়া হয়। এ নিয়ে আলাই পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ফিরে এসেছে। সবচেয়ে বেশি উৎফুল্ল শিক্ষার্থীরা। আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা বিতরণের আগেই শিশু শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে আলাইবিলের হাজি জমশের আলীর বাড়ির সামনে থেকে নৌকা দুটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। শিশুরাই শুরু করে দেয় পূর্বপাড়ার শিক্ষার্থীদের পশ্চিমপারে পারাপার। একে একে সবাই চলে আসে ওপার থেকে এপারে। শুধু শিক্ষার্থীই নয়, শত শত উৎসুক মানুষ স্থানীয় হাজি জমশের আলীর বাড়ির সামনে নৌকা বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। গ্রামবাসী ভাঙা বাঁশের সাঁকোটি মেরামত এবং স্থায়ীভাবে সেখানে একটি পাকা সেতু স্থাপনের দাবি জানায়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কবীর আল আছাদ বলেন, ‘গ্রামে অনেক সমস্যা থাকে। চোখের সামনে সেসব সমস্যা দেখলেও নিজেরা সমাধানের দায়িত্ব মনে করি না। কাচীহারা গ্রামের মানুষের এত দুর্ভোগ, কেউ এ গ্রামে না এলে বুঝতেই পারবে না। প্রথম আলো এই গ্রামের সমস্যার খোঁজ করে আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। প্রথম আলোর এই সহায়তা ছোট হলেও আজকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, শহরের ছেলেমেয়েরা এসি রুমে থাকে। কম্পিউটার ব্যবহার করে। তাদের পড়ালেখা করতে কোনো কষ্ট হয় না। কিন্তু আলাই পূর্বপাড়া গ্রামের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মনে প্রবল ইচ্ছা থাকলেও বিল পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় তারা পড়ালেখার সুযোগ থেকেই বাদ পড়ছিল। প্রথম আলোর দেওয়া নৌকা দুটি নিশ্চয়ই তাদের আবার বিদ্যালয়মুখী করে তুলবে।
কবীর আল আছাদ বলেন, আলাই পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য সরকারিভাবেও জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে ভাঙা বাঁশের সাঁকোটি মেরামতের জন্য। পানি কমলেই সাঁকোর স্থানে পারাপারের জন্য একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে। তখন আর সমস্যা থাকবে না।
কাচীহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘১৩ বছর ধরে আমি এই স্কুলে আছি। এলাকাটা হাওর এলাকার মতো। বর্ষাকালে আমরাই ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসতে মানা করতাম। নৌকা পেয়ে তাদের আর সে সমস্যা থাকল না। প্রথম আলোয় প্রকাশিত “পাতিল সাঁতার” সংবাদটি অবহেলিত এই গ্রামকে সবার নজরে এনেছে। আমরা মনে করি, এই গ্রামে সরকারি উন্নয়নও আসবে।’
হাজি জমশের আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নৌকা বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা পারভিন, উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, অভিভাবক লুৎফর রহমান আকন্দ, অভিভাবক মনিরুজ্জামান মনু শেখ, প্রথম আলোর জামালপুর প্রতিনিধি মোস্তফা মনজু, প্রথম আলো জামালপুর বন্ধুসভার সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম ও কাচীহারা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র শাহীন মণ্ডল।
প্রথম আলো ট্রাস্ট থেকে নৌকা বানানোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪১ হাজার টাকা। এই টাকায় ১৮ হাত দীর্ঘ দুটি নৌকা বানানো হয়। অনুষ্ঠানে নৌকা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য স্থানীয় অভিভাবকদের সমন্বয়ে কাচীহারা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আবদুল হান্নানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের এবং কাচীহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দবির উদ্দিন আহমেদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের দুটি কমিটি করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিরা এ দুই কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা দুটি হস্তান্তর করেন। নৌকা দুটি শুধু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহূত হবে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরুরি রোগী পারাপার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে। নৌকা দুটি ভাড়ায় যাত্রী পারাপারের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Anis

Anis

২০১০.০৮.১০ ০৩:০০
Very nice ! Please do more...

Mohd.Fazal Uddin Khan

Mohd.Fazal Uddin Khan

২০১০.০৮.১০ ০৫:১৫
পথম আলোকে অনেক ধন্যবাদ , আগামিতে আর ও এ ধরনের কাজ দেখবো।

A.W.Haq

A.W.Haq

২০১০.০৮.১০ ১০:৫৫
Thank you Prothom-alo .

২০১০.০৮.১০ ১১:০০
আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা বিতরণের আগেই শিশু শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে আলাইবিলের হাজি জমশের আলীর বাড়ির সামনে থেকে নৌকা দুটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।. শুধু মাত্র এই লাইনটির মাধ্যমেই বুঝা যায় কতটা খুশি হয়েছে ঐ শিক্ষার্থীরা। প্রথম আলো সব সময় সামাজিক দ্বায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধরা কী করছেন। ভাবি এই মনে।

No More Comment

No More Comment

২০১০.০৮.১০ ১১:১৭
আনন্দ আনন্দ

MD. Gias Uddin

MD. Gias Uddin

২০১০.০৮.১০ ১১:২২
শেষ পর্যন্ত প্রথম আলো ট্রাষ্ট থেকে টাকা দিতে হল ? কোন সরকারি মন্ত্রনালয়ের নজরে এটা আসেনি ? ঐ এলাকায় কি কোন ধনি লোক নেই যারা এই অনুদানটা দিতে পারত ? বড়ই লজ্জার বিষয় আমাদের রাজনৈতিক ও সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য । ধন্য হউক প্রথম আলো ।

Arif Ahmed Ullah

Arif Ahmed Ullah

২০১০.০৮.১০ ১২:৩৫
Very Nice ,really islampur will be gled to prothom-alo

Nasir Uddin (Al Ain,UAE)

Nasir Uddin (Al Ain,UAE)

২০১০.০৮.১০ ১২:৫৪
From Prothom Alo trust they got two boats.what they got from Goverment?????????

Zahidul Islam

Zahidul Islam

২০১০.০৮.১০ ১৩:৫৪
খুবি ভাল লাগল খবর টা পড়ে। আনন্দে মন টা ভরে গেল। ধন্যবাদ প্রথম আলো।

Abu Taiab Mahmudur Rahman

Abu Taiab Mahmudur Rahman

২০১০.০৮.১০ ১৯:১১
বাংলাদেশে কি ধনাঢ‍্য লোকের এতোই অভাব যে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার জন‍্য একটা বঁাশের সঁাকো নির্মান করে দেওয়ার মতো লোক নাই??!! অাক্ষেপ হয়! কতো টাকা কতো মানুষ কতোদিকে নষ্ট করছে, সরকার কতো সহস্র-কোটি টাকা অপচয় করছে - অার এই বাচ্চারা সঁাতরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে - খুবই অমানবিক!!