গাইবান্ধায় রিকশা পেলেন এসিডদগ্ধ মনজু রানী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি | তারিখ: ২৯-০৮-২০১০

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘এসিডের অসহ্য যন্ত্রণার বর্ণনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। এসিড-সন্ত্রাসীদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে, যাতে আর কেউ এই জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। ভাড়ার আয় দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াব, ছেলেকে পড়ালেখা শেখাব।’
গতকাল শনিবার এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল থেকে একটি রিকশা পেয়ে এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনজু রানী। পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মনজু রানীর কাছে রিকশা হস্তান্তর করা হয়। তাঁর হাতে রিকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদ চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফেরদৌস।
পরে পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সমাজসেবক নুরুজ্জামান প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদ চৌধুরী, ইউএনও এস এম ফেরদৌস, পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম আহসান হাবীব, প্রথম আলো এসিড-সহায়ক তহবিলের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল, পলাশবাড়ী পল্লী অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুরুজ হক, পলাশবাড়ী মহিলা কলেজের অধ্যাপক শামিকুল ইসলাম, আইনজীবী আনিস মোস্তফা প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রথম আলোর গাইবান্ধা প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন।
উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, প্রথম আলো সচেতনতা সৃষ্টির কথাগুলো ভালোভাবে তুলে ধরে। তাই পত্রিকাটি পড়তে ভালো লাগে। এসিডদগ্ধদের সহায়তা কর্মসূচি আরও ভালো লাগল। আমার উপজেলায় তিনজন এসিডদগ্ধ নারীকে পুনর্বাসিত করায় আমি প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই।
ইউএনও বলেন, প্রথম আলো যেভাবে এসিডদগ্ধ নারীদের সহায়তা করছে তা প্রশংসার দাবিদার। প্রথম আলোর মতো অন্যান্য সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে দেশে একদিন এসিড-সন্ত্রাস থাকবে না।
পলাশবাড়ী থানার ওসি বলেন, এসিড নিক্ষেপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। এসিড নিক্ষেপের মামলাগুলো অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
আনিস মোস্তফা বলেন, বর্তমানে জেলায় ১১টি এসিড-সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে সম্প্রতি তিনটি মামলার আসামিরা বাদীকে চাপ দিয়ে আপস করতে বাধ্য করেন। ফেরদৌস ফয়সাল জানান, প্রথম আলো সহায়ক তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ২৩২ জন নারীকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।
মনজু রানীর স্বামী শাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এক বিঘার বসতভিটা বিক্রি করে মামলা চালিয়েছি। এখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। ভাড়ায় ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তার প্রায় অর্ধেক মালিককে দিতে হয়। রিকশা পেয়ে অত্যন্ত উপকৃত হলাম।’
পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের কাকুলি গ্রামের মনজু রানী ২০০৪ সালের ১৭ নভেম্বর গভীর রাতে এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হন। পরের দিন মনজু রানী বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন