শিরোনাম:

বন্ধকি জমির দলিল পেয়ে এসিডদগ্ধ ডলি

‘আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই’

ময়মনসিংহ অফিস | তারিখ: ০৮-০১-২০১১

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘প্রথম আলো যখনই জমি বন্ধক নিয়ে দিল তখনই সিদ্ধান্ত নিই, যে করেই হোক নিজের পায়ে দাঁড়াব। সেই জমি বর্গা দিয়ে এবার ছয় মণ ধান পেয়েছি। এই ধান বিক্রি করে এখন সেলাইয়ের কাজ করতে চাই, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’
কথাগুলো ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দুগাছিয়া গ্রামের এসিডদগ্ধ ডলি আক্তারের। স্বামীর ছোড়া এসিডে যাঁর শরীর ঝলসে গেছে। চিরতরে হারিয়েছেন একটি চোখ। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ডলিকে ৩৪ শতক জমির বন্ধকীর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার এই জমির দলিল তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জমির দলিল হাতে পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ডলি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে, সবার সহযোগিতায় এখন আর অন্যের বোঝা হয়ে থাকতে হবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আসামি মনির উদ্দিন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আমি চাই, আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ডলির হাতে বন্ধকি জমির দলিল তুলে দেন গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, কারিগরি শিক্ষা কল্যাণ সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম, গফরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ যোয়াহেরুল ইসলাম মোল্লা, গফরগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুযাত আলী ও রাশেদুজ্জামান, প্রথম আলো ট্রাস্টের এসিড সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল, প্রথম আলোর ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি মো. কামরুজ্জামানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধি। এ ছাড়া ছিলেন ময়মনসিংহ বন্ধুসভার সদস্যরা।
২০০৫ সালের ১২ এপ্রিল উপজেলার উত্তর লামকাইন গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মনির উদ্দিনের সঙ্গে ডলি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মনির বিদেশ গিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন। ২০০৭ সালে আবার বিদেশ যেতে মনির দেড় লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু যৌতুন দিতে না পারায় তিনি ২০০৮ সালের ২২ জুন ডলিকে তালাক দেন। তালাক দেওয়ার ১১ দিন পর তিনি ডলিকে এসিড দিয়ে ঝলসে দেন। এ ঘটনায় একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এসিড-সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে জেলা দায়রা জজ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ফজলুল হকের সভাপতিত্বে দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা বলেন, ‘সারা দেশে এমন অসংখ্য ডলি রয়েছে। আমরা চাই, ডলি যেন নিজেকে আড়াল করে না রাখেন। আর দশজনের মতোই তিনি যেন সমাজে চলতে পারেন।’
গফরগাঁও থানার এসআই সুযাত আলী ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আমরা ওয়াদা করছি, যত দ্রুত সম্ভব আসামি মনির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
সভায় ইউএনও আবু নূর মো. শামসুজ্জামান ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডলির হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন। একই সঙ্গে তিনি ডলির বাড়ির কাছের খাস জমি থেকে কিছু অংশ তাঁর নামে বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডলিকে একটি সেলাই মেশিন ও সমবায় কর্মকর্তা সেলাইয়ের কাপড় কিনতে সুদমুক্ত ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০১০ সালের ২ জুলাই ডলিকে ৩৪ শতক জমির বন্ধকির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। একই বছরের ৪ জুলাই ‘ন্যায়বিচার চান এসিডদগ্ধ ডলি’ শিরোনামে প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন