বখাটেদের ফাঁসি চায় এসিডদগ্ধ শিউলি
এসিডদগ্ধ শিউলি আকতারের হাতে প্রথম আলো ট্রাস্টের নগদ টাকা তুলে দিচ্ছেন দৌলতপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ মুস্তাফা কামাল
প্রথম আলো
‘টাকা পেয়ে আমি খুবই খুশি। এখন আর পিরাইভেট পড়া বন্ধ হুবি না। আমি আরও পড়তে পারব।’ এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে এভাবেই মনের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এসিডদগ্ধ শিউলি আকতার। শিউলি আরও বলে, ‘আমাকে যারা এসিড মেরিছে, তাদের যেন ফাঁসি হয়।’
গত রোববার দুপুরে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে শিক্ষা বৃত্তি হিসেবে শিউলির হাতে এককালীন পাঁচ হাজার টাকা ও মাসিক কিস্তির এক হাজার টাকা তুলে দেন দৌলতপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হেনা মোহাম্মদ মুস্তাফা কামাল। শিউলি যত দিন পড়ালেখা করবে, তত দিন প্রতি মাসে এক হাজার টাকা স্থানীয় একটি ব্যাংকে তাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শিউলির ওপর এসিড নিক্ষেপ করে এলাকার কিছু বখাটে যুবক। এসিডদগ্ধ হয়ে প্রায় এক মাস ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিল সে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়, যা এখনো বিচারাধীন। শিউলি রিফায়েতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। সে পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তিও পেয়েছিল।
অর্থ হস্তান্তর উপলক্ষে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কায় খসরু, রিফায়েতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেজাম্মেল হক, প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়কারী (এসিড) ফেরদৌস ফয়সাল, প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান, এটিএন বাংলার দৌলতপুর প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া বন্ধুসভার সভাপতি মরুিজ্জামান প্রমুখ।
ইউএনও বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি দৌলতপুরে কর্মরত। শিউলির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। মেয়েটিকে সহায়তা করে প্রথম আলো খুবই ভালো কাজ করেছে। তিনি বলেন, এখন থেকে তিনি শিউলির জন্য যেকোনো সহায়তা করবেন। শিউলির আইনি সাহায্যের জন্যও তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়কারী (এসিড) ফেরদৌস ফয়সাল বলেন, প্রথম আলোর এ কার্যক্রম সারা দেশে চলছে। যারা এসিড সন্ত্রাসের মতো জঘন্য কাজ করে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক এবং এসিডের বিরুদ্ধে এলাকায় জনসচেতনতা গড়ে তোলা হোক।
শিউলির বাবা আবু তালেব মালিথা বলেন, তিনি খুবই গরিব। মেয়ের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে পারেন না। মাস শেষে এখন আর টাকার জন্য চিন্তা করতে হবে না।







Mizanur Rahman
২০১১.০২.১০ ১০:৫৪Mohammad Jahid Hasan
২০১১.০২.১০ ১৫:২০