এসিডদগ্ধ মরিয়ম পেলেন ৮০ শতক জমি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ গ্রামের এসিডদগ্ধ বিবি মরিয়মের হাতে ৮০ শতাংশ বন্ধকি জমির দলিল তুলে দেন উপজেলা ভূমি কমিশনার মো. নূরুল হাফিজ। এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল থেকে ওই জমি বন্ধকি নেওয়া হয়
প্রথম আলো
‘এসিডে পুইর্যা (দগ্ধ) যাওনের পর ওর বাহে (স্বামী) ক্যামন ব্যবলা (ভারসাম্যহীন) দিয়া গেছে। কামকাজ কিছু করত পারে না। সংসার চলে না। পরথোম আলো (প্রথম আলো) যে বন্ধকি জমি দিছে, হে জমিতে জালা (ধানের বীজতলা) লাগাইছি। এই জমিত তিনবার ধান অয়, আল্লায় চাইলে এই জমির ধান দিয়া আমি আমগো ভাইগ্য ফিরামু।’
এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল থেকে ৮০ শতক বন্ধকি জমির দলিল গতকাল সোমবার হাতে পেয়ে এসব কথা বলেন এসিডদগ্ধ বিবি মরিয়ম (৩৬)। তাঁর বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের শশীভূষণ গ্রামে।
গতকাল দুপুর ১২টায় শশীভূষণ গ্রামে বন্ধকি জমিতে এ দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শশীভূষণ বাজার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাহের মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরুল হাফিজ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রথম আলো সহায়ক তহবিলের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল, শশীভূষণ পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. শাহজালাল, রেজাউল করীম, আলাউদ্দিন মৃধা, এসিডদগ্ধ আবুল হাসেম, বিবি মরিয়ম, বিবি রাবেয়া, প্রথম আলোর ভোলা প্রতিনিধি নেয়ামতউল্যাহ, চরফ্যাশন প্রতিনিধি মো. ইয়াসিন প্রমুখ।
শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরুল হাফিজ বিবি মরিয়মের হাতে জমির বন্ধকি দলিল হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো বরাবরই জনগুরুত্বপূর্ণ ভালো কাজ করে আসছে। সমাজের অবহেলিত অংশকে নিয়ে তারা অনেক আগে থেকে কাজ করছে।’ এ সময় তিনি বিবি মরিয়মকে খাসজমির একটি কার্ড দেওয়ারও আশ্বাস দেন।
জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ২০০৮ সালের ৫ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বিবি মরিয়মের পরিবারের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। এতে বিবি মরিয়ম, তাঁর স্বামী আবুল হাসেম, ভাতিজি নূপুর, মেয়ে রাবেয়া ও রাজিয়া এসিডদগ্ধ হয়।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






