প্রথম আলোর মাদকবিরোধী সভায় বিশেষজ্ঞরা
মাদকের ফাঁদ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব
রাজধানীর ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে গতকাল প্রথম আলোর মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রথম আলো
‘আমার মেয়ে নগরীর একটি নামকরা স্কুল থেকে নেশা করা শিখেছে। মেয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। এক বছর ধরে পড়াশোনা বন্ধ। সে এখন ভালো হতে চায়।’
এই বক্তব্য একজন মায়ের। তিনি গতকাল সোমবার রাজধানীর ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানে এসে মেয়েকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করার জন্য কোথায় যাবেন, কী করবেন, তা জানতে চান।
একই অনুষ্ঠানে মেয়েটি বলল, ‘স্কুলের ভেতরে বসেই বন্ধুদের মাধ্যমে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেশাসামগ্রী হাতে পেতাম। তারপর স্কুলের বাথরুমে বসে বন্ধুরা মিলে নেশা করতাম।’
এই মা-মেয়ের মতো মাদকবিরোধী এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন এমন আরও অনেক ভুক্তভোগী।
এ ধরনের ভুক্তভোগীদের মনে একটু সাহস জোগানো, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ শোনানোর জন্য ‘আসুন মাদকমুক্ত থাকি, পরামর্শ সহায়তা-২১’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান।
মাদকবিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা মনোরোগ-চিকিত্সক মোহিত কামাল বলেন, মাদক বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকাসক্তের কারণে সমাজে নারী নির্যাতন, বিবাহ বিচ্ছেদসহ বিভিন্ন ঘটনা বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘মাদক নিলেই সেই সন্তানটি নষ্ট হয়ে যায়নি। সে একটি ফাঁদে পড়েছিল। তাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে মাদকাসক্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ক্রিয়া’র পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিত্সক অভ্র দাশ ভৌমিক ও নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে এক মা বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে ছেলের ভয়ে জান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাড়িতে ঢুকতে পারছি না। খাট থেকে শুরু করে ঘরের অনেক জিনিস বিক্রি করে দিয়েছে ছেলে। নিজের হাত-পা নিজেই কেটে ফেলেছে। তবে সে ভালো হতে চায়।’
মোহিত কামাল বলেন, ছেলে ভালো হতে চাইছে, তা একটি ভালো দিক। এই ছেলেকে চিকিত্সার আওতায় আনা সহজ। তবে মাদকাসক্তদের অভিভাবকদেরও চিকিত্সা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আসতে হবে। সন্তানের সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি চিকিত্সা দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বললেন, একবার মাদকাসক্তি থেকে ফিরে এলেই সে পুরোপুরি ভালো হয়ে গেছে, তা ভাবলে হবে না। বিভিন্ন কারণে আবার নেশার জগতে ফিরে যেতে পারে। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
একটি নামকরা স্কুলের শিক্ষক ও ২৯ বছর বয়সী এক তরুণী মাদকাসক্ত। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এক বাবা বলেন, ‘এই মেয়েকে নিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। মাদকের কারণে মেয়েরও বিয়ে ভেঙেছে দুবার।’
মোহিত কামাল বলেন, সন্তানকে মাদক থেকে মুক্ত রাখার জন্য পারিবারিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলেও সন্তানের স্বার্থেই সেই অভিভাবকদের একসঙ্গে হয়ে সন্তানের চিকিত্সা করানো প্রয়োজন।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






