বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্ট

বাদলমুখর দিনে মাদককে ‘না’

মাহফুজ রহমান | তারিখ: ২৩-০৬-২০১২

  • ৭ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্টে মাদককে ‘না’ বলার আহ্বান জানান শিল্পীরা। গতকাল ফ্যান্ট

বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্টে মাদককে ‘না’ বলার আহ্বান জানান শিল্পীরা। গতকাল ফ্যান্টাসি কিংডমে এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়

ছবি: প্রথম আলো

আকাশে বর্ষা-মেঘের ঘনঘটা। তবু কমতি ছিল না দর্শকের উৎসাহ-উদ্দীপনার। দর্শকের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। তাঁদের দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ—মাদককে ‘না’।
গতকাল শুক্রবার ঢাকার অদূরে ফ্যান্টাসি কিংডমে হয়ে গেল প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত ‘বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্ট ২০১২’। সহযোগিতায় ছিল কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড ও প্রথম আলো বন্ধুসভা। প্রথম আলোর মাদকবিরোধী এই আয়োজনে মাদকের বিরুদ্ধে একাত্ম ঘোষণা করে শামিল হয়েছিলেন দেশসেরা সংগীতশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, লেখক, চিকিৎসকসহ অনেক জনপ্রিয় মুখ। জনপ্রিয় এসব মানুষের সঙ্গে কনসার্টে আসা দর্শক জানিয়ে দিলেন, প্রথম আলোর এই মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গেই আছেন তাঁরা। শপথ নিলেন, ‘আমরা মাদক নেব না, বন্ধু-স্বজনদেরও নিতে দেব না।’
অনুষ্ঠান যখন মাঝামাঝি অবস্থায়, সঞ্চালক প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুন নূর তুষার তখন আবহাওয়া বিশ্লেষকের ভূমিকায়, ‘মৌসুমি বাতাস বইছে, এখনই হয়তো হঠাৎ বৃষ্টি নামবে! বৃষ্টি নামুক আর না-ই নামুক, আপনাদের সামনে আসছেন মৌসুমী ও ফেরদৌস!’ কথা শেষ, মঞ্চে দুই তারকার আগমন। প্রকৃতির কী খেয়াল, সত্যি সত্যিই বৃষ্টি নামল! মঞ্চে ততক্ষণে ‘তোমার সঙ্গে’ গানটির তালে তালে নাচছেন মৌসুমী-ফেরদৌস। তারুণ্যের প্রমাণ মিলল আবারও, গানের তালে তালে সবাই নাচলেন বৃষ্টি উপেক্ষা করে। কেউ কেউ মাথার ছাতা বানিয়ে ফেললেন প্লাস্টিকের চেয়ারগুলোকে!
অনুষ্ঠানের শুরু বেলা তিনটায়। প্রথমেই মঞ্চে এসে পর পর পাঁচটি গান শোনান ক্লোজআপ তারকা কিশোর। মাহমুদুজ্জামান বাবু আসেন তাঁর ব্যান্ড মৃত্তিকা নিয়ে। গানের ফাঁকে ফাঁকে বলেন দেশ ও মাদকের ব্যাপারে সচেতনতার কথা। পড়শীর গান শুরু হতে হতে দর্শক-শ্রোতায় তখন ভরপুর পুরো চত্বর। গান শেষে অনুষ্ঠানের আরেক সঞ্চালক শারমিন লাকির ডাকে মঞ্চে আসেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম। মাদকের বিরুদ্ধে প্রথম আলোর উদ্যোগ সম্পর্কে বললেন তিনি, ‘মাদককে আমরা ঘৃণা করি। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণদের মধ্যে যে মানবসত্তা আছে, তা উজ্জীবিত করতে হবে। এবং এর জন্য প্রয়োজন মাদককে “না” বলা। কারণ, এই মাদকই একজন তরুণকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রথম আলো আপনাদের পাশে আছে, আসুন আমরা মাদককে “না” বলি।’
প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা ও মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল ব্যাখ্যা করলেন, তরুণেরা কেন মাদক নেয়; সঙ্গে এ-ও জানিয়ে দিলেন, কী করে দূরে থাকা যায় মাদকের ছোবল থেকে, ‘যারা মাদক নেয়, তারা জগতের কোনো আনন্দ উপভোগ করতে পারে না। তাই আমরা মাদক নেব না, আনন্দ উপভোগ করব প্রাণভরে।’
প্রথম আলোর উপসম্পাদক আনিসুল হক শোনালেন এক মায়ের গল্প, যে মা নিজের সন্তানকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়েছিলেন দেশ স্বাধীন করার জন্য। বললেন, ‘আমাদের এই মায়েরা তাঁদের সন্তানদের উৎসর্গ করেছিলেন একটি সুন্দর দেশের জন্য। এখন আমাদের দেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। আমরা এমন দেশ চাইনি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মায়েরাও তা চাননি। তাই মাদককে “না” বলতে হবে। “না” বলাটাই এখন আধুনিকতা।’
দর্শক-শ্রোতাদের নিয়ে সেটাই করলেন সব তারকা। মঞ্চে এলেন আব্দুল কাইয়ুম, মোহিত কামাল, আনিসুল হক, আব্দুন নূর তুষার, আহমেদ হেলাল, শারমিন লাকি, এলআরবি, ওয়ারফেজ, মৃত্তিকা, লালন, ন্যান্সি, কিশোর, পড়শী, বাংলালিংকের জনসংযোগ নির্বাহী অঙ্কিত সুরেকা, কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক অনুপ কুমার সরকার, প্রথম আলোর সাইদুজ্জামান, মেহেদী মাসুদ, প্রথম আলো ট্রাস্টের আজিজা আহমেদ, ফেরদৌস ফয়সালসহ অনেকে। আকাশপানে হাত তুলে তাঁরা শপথ নিলেন, ‘মাদককে “না” বলি!’
মাদককে ‘না’ বললেও মোশাররফ করিম যখন প্রস্তাব করলেন, ‘একটা গান করি?’ তখন আর কেউ ‘না’ বলতে পারলেন না। নাটকীয় ভঙ্গিতে একটা গল্প শুনিয়ে ‘হাওয়ার গাড়ি চইলা গেল’ শিরোনামের গানও শোনালেন এই জনপ্রিয় তারকা। মাদককে ‘না’ বলালেন সবাইকে চোখ বন্ধ করিয়ে, গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে। দর্শক মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা-ই করলেন। মন্ত্রমুগ্ধ করলেন ন্যান্সিও, গাইলেন তাঁর জনপ্রিয় পাঁচটি গান। মাদকবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ততা নিয়ে বললেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান। ব্যান্ড লালন ও সুমি নড়েচড়ে বসালেন সবাইকে। তাঁদের শেষ গানটির শিরোনাম ছিল ‘পাগল’। সত্যি সত্যিই সবাই গান শুনে পাগলপারা যেন! বৃষ্টি কমে এলে মঞ্চে আসে ওয়ারফেজ। বৃষ্টি শীতলতা এনে দিলেও তাঁদের গানে উষ্ণ তরুণদল! ‘অসামাজিক’, ‘যত দূরে যাও’ ও ‘মহারাজের’ মতো জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন তাঁরা। এরই মাঝে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চলে এলেন নিরব ও সারিকা। সবশেষে সন্ধ্যাটা আরও সরগরম হলো আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবির আগমনে। ‘লোকজন কমে গেছে’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘নীল বেদনা’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’ এবং ‘সেই তুমির’ মতো জনপ্রিয় গানগুলো করলেন তাঁরা। সঙ্গে আহ্বান জানালেন, ‘মাদককে “না” বলুন!’ সন্ধ্যার আঁধারেও তরুণদের দৃপ্ত আওয়াজ, ‘মাদককে “না” বলি।’
কনসার্টের মিডিয়া সহযোগী ছিল চ্যানেল আই ও এবিসি রেডিও।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
২০১২.০৬.২৩ ০৯:২৩
Silent killer. should be banned, strictly controlled. thnx.

Mahbubul Hoque

Mahbubul Hoque

২০১২.০৬.২৩ ০৯:৩১
ইসলামকে মনে প্রানে হ্যাঁ বলুন তাহলে মাদকে আর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে না বলার প্রয়োজন পরবে না। ইসলামে মাদক দ্রব্য গ্রহন হারাম বা নিষিদ্ধ, অথচ মুসলিম অধ্যুষিত এ দেশে মাদকের প্রকোপ কি ভয়াবহ।

Mahbubul Hoque

Mahbubul Hoque

২০১২.০৬.২৩ ১০:১১
রাষ্ট্রযন্ত্র যদি মাদক অনুপ্রবেশ, পরিবহন, বিপননকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন ও মাদকসেবীদের আস্তানা গুড়িয়ে দিতে পারে তাহলেই তো ৯০% সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। অথচ আমরা পত্রপত্রিকায় দেখি আইন- শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসার সংগে জড়িত। এখানে রাষ্ট্র কি তার দায়িত্ব ঠিক মত পালন করছে?

Aktaruzzaman

Aktaruzzaman

২০১২.০৬.২৩ ১২:২৬
ইসলামকে মনে প্রানে 'হ্যাঁ' বললে কোন সমস্যাই তো থাকেনা । But আমরা তো ভাল মুসলিম হতে পারি নাই ..
২০১২.০৬.২৩ ১৪:৪৭
মাদককে "না" এ বাস্তব রূপ দিতে হলে আগে "মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর" নামক সাইনবোর্ডটি পাল্টিয়ে প্রথম যে সাইন বোর্ড "মাদক দ্রব্য নির্মুল অধিদপ্তর" লেখা হয়েছিল- সেটিতে প্রত্যাবর্তন করতে হবে । অন্যথায় কোনদিনই মাদক "না" এ পরিণত হবে না। এসব লোক দেখানো কনসার্ট করে কোন লাভ নেই । বরং এসব কনসার্ট কিশোর কিশোরীদেরকে "মাদক" বিষয়টা নিয়ে কেৌতুহলী হতে সহায়তা করবে । এর প্রসার আরো বাড়বে । এর সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারী লোকজনদের , সেবা প্রদানকারী চিকিতসকদের আয় রোজগার বাড়বে। কথাগুলো খুব অপ্রিয়, কিন্তু রূঢ় সত্য ।
২০১২.০৬.২৩ ১৪:৫২
বিভিন্ন এনার্জি ড্রিংকস এর নামে এদেশের লাখ লাখ শিশু প্রতিদিন কত বোতল করে ফেনসিডিল খাচ্ছে, তা কজন জানেন ?

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

২০১২.০৬.২৩ ২২:৪৪
আসুন আমরা সবাই মাদককে “না” বলি।