তিন শিক্ষককে সন্ত্রাসী দিয়ে পেটালেন সাংসদ!

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি | তারিখ: ০৩-০৯-২০১২

  • ৮ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর শ্যামেরপাড়া ফিরোজা মজিদ উচ্চবিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সন্ত্রাসীরা শ্রেণীকক্ষ থেকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার তিন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সন্ত্রাসীরা স্থানীয় সাংসদ (জামালপুর-৪) ও আওয়ামী লীগের নেতা মুরাদ হাসানের লোক।
এর প্রতিবাদে তিন দিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করছে। সাংসদ মুরাদ হাসান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লাঞ্ছিত শিক্ষকেরা হলেন: বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নাজির উল্লাহ, আজিজুল কবির ও আহসান হাবিব।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, গত ৩১ আগস্ট উপজেলার সানাকৈর আইডিয়াল কলেজের মাঠে শিবপুর উচ্চবিদ্যালয় বনাম শ্যামেরপাড়া ফিরোজা মজিদ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা হয়। খেলায় বহিরাগত একজন খেলোয়াড় নামানোকে কেন্দ্র করে গোলযোগ দেখা দেয়। এর জের ধরে গত শনিবার স্থানীয় সাংসদ মুরাদ হাসানের লোক আলালের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে ঢুকে সহকারী শিক্ষক আজিজুল কবির, আহসান হাবিব ও নাজির উল্লাহকে ধরে নিয়ে যায়। ওই তিন শিক্ষককে সন্ত্রাসীরা মারধর ও লাঞ্ছিত করে পরে ছেড়ে দেয়।
বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মানিক মিয়া ও রিপন মিয়ার ভাষ্য, ক্লাস থেকে সন্ত্রাসীরা স্যারদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত শনিবার থেকে তারা ক্লাস বর্জন করে যাচ্ছে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান জানায়, ওই সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বন্ধ রেখেছে।
শ্যামেরপাড়া গ্রামের আলেফ আলী শেখের (৫৫) ভাষ্যমতে, তিন শিক্ষককে সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে লাঞ্ছিত করেছে। ক্লাস বন্ধ থাকায় এলাকার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।
সন্ত্রাসী হামলায় নির্যাতিত সহকারী শিক্ষক মো. নাজির উল্লাহ জানান, ‘সাংসদের সন্ত্রাসী রাজু মিয়া ও আসাদ মিয়া বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শিবপুর এলাকায় আমার পথরোধ করে দাঁড়ায়। পরে বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণীকক্ষ থেকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে।’
সহকারী শিক্ষক আজিজুল কবির ও আহসান হাবিব জানান, সাংসদের সন্ত্রাসীরা শ্রেণীকক্ষ থেকে তাঁদের ধরে নিয়ে মারধর করেছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে গত তিন বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও মহাদান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমত আলী ভূঁইয়া জানান, এলাকাবাসীকে নিয়ে বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ রায়হান জানান, এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংসদ মুরাদ হাসান আজ সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলো ডটকমকে জানান, ‘যারা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা আমার দলের কেউ নয়।’ তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

শিহাব আল মাহমুদ ( আজমিরীগঞ্জ,হবিগঞ্জ ) বাহরাইন প্রবাসী

শিহাব আল মাহমুদ ( আজমিরীগঞ্জ,হবিগঞ্জ ) বাহরাইন প্রবাসী

২০১২.০৯.০৩ ১৯:০৫
বাহ আরো কত শুনব। হায়রে.......................................

mahfuza bulbul

mahfuza bulbul

২০১২.০৯.০৩ ১৯:৫৫
ছোট শিশুরা এথেকে কী শিখছে ? সাংসদরা সন্ত্রাসী পুষে। তাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের পেটাতেও যারা পিছপা হয় না।

abdul

abdul

২০১২.০৯.০৩ ২০:৫৫
Take immediate action against the MP Murad Hasan first, then others.

kabir ahmed bahar

kabir ahmed bahar

২০১২.০৯.০৩ ২১:১৪
We hate u mr. MP . Can u expect Vote from them? Shame!!!!

২০১২.০৯.০৩ ২২:১৬
যে জাতি গুরুকে সম্মান দিতে জানে না সে জাতি কখনই উপরের দিকে উঠে না ।

২০১২.০৯.০৩ ২২:২৯
আওয়ামিলিগ আর বি এন পি'র জনমই তো পিটাপিটির মধ্যে। ওদেকর পিটিয়ে দেশ ছাড়া করাই বিদ্দিমানের কাজ।
২০১২.০৯.০৩ ২৩:০৯
সনত্রাশিকে যে নেতা ব্যাবোহার করে, তার যতো দিন পরযোনতো বিচার করা না হবে ততো দিন এ পসুর আচরন চলবে.

Waliullah

Waliullah

২০১২.০৯.০৩ ২৩:২৭
এ ধরণের খবর শুনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি, অতএব মন্তব্য করার কিছু নাই...............................