‘স্যারের দুই শ, আমরার পঞ্চাশ’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | তারিখ: ০৩-০৯-২০১২

  • ৭ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

স্বাস্থ্যবিষয়ক সনদ দেওয়ার কথা বিনা মূল্যে। কিন্তু প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। এই অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে সনদ নিতে আসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকেরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সিভিল সার্জন সরফরাজ খান চৌধুরী বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা স্বাস্থ্যবিষয়ক সনদ নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে আদায় করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কয়েকজন অফিস সহকারী বিনা মূল্যের ‘স্বাস্থ্যবিষয়ক সনদ’ দিচ্ছেন। কারণ জানতে চাইলে একজন অফিস সহকারী বলেন, ‘স্যারের (সিভিল সার্জন) দুই শ, আমরার পঞ্চাশ।’
চিকিত্সাসনদ নিতে আসা জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষকের ভাষ্য, কোনো রসিদ ছাড়াই তাঁদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। রসিদ চাইলে তাঁদের বলা হয়, ‘রসিদ লাগবে না। স্যারের স্বাক্ষর করা সনদই রসিদ।’
নাসিরনগর উপজেলা থেকে আসা সঞ্জয় দেব ও নাজমুল হুদা প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, আড়াই শ টাকা দেওয়ার পর তাঁদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সনদ দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার বিপরীতে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়নি। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এমনভাবে উেকাচ দিতে তাঁরা অপমানিত বোধ করছেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন অফিস সহকারী বলেন, ‘সনদ দিতে কোনো ফি নির্ধারণ করা না থাকলেও খরচ বাবদ কিছু টাকা রাখা হয়েছে।’ তবে রসিদের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হলে প্রার্থীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ ও ঝামেলা হতো। তাই এমনিতেই সনদ দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন সরফরাজ খান চৌধুরী প্রথম আলো ডট কমকে বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
২০১২.০৯.০৩ ২০:৪৩
আমরা আসলে নষ্ট হয়ে গেছি । সবখানেই এইরকম অবস্থা। ৭ বছর আগের কথা: থানা থেকে গেলাম পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আনার জন্য। দিতে হল ফি ২৫০ টাকার স্থলে ৮০০ টাকা। দরকশাকশি করতে চাইতেই আমার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিতে লাগল । কথা না বাড়িয়ে পুরাটাই দিলাম । ব্যান্কে গেলাম টাকা এনডোর্স করাতে । ব্রাক ব্যাংক করতে চাইল কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্রাক ব্যাংকে রিফিউজ করল। গেলাম সোনালি ব্যাংকে । আমাকে বলল আমি গিয়ে পড়াশোনা করব না . দেশের টাকা অপচয় হবে , পাচার হবে।

Reaz Mahmud ( দোহা-কাতার)

Reaz Mahmud ( দোহা-কাতার)

২০১২.০৯.০৩ ২০:৫১
এটা কি আর নতুন কিসু নি।

ONEENDA HANNAN PRAMANIK

ONEENDA HANNAN PRAMANIK

২০১২.০৯.০৩ ২১:৩২
তোমাদের জন্য ”ছি” শব্দটি এখন আর যথেষ্ঠ নয় !

Mohammad Rashedul Hasan

Mohammad Rashedul Hasan

২০১২.০৯.০৩ ২১:৫৭
সিভিল সার্জনের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে, অথচ তিনি জানেন না! এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, বরং এটা বিশ্বাস করা যৌক্তক যে তার নির্দেশেই টাকা নেওয়া হয়েছে। একজন অধঃস্তন কর্মচারী এতবড় ধৃষ্টতা দেখাতে পারে না। আর তাই যদি সত্যি হয়, তাহলে সিভিল সার্জন ব্যবস্থা নিয়ে প্রমাণ করুক যে তার অজ্ঞাতে এটা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাঠকেরা আর কিছুই জানবে না। মিডিয়াকে মোকাবেলার জন্য মিথ্যা বলা। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন সিভল সার্জনের কি 'স্বাস্থ্য সনদ' এর জন্যও টাকা নিতে হবে? টাকার বিনিময়ে যে সনদ পাওয়া যায়, সে সনদ তো ভূয়া। ভূয়া সনদের কালচার থেকে আমাদের মুক্তির উপায় খোজতে হবে।

Masuk Hridoy

Masuk Hridoy

২০১২.০৯.০৩ ২২:০৪
টাকা নেওয়ার বিষয়টি সিভিল সার্জন সাহেবের জানা নেই। সাহেব তাহলে খবর রাখেন কি আর জানেন কি? তার নাকের ডগায় (কার্যালয়ে) এমন অনিয়মের খবর তিনি রাখেন না কেন? তিনি এমন বেখবর হয়ে আছেন বলেই হয়তো নতুন নিয়োগ পাওয়া মানুষ গড়ার এসব কারিগরদেরকে ঘুষ দেওয়ার মতো এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো।

MMRAHMAN

MMRAHMAN

২০১২.০৯.০৩ ২২:২৮
we want follow up of this news...
২০১২.০৯.০৪ ০০:০২
ভাই টাকা না বলে, বলেন ঘুষ।