ড্যাবে খুনের পরিকল্পনা ভণ্ডুলের দাবি র‌্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৩-০৯-২০১২

  • ৫ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বিএনপিপন্থী চিকিত্সকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) দুটি পক্ষের বিরোধে তিন চিকিত্সককে হত্যার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তা ভেস্তে দিয়েছে। আজ সোমবার র‌্যাবের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়।
হত্যা-পরিকল্পনার অভিযোগে আটক ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও দন্তচিকিত্সক কামরুল হাসান (২৯), সন্ত্রাসী (র্যাবের দাবি অনুযায়ী) মিঠু ওরফে প্রশান্ত (২২), মোহর আলী (৩৫), জয়নাল আবেদীন (২৪), মোস্তফা (২৬) ও তওফিকুল ইসলাম ওরফে তুষার (২৩)। তবে আটক ব্যক্তিদের ভাষ্য, তাঁরা কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করেননি। শুধু মারধর ও লাঞ্ছিত করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম সোহায়েল বলেন, ড্যাবের মহাসচিব এ জেড এম জাহিদের অনুসারী তিন চিকিত্সককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ড্যাবের নেতা মাজহারুল ইসলাম ওরফে দোলন। যে তিনজন চিকিত্সককে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল তাঁরা হলেন: মোফাখখারুল ইসলাম, মো. বাহার ও উজ্জ্বল। এ জন্য মাজহারুল তাঁর অনুসারী দন্তচিকিত্সক কামরুলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এরপর কামরুল যোগাযোগ করেন মিঠুর সঙ্গে।
এম সোহায়েল বলেন, গত ১১ ও ১২ আগস্ট মিরপুর ১০ নম্বরের ডিজি ল্যাবে মোফাখখারুলের চেম্বারে পাঁচজন সন্ত্রাসী পাঠান মিঠু। ১১ আগস্ট সন্ত্রাসীরা গিয়ে মোফাখখারুলকে না পেয়ে ফিরে আসে। ১২ আগস্ট র‌্যাব গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। চেম্বারে সন্ত্রাসী ও র‌্যাবের আগমনে মোফাখখারুল ধারণা করেছিলেন, তাঁর প্রাণনাশের জন্য যারা এসেছিল, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এরপর তিনি ১৪ আগস্ট একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর মামুনকে দিয়ে শ্যাওড়াপাড়ায় চিকিত্সক উজ্জ্বলের চেম্বারে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তা ব্যর্থ হয়। এরপর গত রোববার মিরপুর ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলবারসহ কামরুল, মিঠু ও তাঁদের অন্য সহযোগীদের আটক করা হয়।
র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলেন, গত ৩০ জুলাই ড্যাবের ইফতার মাহফিলে হাতাহাতির সময় দন্তচিকিত্সক কামরুলকে মারধর করেন প্রতিপক্ষ ড্যাবের বর্তমান মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন-সমর্থিত চিকিত্সকেরা। এরপর ড্যাবের আরেক প্রভাবশালী নেতা (তারেক রহমানের ব্যক্তিগত চিকিত্সক হিসেবে পরিচিত) মাজহারুল তিন চিকিত্সককে হত্যার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কামরুলকে দায়িত্ব দেন।
র‌্যাবের হেফাজতে থাকা কামরুল সাংবাদিকদের বলেন, ড্যাবের নেতা মাজহারুল তাঁকে বলেন, ‘অন্তত কিছু করো, এটা প্রেস্টিজ প্রবলেম হয়ে দাঁড়িয়েছে’। এরপর তিনি আরেক দন্তচিকিত্সক শামীমের মাধ্যমে মিঠুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কথা ছিল, ওই তিন চিকিত্সককে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হবে। তাঁদের হত্যার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আরেক চিকিত্সক নেতা ইরফান তাঁকে কাজটি করার জন্য ফোন করে চাপ দিতেন।
র‌্যাবের হেফাজতে থাকা মিঠু বলেন, কামরুল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে মোফাখখারকে মারধর করতে বলেছিলেন। হত্যার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
র‌্যাবের কর্মকর্তারা দাবি করেন, কামরুল ও মিঠুর মধ্যে দীর্ঘসময়ের আলাপচারিতার রেকর্ড তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। এতে কামরুলকে হত্যার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে। কথোপকথনে মিঠু জিজ্ঞাসা করেন, ‘ওরে রাখপো না ফালায়ে দিব?’ উত্তরে কামরুল বলেন, ‘মারতে গিয়ে মারা গেলে আর কী করার।’ মিঠু জিজ্ঞেস করেন, ‘মরিচের গুঁড়া (ককটেল বা হাতবোমা) নেব, না বই (আগ্নেয়াস্ত্র) নেব?’ জবাবে কামরুল বলেন, ‘যা লাগবে সব নিবি।’
কথিত হামলার লক্ষ্য চিকিত্সক মোফাখখারুলের দাবি, ড্যাবের মতো বড় একটি সংগঠনে বিভেদ থাকতেই পারে। তবে কোনো ‘গ্রুপিং’ নেই। ড্যাব সভাপতি-মহাসচিবকেন্দ্রিক সংগঠন। এখানে মাজহারুল ইসলামদের কোনো অস্তিত্ব নেই, সংশ্লিষ্টতা নেই। তাঁরা পেশিশক্তি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতে চান। র‌্যাবকে ধন্যবাদ জানান মোফাখখারুল।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
২০১২.০৯.০৩ ২১:৩৫
র‍্যাব কে ধন্যবাদ । সাবধান হওয়ার সময় - সেই সাথে সকল রাজনীতি বিদ দের ও - কে কখন কাকে মারে - কারো বিশ্বাস নেই । । ডাক্তার নারায়নের হত্যা কান্ড ও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দেখা উচিত।
২০১২.০৯.০৩ ২১:৫৬
এরপর ড্যাবের আরেক প্রভাবশালী নেতা (তারেক রহমানের ব্যক্তিগত চিকিত্সক হিসেবে পরিচিত) মাজহারুল তিন চিকিত্সককে হত্যার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কামরুলকে দায়িত্ব দেন। কবে যে এই সব হত্যার রাজনীতির অবসান হবে !!!

MMRAHMAN

MMRAHMAN

২০১২.০৯.০৩ ২২:৩০
weldone rab

Mohammad Rashedul Hasan

Mohammad Rashedul Hasan

২০১২.০৯.০৩ ২২:৫৮
বাংলাদেশের পেশাজীবি সংগঠনগুলো বিএনপি কিংবা আওয়মীলীগ কেন্দ্রিক। যেমন চিকিতসকদের সংগঠন 'ড্যাব' বিএনপি পন্থী আর 'স্বাচিপ' আওয়মীলীগ পন্থী। প্রকৌশলীদের ও এরকম দুটি সংগঠন রয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে এই সংগঠনগুলোর নেতাদের দাপট লক্ষ্যনীয়। বদলী, নিয়োগ, পদায়ন সবই এই সংগঠনের নেতাদের হাতে। নেতাদের ক্ষমতার দোদণ্ড প্রতাপ বেশী দেখা যাচ্ছে বর্তমান ও বিগত সরকারের আমলে, বিশেষকরে ড্যাব এবং স্বাচিপের মধ্যে। ফলে পেশাজীবি সংগঠনগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে রয়েছে প্রচন্ড আকাঙ্খা আর চরম বৈরী প্রতিযোগিতা। অথচ এই সংগঠনগুলোর লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল পেশাগত উতকর্ষ সাধন। আমেরিকার পেশাগত সংগঠনগুলোই মূলতঃ ব্যবহারিক জ্ঞান উন্নয়নের ধারক ও বাহক। ফলে প্রতিটি পেশায় আসছে উন্নত প্রযুক্তি চর্চা। আর বাংলাদেশে পেশাদারিত্বের মোড়কে চলছে অসুভ রাজনীতি এবং ক্ষমতা আর অবৈধ অর্থ উপার্জনের কুচর্চা। রাজনীতিবিদদের এর ক্ষতিকর দিক এখনই বুঝতে হবে। পেশাভিত্তিক রাজনৈতিক মেরুকরণ দলের জন্য সুফল বয়ে আনার কথা নয় বরং এরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করে, দলের ভাবমুত্তি নষ্ট করে। অমেধাবীরা নেতৃত্ব দেয় বলে মেধাবীরা হতাশায় পড়ে, দেশ ছেড়ে পালায়। তাই ঘটছে বাংলাদেশে । এই খবরটি একটি অশণি সংকেত, ভয়াল রূপ অপেক্ষা করছে সামনে।
২০১২.০৯.০৪ ০০:০০
ভালো সংবাদ।