মূল রচনা: র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে বেলার (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গিয়েছিলেন ফিলিপাইনের ম্যানিলায়। তাঁর অভিজ্ঞতা তিনি শুনিয়েছেন এবারের মূল রচনায়
ম্যাগসাইসাইয়ের ম্যানিলায়
-
র্যামন ম্যাগসাইসাই আসরে: অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
-
সিনেটর র্যামন ম্যাগসাইসাই জুনিয়র ও ম্যাগসাইসাই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কারমেনসিতা টি আবেলার সঙ্গে। স্বামী আবু বকর সিদ্দিক (সর্ব বাঁয়ে)
-
সেদিন অফিসের ল্যান্ডফোনটা যখন বেজে উঠল, তখনো ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি, কত বড় একটা চমক অপেক্ষা করছে আমার জন্য! আজকাল সাধারণত কেউ ল্যান্ডফোনে ফোন করে না। যা-ই হোক, ফোন ওঠালাম। ওপ্রান্তের মানুষটার কথা শুনে বিস্ময়ের মাত্রা আকাশ ছুঁলো। ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট কারমেনসিতা টি আবেলা। আবেলা সেদিন যা বলেছিলেন, তার সারমর্ম মোটামুটি এই রকম, ‘তোমার জন্য একটা সুখবর আছে। তোমাকে এ বছর র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তুমি কি পুরস্কারটা গ্রহণ করতে সম্মত আছ? তা হলে তোমার একটা লিখিত সম্মতি আমাদের লাগবে।’ আমার হূৎস্পন্দন নিমেষে বেড়ে গেছে। আবেলা আমার ই-মেইল ঠিকানা জানতে চাইলেন। তখনই খেয়াল হলো, উত্তেজনায় আমি নিজের ই-মেইল ঠিকানাটা বেমালুম ভুলে বসে আছি। ওপাশ থেকে খাঁটি ফিলিপিনো উচ্চারণে কথা না বললে হয়তো বিশ্বাসই হতো না! বলছি গত ৯ জুলাইয়ের কথা। সময় তখন বেলা ১১টার মতো।
এত বড় একটা খবর, কিন্তু আবেলা স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, আপাতত কথাটা গোপন রাখতে হবে। শুধু স্বামীকে বলতে পারো।
ইচ্ছা করছে, বেলার (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি) সহকর্মীদের সবাইকে ডেকে খবরটি বলি। তাঁরাই তো আমার এই অর্জনের সবচেয়ে বড় অংশীদার। কিন্তু বলার উপায় নেই। গত ২৫ জুলাই র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট বিষয়টি প্রকাশ করার পর এই দায় থেকে মুক্তি পেলাম। দেশ-বিদেশ থেকে একের পর এক ফোন আসতে শুরু করল। রোজার সময়; টিভি ক্যামেরা আর সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে বলতে ভীষণ ক্লান্ত লাগছিল। প্রায় ভোররাতে ঘুমোতে গেছি, কিন্তু উত্তেজনায় দুই চোখের পাতা এক হতে চাইছিল না। রাত দুইটা পর্যন্ত পরিচিত, আধা পরিচিত ও অপরিচিত ব্যক্তিদের শুভকামনার জবাব দিতে দিতে একসময় ভাবছিলাম, ফোনটা বন্ধ রাখব, কিন্তু পারলাম না। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করছিলাম, অভিনন্দনের এই উৎপাত আমারও ভালো লাগছে!
পুরস্কার শুধু ঘোষণা করা হয়েছে। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়ার জন্য তো র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের দেশ ফিলিপাইনে যাওয়া চাই। অতএব, শুরু হলো ম্যানিলা যাওয়ার প্রস্তুতি। সব ব্যবস্থা ওরাই করে রেখেছিল। তবে ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু চাওয়া ছিল। যেমন, ওরা সহকর্মীদের সঙ্গে আমার ছবি চাইছিল। সে সময়ই প্রথম আবিষ্কার করলাম, আমরা সবাই মিলে এত কাজ করি, কিন্তু কখনোই একসঙ্গে ছবি তোলা হয় না! আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম, দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেই যাব। তিনটি জামদানি শাড়ি কিনে ফেললাম। ম্যানিলা যাওয়ার কয়েক দিন আগেই আমি অফিসে বলে রেখেছিলাম, কোনো রকম খারাপ খবর যেন আমাকে না দেওয়া হয়। খুব চাইছিলাম, ফুরফুরে মেজাজে কয়েকটা দিন কাটাব।
ম্যানিলার পথে উড়াল
প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন। ২৫ আগস্ট রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। সঙ্গে আমার স্বামী আবু বকর সিদ্দিক। ওকে আমরা ডাকি এবি নামে। সিঙ্গাপুর হয়ে তারপর ম্যানিলা।
অদেখা অনেক বিস্ময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ২৬ আগস্ট বেলা একটার দিকে আমরা পা রাখলাম ম্যানিলায়। বিমানবন্দরে ফুলের মালা দিয়ে আমাদের বরণ করে নেওয়া হলো। ফুলের নামটা ঠিক বলতে পারছি না। ওদের কোনো ঐতিহ্যবাহী ফুল হবে হয়তো। আমাদের মালপত্র বহন করার ভারও ওরাই নিল। বিমানবন্দরের লবি ধরে হাঁটছিলাম, আর আশপাশ থেকে সবাই ছবি তুলছিল। এ ধরনের ঘটনার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না মোটেই। সেখানেই ছোটখাটো একটা সংবাদ সম্মেলন হলো। আমাদের থাকার ব্যবস্থা ডায়মন্ড হোটেলে। এই হোটেল বিশ্বের আর দশটা পাঁচতারা হোটেলের মতোই, তবে এদের খাবারের আয়োজনে জাপানি প্রভাব স্পষ্ট। এর ঘরগুলো বেশ প্রশস্ত। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে এই হোটেল। ভীষণ সুন্দর! ২৭ বছর ধরে ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড নিতে যাঁরা এ দেশে এসেছেন, সবাই এই হোটেলেই পা রেখেছেন। হোটেলের কর্মীরাও তাই এ আয়োজনে বেশ অভ্যস্ত।
পুরো অনুষ্ঠানের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শুধু অতিথিপরায়ণ বললে ভুল হবে। আতিথেয়তা অনেকেই করতে জানে, কিন্তু ওদের আতিথেয়তার মধ্যে এক ধরনের উষ্ণতা ছিল, সেটাই আমাকে মুগ্ধ করেছে বেশি। আমি প্রতিবারই রুমের চাবি নিতে ভুলে যেতাম, আর হোটেলের কেউ না-কেউ চাবিসমেত আমার পেছন পেছন চলে আসত। এই যে আতিথেয়তা, সম্মান প্রদর্শন, এর মধ্যে কোনো যান্ত্রিকতা নেই। আন্তরিকতাও অনুভব করেছি খুব। প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ সব অনুষ্ঠান। প্রায় প্রতিদিনই আমাকে শাড়ি পরতে হয়েছে। আমার শাড়ি ঘিরে দেখলাম ওদের বেশ আগ্রহ! একটু পরপরই কেউ না-কেউ পাশে দাঁড়িয়ে গেছে ছবি তুলবে বলে। হোটেলের অভ্যর্থনাকারী মেয়েটি থেকে শুরু করে ফাউন্ডেশনের কর্মী—শাড়ি দেখে সবার চোখে-মুখে মুগ্ধতা। সবারই মন্তব্য, ‘বাহ্্! তোমার গাউনটা কী সুন্দর!’ প্রথম প্রথম কেউ কেউ ভাবছিল, আমি ভারত থেকে এসেছি। পরে সবাই আমার বাংলাদেশি পরিচয়টা জেনেছে। একেবারে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে বারবার বাংলাদেশ শব্দটা উচ্চারণ হচ্ছিল, খুব ভালো লাগছিল।
ম্যাগসাইসাই আসরে
আমাদের নিয়ে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল পিআইসিসিতে (ফিলিপাইন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার)। পিআইসিসি আমাদের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় ছয়-সাত গুণ বড়। পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়া হবে ৩১ আগস্ট। আগের দিন আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো অনুশীলনের জন্য। রাষ্ট্রপতি আসবেন, আসবেন আরও নানা গণ্যমান্যজন। নিরাপত্তার খুব কড়াকড়ি। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া ছিল। আমাদের সঙ্গে পরিবারের লোকজনকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁরা কে কোথায় বসবেন, কখন দাঁড়াবেন, কখন ছবি তুলতে পারবেন—যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় ওরা জানিয়ে দিয়েছিল। পুরো অনুশীলনটি পরিচালনা করছিল মাস্টার অব সিরামনি।
আমাদের স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হলো, হাতে বহন করতে হয় এমন কিছুই সঙ্গে নেওয়া যাবে না। এমনকি চশমা, ব্যাগ—এসবও না। আয়োজনের আড়ম্বর দেখে বেশ ভয় ভয় করছিল! শেষ মুহূর্তে ঘাবড়ে গিয়ে কিছু ভুল হয়ে যাবে না তো! সেই স্কুলজীবনে শেষ লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখানে এসে আবার লাইনে দাঁড়াতে হবে। কার পরে কে দাঁড়াবে, মনে রাখতে হবে। সঙ্গে করে কাকে নিয়ে মঞ্চে উঠব, তা-ও মনে রাখতে হবে। চশমা আগেই জমা রাখতে হবে। খুব ভয় হচ্ছিল, আমার বক্তব্যের সময় ওরা যদি ভুল করে অন্য কারও চশমা আমাকে দিয়ে দেয়, পড়ব কী করে! গলা শুকিয়ে গেলে কোথায় গিয়ে পানি খাব—এমন তুচ্ছ চিন্তায় অস্থির লাগছিল। আমার একটা অভ্যাস, সব সময় পায়ের ওপর পা তুলে বসি। আয়োজকেরা বারবার বলে দিল, ‘রিজওয়ানা, কিছুতেই পায়ের ওপর পা তুলে বসা যাবে না।’ এত সব সতর্কতায় আরও বেশি গুটিয়ে গেলাম! আমার স্বামী এবিকে বলছিলাম, ‘দেখো, বক্তব্য দেওয়ার সময় আমি নিশ্চিত তোতলাব!’ ও সাহস জোগাল।
এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ
পরদিন ৩১ আগস্ট, র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন। সকালেই আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো ম্যাগসাইসাইয়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে। সেখান থেকে হোটেল হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে রওনা হলাম বেলা আড়াইটায়। যেতে যেতে আশপাশের সবাইকে দেখছিলাম। এত সুন্দর করে সেজেছে ওরা সবাই! নিজেকে একটু বেমানান লাগছিল ওদের মাঝে। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে দেখলাম, আমাদের জন্যও নিজেকে সাজিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। আমরা ছয়জন। তাইওয়ানের চেন শু-জু, ফিলিপাইনের রোমুলো দাভিদে, ভারতের কুলান্দেই ফ্রান্সিস, কম্বোডিয়ার ইয়াং সাইং কোমা, ইন্দোনেশিয়ার অ্যামব্রোসিয়াস রুজিন্দরিজার্তো ও আমি। আমাদের সাজসজ্জার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো। সাজগোজের পর্ব শেষে একটা মজার ব্যাপার লক্ষ করলাম। গোটা ঘর একদম চুপ। আসলে আমরা কেউই এত মেকাআপে অভ্যস্ত নই। কী করে মুখ খুলব, কেমন করে চোখের পাতা ফেলব—এই নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল!
অনুষ্ঠান শুরু হলো। বাচ্চা একটা ছেলে কী সুন্দর করে ওদের জাতীয় সংগীত গাইল! এরপর একে একে আমাদের ডাকা হলো। একজন করে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়; তাকে নিয়ে ছোট্ট একটা অডিও ভিজ্যুয়াল প্রতিবেদন পর্দায় দেখানো হয়। এটা আমাদের জন্য একটা চমক ছিল। এমন একটা প্রতিবেদনের কথা আমরা জানতাম না। একসময় আমার ডাক এল। মঞ্চে দাঁড়িয়েই সামনে বসা বাঙালিদের দেখতে পেলাম। ওদের অনেকের সঙ্গেই আমার ম্যানিলায় এসে দেখা হয়েছে। বেশ একটু স্বস্তি লাগছিল পরিচিত মুখগুলো দেখে। বক্তব্য শেষে বেশ লম্বা দৈর্ঘ্যের একটা তালিও পেলাম। যখন আমি পুরস্কার হাতে নিলাম, সামনে বসা বাংলাদেশিদের হাসিমাখা মুখগুলো মঞ্চে দাঁড়িয়েও চোখে পড়ছিল। বিপত্তিটা বাধল পুরস্কার পাওয়ার পর। পুরস্কার হাতে নিয়ে নিজের জায়গায় এসে বসেই আমি অভ্যাসমাফিক পায়ের ওপর পা তুলে দিচ্ছিলাম! পাশ থেকে সাবধান করা হলো, ‘রিজওয়ানা!’ চটজলদি ঠিক হয়ে বসলাম।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বেনিগনো এস অ্যাকুইনো আমাকে মুগ্ধ করেছেন ভীষণ! একদম সাদাসিধে, বিনয়ী একজন মানুষ। আমাকে শুরুতেই বলছিলেন, ‘তোমার লড়াই চালিয়ে যাও।’ অবাক লাগল জেনে, তিনি জাহাজভাঙার যে পরিবেশ-ঝুঁকি, সেটার বিষয়ে পুরোপুরি ওয়াকিফহাল।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় অবাক হয়ে শুনছিলাম, আমাদের ছয়জনের কাজ সম্পর্কেই তিনি খুব সুন্দর বললেন। অথচ বক্তব্য তিনি লিখে এনেছেন, তা নয়। পরে বলছিলেন, ‘তোমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছ, এগুলো ফিলিপাইনেও খুব আলোচিত ইস্যু। তাই আমার বলতে সমস্যা হয়নি।’
অনুষ্ঠান শেষেও আমাদের নিয়ে কিছু আয়োজন ছিল। নৈশভোজে গিয়ে অন্য রকম অভিজ্ঞতা। মোটামুটি রাজসিক আয়োজন। রাজসিক বলতে যে চারদিকে সোনা-রুপার ছড়াছড়ি, তা নয়। খাবারের তালিকার সঙ্গে আমাদের ছাপানো ছবি দেখে ছয়জনই চমৎকৃত। খাবার টেবিলে বিশেষভাবে নজর কাড়ল ঝিনুকের থালা। অতিথিদের সবাই যে বেশ স্যুট-কোট পরা, তা নয়, সবার গায়ে জাতীয় পোশাক—ফিলিপিনো শার্ট। দেখা হলো র্যামন ম্যাগসাইসাই পরিবারের সঙ্গে। আগেই বলেছি, ওদের আন্তরিকতার মধ্যে এক ধরনের উষ্ণতা আছে। আবারও তার প্রমাণ পেলাম র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের ছেলে জুনিয়র ম্যাগসাইসাইয়ের আচরণে। আমাকে দেখেই বলে উঠলেন, ‘হোয়ার ইজ সিদ্দিক?। তাঁর টানাটানিতে এবিকে উঠে আসতে হলো। ফাউন্ডেশন আমাদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করেছিল। এ অনুষ্ঠানে আবার কোনো ভাবগাম্ভীর্যের বালাই নেই। সবাই সবাইকে আপন করে নিচ্ছিল ভীষণ আন্তরিকতায়। এই অনুষ্ঠানে গিয়েই ওদের সঙ্গে একটা নাচ শিখতে হলো, এবিকে গানও গাইতে হলো। দারুণ মজায় কেটেছিল সময়টা। ফেরার সময় ওরা বলছিল, ‘আবার এসো।’ আমিও মজা করে বলছিলাম, ‘কী করে আসব, আর তো পুরস্কার পাব না!’
সেই সবজিবিক্রেতা এবং...
পুরস্কার পেয়েছি আমরা ছয়জন। তাদের মধ্যে একজনকে বারবার আমার আলাদা করে চোখে পড়েছে। তাইওয়ানের সবজিবিক্রেতা—চেন শু-জু। খুব সাধারণ একজন মানুষ। ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ডের মর্ম তিনি বোঝেন না, এমনকি ইংরেজিতে কথাও বলতে পারেন না। সাদাসিধে এই সবজিবিক্রেতা তাঁর স্বল্প আয় থেকে জমিয়ে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকে প্রায় তিন লাখ ইউএস ডলার দান করেছেন! এই মানুষকে দেখে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল। ম্যানিলা থেকে ফিরেছি সপ্তাহ দুয়েকের বেশি হয়ে গেল। এখনো সেই সাদাসিধে সবজিবিক্রেতা নারীর মুখটি চোখে ভাসে। আমরা এত কিছু করছি, তবুও তো জাহাজভাঙা-শিল্পে শ্রমিকের মৃত্যু বন্ধ করতে পারিনি, নদীভরাট বন্ধ হয়নি, নগরের মানচিত্রে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর কাটাকুটি থেমে থাকেনি। মানুষ হিসেবে দেশের জন্য এখনো কত কী করার বাকি!







Belal hossen
২০১২.০৯.১৫ ০৪:১৭sarwar
২০১২.০৯.১৫ ০৪:২৭Syed
Virginia,USA
M.K.Barua
২০১২.০৯.১৫ ১০:৫২