মিট দ্য রিপোর্টার্সে মেনন

মনে হয়েছে মন্ত্রিত্ব চাকরি, দায়িত্ব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৫-০৯-২০১২

  • ৬ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘মন্ত্রিত্বের বিষয়টি একটি নীতিনির্ধারণী ব্যাপার। আমন্ত্রণ এল একজন সচিবের কাছ থেকে। এ ধরনের আমন্ত্রণে কোনো সভ্য দেশে মন্ত্রী হয় কি না, আমার জানা নেই। মনে হয়েছে মন্ত্রিত্ব হলো চাকরি, দায়িত্ব নয়। একটা চাকরির জন্য আমন্ত্রণ করা হয়েছে, আপনি নেবেন কি নেবেন না।’
এভাবেই মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাখ্যা দেন রাশেদ খান মেনন। তিনি গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে আরও বলেন, প্রস্তাবটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও এটা বেরিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব এলে না নেওয়ার কোনো কারণ ছিল না।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন।
মহাজোটের শরিক ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম এই নেতা বলেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ বা রদবদল হতেই পারে। একটি রাজনৈতিক দল নীতিনির্ধারণী বিষয় নিয়ে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে। জোটের ক্ষেত্রেও একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়। কিন্তু শুরু থেকেই জোটে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া মেনে চলা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোট একসঙ্গে আন্দোলন করে। একসঙ্গে নির্বাচনে গিয়ে অভাবনীয় জনসমর্থনও পায়। কিন্তু নির্বাচনের পর রাজনৈতিকভাবে জোটকে কার্যকর করা হয়নি। জোট কিংবা মহাজোট এখন নিষ্ক্রিয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর দেশে এখন সংকট চলছে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, এই সরকার লুটপাট বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এক-দেড় বছরের মধ্যে আশা উবে গেল। লুটপাটের ধারাবাহিকতা চলছে। বুর্জোয়া শাসনব্যবস্থার কারণেই এই লুটপাট বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, হলমার্ক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন রাশেদ খান মেনন। তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টি মহাজোটেই থাকছে। এই সরকারই আমাদের ভরসা। তবে জোটের দলগুলো স্বাধীন। সরকারের ভ্রান্তনীতির বিরুদ্ধে সংসদে ও সংসদের বাইরে সমালোচনা অব্যাহত থাকবে।’ আগামী নির্বাচনের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ এবং চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু। এ বিষয়ে সমাধান কী—এই প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দরজাটা খুলেছেন। কিন্তু পুরোপুরি উন্মুক্ত করেননি। অন্তরবর্তীকালীন সরকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান খোলাসা করা উচিত। বিরোধী দলের চাওয়া কী, সেটাও তাদের নেত্রীর পরিষ্কার করা দরকার। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় আর ফিরে যাওয়ার অবকাশ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। কেমন চলছে এই মন্ত্রণালয়—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে সাফল্য আছে। তবে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রয়ে গেছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সংগঠনের পরিচিতি তুলে ধরেন। রাশেদ খান মেননের জীবনী উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Chowdhury

Chowdhury

২০১২.০৯.১৫ ০৫:৫০
মেনন সাহেবের বক্তব্য শুনে হাসি পাছেচ। মনে হছেচ নেএী উনাকে অফার করে বিরাট অপরাধ করে পেলেছে। জীবনে যার মেমভার হওয়ার মতো জনপ্রিয়তা নাই, আওয়ামি লীগের নোকা প্রতিক নিয়ে যিনি জিতে এমপি হয়েছেন, তার মূখে এসব মানায় না।পরবতী নিবাচনে আমরা দেখবো, আপনার কি যোগ্যতা আছে।

Prof.Eheshamul Haque

Prof.Eheshamul Haque

২০১২.০৯.১৫ ০৮:৫৮
Mr.Rashed Khan Mennon, thank you very much for your courage..

Ani Doot

Ani Doot

২০১২.০৯.১৫ ০৯:৪৫
@Chowdhury, please try to applaud for a good man.
২০১২.০৯.১৫ ১৩:২৮
সব তো বুঝলাম ,এটা বুঝলাম না ,মেননের অাপত্তি কোন জায়গায় ,একবার বলছেন পলিট বুরো মানা করেছে অাবার বলেছেন কোন প্রাক অালোচনা করেনি কেউ । তবে উনার মুখে এসব বড় বড় কথা সংগত কারনেই মানান সই মনে হচ্ছে না ।

Salekin

Salekin

২০১২.০৯.১৫ ১৫:২৫
মেনন সাহেব - আপনি কিভাবে ভিকারুননেসা মেনন হোলেন সেটাও খোলামেলা বলুন !
আওয়ামী লীগ বড় কেলেনকারীর পাশে ছোটো কেলেনাকরী নিয়েও ঝামেলাতে আছে।
হলমারক , শে্যার বাজার , কুইক রেন্টাল , তিসতা চুক্তি এবং অতি অবশ্যই ছাতরলীগের সোনার ছেলেদের কিরতি আও্যামী লীগেকে ডোবাবে । এইগুলি বড় কিরতি ।
ভিাকারুননেসার ভরতি বানিজ্য ও যৌন নিরযাতন - আপনি কি তার দায় এড়াতে পারবেন ?
নৌকা বাদে একবার নিরবাচন করেই দেখুন না !

prodip

prodip

২০১২.০৯.১৫ ১৫:৫২
মেনন সাহেব দের অাদর্শগত অবস্থান কতটুকু শক্ত তা বুঝা যায় ,তাদের ক্ষয়প্রাপ্ত দৈন্য দশা দেখলে । উনার জীবন সংশয়ের দড়জায় কারা উনার পাশে দাড়িয়েছে ,কারা উনাকে পালামেন্টে পাঠিয়েছে ? তারা কী জনগন ? কৃতজ্ঞতা বোধ বলে একটা কথা অাছে । সামনে হয়তো কয়জনের পলিট বুরো ছাড়া অার কাউকে পাশে পাবেন না ।