বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের সারমর্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৭-০৯-২০১২

  • ২৬ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

(১) জনগণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মালিক, জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স, জনগণই একমাত্র সার্বভৌম;
(২) বাংলাদেশের সরকার মানুষের সরকার নহে, আইনের সরকার (Government of laws and not government of men);
(৩) সংবিধান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন, ইহা বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠান ও পদ সৃষ্টি করিয়াছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করিয়াছে;
(৪) জনগণের সার্বভৌমত্ব, প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি এবং সংবিধানের Basic structure;
(৫) গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কোন ধরনের ছেদ (interruption) বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদন করে না;
(৬) সুপ্রীম কোর্ট ইহার Judicial Review এর ক্ষমতাবলে যে কোন অসাংবিধানিক আইনকে অবৈধ ঘোষণা করিতে পারে বা বাতিল (Strike off) করিতে পারে;
(৭) কোন মোকদ্দমার শুনানিকালে কোন আইনের সাংবিধানিকতার প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে সুপ্রীম কোর্ট সে সম্পর্কে নির্লিপ্ত থাকিতে পারে না, আইনের প্রশ্নটি নিরসন করাই সুপ্রীম কোর্টের দায়িত্ব;
(৮) সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে জাতীয় সংসদ সংবিধানের যে কোন সংশোধন করিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কিন্তু রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি ও সংবিধানের Basic structure ক্ষুণ্ন বা খর্ব বা সংশোধন করিতে পারে না;
(৯) সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬, বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধন (amendment) করিয়াছে;
(১০) সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬, রাষ্ট্রের ভিত্তি এবং সংবিধানের Basic structure কে খর্ব করিয়াছে বিধায় উক্ত তর্কিত আইন অসাংবিধানিক ও অবৈধ, সুতরাং বাতিল হইবে;
(১১) বিশেষ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ও কারণাধীনে কোন আইন ভাবীসাপেক্ষ ভাবে (Prospectively) অবৈধ ঘোষণা বা বাতিল করা যাইতে পারে;
(১২) সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবার ক্ষেত্রে, জাতীয় সংসদের বিবেচনা (Discretion) অনুসারে, যুক্তিসঙ্গত কাল (reasonable period) পূর্বে, যথা, ৪২ (বিয়াল্লিশ) দিন পূর্বে, সংসদ ভাঙ্গিয়া দেওয়া বাঞ্ছনীয় হইবে, তবে, নির্বাচন পরবর্তী নূতন মন্ত্রিসভা কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভা সংক্ষিপ্ত আকার গ্রহণ করতঃ উক্ত সময়ের জন্য রাষ্ট্রের স্বাভাবিক ও সাধারণ কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন;
(১৩) সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬, অসাংবিধানিক ও অবৈধ হইলেও জাতীয় সংসদ ইহার বিবেচনা (Discretion) ও সিদ্ধান্ত অনুসারে উপরে বর্ণিত নির্দেশাবলী সাপেক্ষে দশম ও একাদশ সাধারণ নির্বাচনকালীন সময়ে প্রয়োজনমত নূতনভাবে ও আঙ্গিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে;
(১৪) সাধারণ নির্বাচনের তপসীল ঘোষণার তারিখ হইতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত নির্বাচনের সহিত প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত এবং নির্বাচন কমিশনের বিবেচনা (Discretion) অনুসারে এমনকি পরোক্ষ ভাবে জড়িত, রাষ্ট্রের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকিবে;
(১৫) বিদ্যমান সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদের শর্ত (Proviso) এর পরিবর্তে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৫৬(৪) অনুচ্ছেদ গণতন্ত্রের স্বার্থে আনায়ন করা প্রয়োজন;
(১৬) ২০০৭ সালে দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৯০ দিন মেয়াদ পরবর্তী অতিরিক্ত প্রায় দুই বত্সর সময়কাল প্রশ্নবিদ্ধ বিধায় ঐ অতিরিক্ত সময়কালের কার্যাবলী মার্জনা (condone) করা হইল।
আদেশ:
অতএব, সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬, ২০১১ সালের ১০ই মে তারিখ হইতে ভাবীসাপেক্ষ ভাবে (Prospectively) অসাংবিধানিক তথা অবৈধ ঘোষণা করা হইল এবং আপীলটি খরচা ব্যতিরেকে মঞ্জুর (allow) করা হইল।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Akas

Akas

২০১২.০৯.১৭ ১২:৫০
২০০৭ সালে দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ৯০ দিন মেয়াদ পরবর্তী অতিরিক্ত প্রায় দুই বত্সর সময়কাল প্রশ্নবিদ্ধ বিধায় ঐ অতিরিক্ত সময়কালের কার্যাবলী মার্জনা (condone) করা হইল।---- কোন ক্ষমতাবলে, আইন কি উহা সমর্থন করে?

Mahbub

Mahbub

২০১২.০৯.১৭ ১২:৫১
এ তো দেখি drama? শুরুতে ভুমিকা (১-৯), এরপর বণনা (১০-১৬), শেষে সারমর্ম। but কোন Basic structure কে খর্ব করিয়াছে তা hidden!!! নাকি নাটকের আর ও পর্ব বাকি আছে?

Farhan Fardin

Farhan Fardin

২০১২.০৯.১৭ ১২:৫৯
গদাই লসকর রায় অবশ্যই বলব। এরকম রায় লেখার জন্য এক বছর ৪ মাসের দরকার নেই, এক জন আওয়ামীলিগের করমী দশ দিনেই লিখে দিতে পারে। দেশের মানুষের কথা ভাবলেন না, ওদের চাওয়া পাওয়ার কি কোনই দাম নেই, রাজনীতিক দলের কাছে চাওয়া পাওয়ার দাম নেই , এখন দেখছি বিচারপতিদের কাছেও সাধারন মানুষের চাওয়া পাওয়া দাম একেবারেই নগণ্য।
সরকার যা চায় তাই যদি পায়, তবে তাই হোক খেলারাম তুই খেলে যা!!! দেশকে নিয়ে।
২০১২.০৯.১৭ ১২:৫৯
wait and see

mizanul hasan

mizanul hasan

২০১২.০৯.১৭ ১৩:০৫
The 10th has been supported by 13th of above judgement,initially seems contradictory but finally it is mandatory.

২০১২.০৯.১৭ ১৩:২৪
বিচারপতি খায়রুল হক জমা দেয়া রায়টি আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন।ফেরত নেয়া রায়ে আবার তিনি স্বাক্ষর করে জমা দিলেন। অবসর গ্রহণের পর কোনো বিচারপতি দীর্ঘদিন ধরে রায় লিখতে পারেননা, অবসর গ্রহণের পর বিচারপতিরা আর শপথের বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকেন না। শপথের মধ্যে না থাকলে কেউ রায় লিখলে সেটির আইনগত ভিত্তি নেই।

Z.Rahman

Z.Rahman

২০১২.০৯.১৭ ১৩:৪০
জনগণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মালিক, জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স, জনগণই একমাত্র সার্বভৌম;
জনগনই যদি মালিক হবে তাহলে গণভোট দিন, কারণ গত নির্বাচনে বর্তমান সরকারের কোনো মেনফেস্ত তে ছিল না যে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করবে. আমি গণভোট চাই .
২০১২.০৯.১৭ ১৩:৪৬
You all will see in future, what is 13, unlucky else lucky 13 for our Great of the Great in the .... of our PM !!!!!

anowar ullah chowdhury

anowar ullah chowdhury

২০১২.০৯.১৭ ১৪:০৩
বাংলাদেশের সরকার মানুষের সরকার নহে, আইনের সরকার। এই লাইনটি ঠিক বুঝলাম না।

jasmin

jasmin

২০১২.০৯.১৭ ১৪:০৫
Hr is agent of indian raw, and dalal of AWAMILIG

Kenayet Mondol

Kenayet Mondol

২০১২.০৯.১৭ ১৪:৩৮
দেশের রাজনৈতিক ক্রীড়াঙ্গনে যে দৌড় ঝাঁপ তাতে সুপ্রিম কোর্টও পিছিয়ে নেই।

Shajol

Shajol

২০১২.০৯.১৭ ১৪:৪৮
এটি একটি রাজনৈতিক রায়, বিচারপতি খাইরুল হক উনি যেহেতু সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, হয়তো এধরণের রায় দেয়টা তার প্রধানবিচারপতি পদে যাবার অন্যতম একটি শর্ত হিসাবে ধরলেও অবাক হবার কিছু নেই, অতএব উনি সরকারের সেই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে দেশের আমজনতার শান্তির কথা বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র আওয়ামিলীগ তথা শেখ হাসিনার মনোবাসনার প্রতিফলন ঘটাতেই এই বির্তকিত রায় প্রদান করেছেন, আওয়ামিলীগকে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় আনার এজেন্ডাকে মাথায় রেখেই এই বির্তকিত রায়টি লেখা হয়েছে, তাই এটাকে গণমুখি নয় একটি সংঘাতপুর্ণ রায় বলা যায়, এটা দেশকে আরো অস্থিতিশীল করে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিবে

golam

golam

২০১২.০৯.১৭ ১৪:৫২
I agreed with this comments and this is true
বিচারপতি খায়রুল হক জমা দেয়া রায়টি আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন।ফেরত নেয়া রায়ে আবার তিনি স্বাক্ষর করে জমা দিলেন। অবসর গ্রহণের পর কোনো বিচারপতি দীর্ঘদিন ধরে রায় লিখতে পারেননা, অবসর গ্রহণের পর বিচারপতিরা আর শপথের বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকেন না। শপথের মধ্যে না থাকলে কেউ রায় লিখলে সেটির আইনগত ভিত্তি নেই।

মোবারাক সরকার

মোবারাক সরকার

২০১২.০৯.১৭ ১৫:০০
বাহ কি সুন্দর! প্রথমে বলা হইল, জনগন সকল ক্ষমতার উৎস। যদি স্বীকারই করলেন তখন এই উৎস সংবিধানের এই সংশোধনটা চায় কিনা তা কি একবার যাচাই করার চেষ্টা করেছেন? নাকি এখানে জনগন বলতে আপনাদের মত দুই একজন আমলা আর সরকারি দলের অন্ধ সমর্থকদের বুঝিয়েছেন?

২০১২.০৯.১৭ ১৫:০৩
বিরোধী দলের ‍আন্দোলনের গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষন করার জন্যই রায়ের এই দীর্ঘসূত্রিতা, ‍আন্দোলনের দূর্বলতা ‍আর ব্যক্তিগত খায়েসের প্রতিফলন ঘটেছে প্রদত্ত রায়ে ।

২০১২.০৯.১৭ ১৫:০৮
বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা একদিন জাগবে সেই জনতা

Mustafiz Rahman

Mustafiz Rahman

২০১২.০৯.১৭ ১৫:০৯
আইন মানুষের জন্য মানুষ আইনের জন্য নয় । স্বাধিনভাবে মত প্রকাশ মানুষের মৌলিক অধিকার । গণতানএিক দেশে ভোটাধিকারের মত অধিকার রক্ষiয় গণমানুষের আখাংকানুযায়ী নতুন ফরমুলায় দরকার তও্ববধায়ক সরকার ।

২০১২.০৯.১৭ ১৫:১০
যদি কেয়ারটেকার সরকার অবৈধ হয় তাহলে বর্তমান সরকার০ অবৈধ

২০১২.০৯.১৭ ১৫:২৮
I agree with Mr. shajol

বাবুল করিম

বাবুল করিম

২০১২.০৯.১৭ ১৫:৩৮
"বাংলাদেশের সরকার মানুষের সরকার নহে, আইনের সরকার"

Md. S.K.Nasim

Md. S.K.Nasim

২০১২.০৯.১৭ ১৬:০৮
Justice delayed justice denied!!!!!!!!!!!!

Mustafiz Rahman

Mustafiz Rahman

২০১২.০৯.১৭ ১৬:০৯
বিশেষ কারো খায়েসের প্রতিফলন ঘটিয়ে দেয়া রায় দেশ এবং জনগণের কল্যান আনবে না ।

Munir Sayid

Munir Sayid

২০১২.০৯.১৭ ১৬:২৩
এমন সংবিধান লেখতে এতদিন লাগার কথা নয়।

Sarder Tanzir Hossain

Sarder Tanzir Hossain

২০১২.০৯.১৭ ১৬:২৯
It has proved again that the partisan covert political interest has been deeply institutionalized in every places of Bangladesh.

Seema

Seema

২০১২.০৯.১৭ ১৬:৪১
It would better, if there were one more clause, - BNP is the source of all power and they will rule the country all the time, no matter whoever wins the election.

২০১২.০৯.১৭ ২২:৩১
এই রায়ে খায়ের ও আছে হক ও আছে। আখেরে দেশের জন্য মঙ্গলই বয়ে আনবে এই রায়। বাতিল কখনও বেশি দিন টেকে না।