বিদ্রোহের নেতৃত্বে সক্রিয় দেখা যায় তৌহিদকে

বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ১৭-০৯-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
হাসান মাহমুদ খন্দকার

হাসান মাহমুদ খন্দকার

বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানায় সংঘটিত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার। আদালতে তিনি বলেছেন, বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহী জওয়ানরা ডিএডি তৌহিদকে তাঁদের মহাপরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে সক্রিয় দেখা যায়।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। দায়রা জজ জহুরুল হক এজলাসে আসার পর প্রথমে একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষ্য দেন। পরে বেলা সোয়া ১১টায় সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন হাসান মাহমুদ খন্দকার। বিডিআর বিদ্রোহের সময় র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। দুপুর দেড়টায় জেরা শেষ হয়।
হাসান মাহমুদ খন্দকার আদালতে বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে র্যাব সদর দপ্তর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে আসছিলাম। এ সময় র্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শামসুজ্জামান আমাকে মোবাইল ফোনে জানান, পিলখানায় গণ্ডগোল হচ্ছে। আমি বিষয়টি মোবাইল ফোনে আইজি মহোদয়কে অবহিত করি। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে চলমান ঘটনা সম্পর্কে আইজির সঙ্গে আলোচনা করি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে র্যাব সদস্যারা পিলখানার আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় পিলখানার ভেতর থেকে গুলি হচ্ছিল। বেলা সাড়ে ১১টায় সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দল জিগাতলায় অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার পর থেকে বিডিআর সদস্যরা ভারী অস্ত্র মোতায়েন করায় পিলখানার ভেতরে র্যাবের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।’
পুলিশের আইজি আদালতে আরও বলেন, ‘বেলা সাড়ে চারটার দিকে মৌখিক নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনায় যাই। ওই সময় ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বাধীন ১২-১৪ জন বিডিআর সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনারত ছিলেন। আলোচনা শেষে তাঁদের বের হয়ে যেতে দেখি। আলোচনায় আত্মসমর্পণ করার বিষয়ে একটা সমঝোতা হয়েছে বলে জানতে পারি। রাত ১২টার দিকে বিডিআর সদস্যরা আত্মসমর্পণে রাজি হন। এরপর রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও আইন প্রতিমন্ত্রী পিলখানার ভেতরে ঢোকে। ভোর চারটায় তাঁরা বেরিয়ে আসেন।’
হাসান মাহমুদ খন্দকার আদালতে বলেন, ‘বিদ্রোহী জওয়ানরা ডিএডি তৌহিদকে তাঁদের মহাপরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁকে নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সক্রিয় দেখা যায়।’
পুলিশের আইজি আদালতে বলেন, বেলা একটা থেকে র্যাবের সদস্যারা মাইকিং করে জনগণকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলেন। তাঁরা পলায়নরত বিডিআর সদস্যদের আটক এবং পিলখানা থেকে লুট করা মালামাল উদ্ধার করেন।
আইজি তাঁর জবানবন্দিতে কেবল ডিএডি তৌহিদের নাম উল্লেখ করেন। এরপর তৌহিদের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম তাঁকে জেরা করতে শুরু করেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ হয়। ওই বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন নিহত হন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন