তথ্যপ্রযুক্তি

তার আগে চাই ব্রডব্যান্ড

মুনির হাসান | তারিখ: ২৩-০৯-২০১২

  • ২৩ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ইন্টারনেট এখন মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। তা আমরা মানি বা না মানি, আমাদের কাজকর্মে আমরা সেটাকে প্রতিষ্ঠা করে চলেছি। এই যেমন কদিন আগে জানা গেল, সরকার সারা দেশের ২০ হাজার ৫০০ বিদ্যালয়ে এজ মোবাইল মডেম দিচ্ছে, অর্থাৎ ইন্টারনেট সেবা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে প্রশ্ন অন্য জায়গায়। সবাই কমবেশি জানেন, এজ মডেম হলো এখনকার ইন্টারনেটের সবচেয়ে কম গতির প্রতীক। অনেকে বলবেন, আমাদের সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নেই, তাই এ কাজটি করা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য, এই বিদ্যালয়গুলোর একটি অংশ এমন সব জায়গায় অবস্থিত, যেখানে ইচ্ছে করলে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা সম্ভব। অনেক স্কুলে রয়েছে ল্যান্ডফোন এবং সেখানে রয়েছে বিটিসিএলের এডিএসএল সংযোগের সুবিধা। অনেক স্থানেই আমাদের আইএসপিগুলো ব্রডব্যান্ডের ব্যবস্থা করতে পারে। আর বেশ কিছু শহরে এখন ওয়াইম্যাক্সের সুবিধা রয়েছে।
এরই মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে যুক্তরাজ্যে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক চালুর খবর। পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক মোবাইল ফোনে গ্রাহককে দ্রুতগতির ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। তার মানে কেবল ইন্টারনেট থাকাটা দরকার নয়, দরকার ‘দ্রুতগতি’ বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।
মোবাইলের নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ, গতি, দ্রুতগতি, নেটওয়ার্কে ঢোকার কায়দা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে মোবাইল-সেবাকে কয়েকটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়। আমাদের দেশের মোবাইল-সেবা দ্বিতীয় প্রজন্মের। মোবাইলেও ইন্টারনেট-সেবা চালু রয়েছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইলে যেসব মোবাইল ইন্টারনেট-সেবা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জিপিআরএসের সর্বোচ্চ গতি হলো সেকেন্ডে ১১৫ কিলোবাইট এবং এজের সর্বোচ্চ ২৩৭ কিলোবাইট। তবে তা আদর্শ অবস্থায়। বাস্তবে এই গতি অনেক কম।
মোবাইলের পরের প্রজন্মটি তৃতীয় প্রজন্ম। এই প্রজন্মে প্রযুক্তির হেরফের ঘটিয়ে সেকেন্ডে সর্বনিম্ন ৪০০ কিলোবাইট থেকে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৯ মেগাবাইট (এক হাজার কিলোবাইটে এক মেগাবাইট) পর্যন্ত গতি পাওয়া যায়। আমাদের অপারেটরদের প্রায় সবাই এই প্রজন্মে সহজে মাইগ্রেট করতে পারবে, যার গতি হবে ১ দশমিক ৬ মেগাবাইট ডাউনলোড ও ৫০০ কিলোবাইট আপলোড!
আর যুক্তরাজ্যের যে খবরটি আমরা পড়লাম, সেটি হলো চতুর্থ প্রজন্মের। তাত্ত্বিকভাবে এতে ৩০০ মেগাবাইট পর্যন্ত গতির ইন্টারনেট সম্ভব। এর মধ্যে ২০০৯ সালে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে লং টার্ম ইভালুয়েশন ঘরানার চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ব্রডব্যান্ড চালু হয়েছে। এর গতি কমপক্ষে ১০০ মেগাবাইট।
এ তো গেল মোবাইল বা তারহীন ইন্টারনেটের কথা; আমাদের তারযুক্ত ইন্টারনেটের অবস্থা কেমন। ২০০৫ সালে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে আমরা দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হলেও সাবমেরিন কেবলের ক্ষমতার একটি ক্ষুদ্র অংশ আমরা ব্যবহার করতে পারছি। কেবল এই সরকারের আমলেই প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ডউইডথের দাম ৩৮ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আমাদের ইন্টারনেটকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে অবকাঠামো দরকার, সেটা সেভাবে গড়ে তোলা হয়নি। ফলে একমাত্র বিটিসিএল ইচ্ছে করলেই দেশের বেশির ভাগ স্থানে এডিএসএল প্রযুক্তি (টেলিফোন লাইনের ওপর দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ) ব্যবহার করে উচ্চগতির সুবিধা দিতে পারে। তবে, ঢাকার বাইরে অধিকাংশ ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ হওয়া সত্ত্বেও এই সেবা গ্রহণের হার খুবই কম। এবং আমরা এও পরিষ্কার করে জানি, যেভাবে বিটিসিএল আমাদের সবাইকে টেলিফোন দিতে পারেনি, সেভাবে তারা সবাইকে এডিএসএলের মাধ্যমে ইন্টারনেটও দিতে পারবে না। কাজেই আমাদের ভরসা হলো বেসরকারি অপারেটর।
সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছতে হলে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সংযোগ আইএসপি হয়ে আমাদের বাসাবাড়িতে আসে। মাঝখানে এনটিটিএন লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান আবার নতুন করারোপ করে। ফলে, প্রথম চোটেই আইএসপিদের মেগাবাইট-প্রতি খরচ বাড়ে। আবার এই খাতে গোদের ওপর বিষফোড়া হলো ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর। অথচ বিদ্যুতের ওপর মূসক কিন্তু ৫ শতাংশ! কয়েক বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রায় সব সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে মাথা ফাটিয়ে এই খাতের ভ্যাট শূন্য বা ন্যূনতম ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারেনি! অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন নামের এই প্রতিষ্ঠানটির নানামুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে টেলিযোগাযোগ তথা ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসার ঘটার কথা। তবে নামের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে কিনা জানি না, এটির কাজকে কখনো উন্নয়নের সমার্থক হিসেবে দেখা গেল না। সিঙ্গাপুরে এই কাজ যে সংস্থাটি করে, সেটার নাম ইনফরমেশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আইডিএ)। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগ কাঠামোর জন্য এক ‘অদ্ভুত’ জিনিস চালু করে। বিশ্বব্যাপী যেখানে ভয়েস, ডেটা এবং ভিডিওকে একীভূত করার জোয়ার শুরু হয়েছে, সেখানে কৃত্রিমভাবে ভয়েস আর ডেটাকে আলাদা করার একটি ‘তরিকা’ বের করা হয়। এই তরিকা মোতাবেক কাজ করতে গিয়ে দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগে শুভংকরের ফাঁক—ভয়েস ওভার আইপি বা ভিওআইপি বের হয়। এর পর থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ কমিশন এই ভিওআইপি বন্ধ করার জিহাদি ভূমিকায় নেমে পড়ে। ফলে অন্যান্য কাজ, যা বিটিআরসির করার কথা, সেগুলোর জন্য তারা সময় কম পেতে থাকে। এর মধ্যে কিন্তু বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির বিশাল উল্লম্ফন ঘটতে থাকে। মোবাইল যোগাযোগ দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে তৃতীয় প্রজন্ম হয়ে চতুর্থ প্রজন্মান্তরে প্রবেশ করে। কিন্তু আমাদের বিটিআরসি থেকে যায় ভিওআইপি ঠেকানোর পুলিশি ভূমিকায়। ফলে ঝুলে যায় দেশে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল-সেবা চালু করার কাজ।
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কারণ, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে সরকার আইসিটি নীতিমালা, ২০০৯ এবং জাতীয় ব্রডব্যান্ড পলিসি, ২০০৯ প্রণয়ন করে। কিন্তু অচিরেই বিটিআরসি তার পুরোনো পুলিশি কাজে ফেরত চলে যায়। ফলে চার বছর হতে চললেও দেশে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল-সেবার কোনো সুরাহা হয়নি। ‘পাইলট’ করার নাম করে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের হাতে তৃতীয় প্রজন্মের লাইসেন্স তুলে দেওয়া হয়েছে, যাদের মোট গ্রাহকের সংখ্যা সম্ভবত দেশে মোট মোবাইল গ্রাহকের ২ শতাংশও নয়! আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা এখন বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবহূত হচ্ছে। সেটির তথাকথিত ‘পাইলট’ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে আমাদের যারা তারওয়ালা ইন্টারনেট সেবাদানকারী সংস্থা, তাদের পক্ষে গ্রামাঞ্চলে কিংবা পিছিয়ে পড়া শহরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট-সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না খরচের কারণে। অথচ, তৃতীয় প্রজন্মের ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রি করে সেই টাকায় দেশের আনাচ-কানাচে দ্রুতগতির ইন্টারনেট-সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া যেত।
একুশ শতকের একজন মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশে ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো ব্রডব্যান্ডও এখন মানুষের মৌলিক চাহিদা হিসেবে দেশে দেশে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। আমাদের দেশেও যাদের ব্রডব্যান্ড আছে, তাদের বিকাশ যাদের ব্রডব্যান্ড নেই, তাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই কারণে গণমানুষের চাহিদার বড় অংশজুড়ে ইন্টারনেট।
বিশ্বব্যাপী এ ব্যাপারটি এখন সর্বজনীন স্বীকৃতি পেয়েছে। আর তা পেয়েছে বলেই ইন্টারনেটে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক টিম বার্নাস লি একটি নতুন সূচক বের করছেন, যার মাধ্যমে দেশের এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বের করা যায়। এর মাধ্যমে একটি দেশের ডিজিটাল হওয়ার প্রক্রিয়ার স্থান নির্ণয় করা যায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ পড়ে রয়েছে অনেক পেছনে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নেপালের মতো দেশও আমাদের ছাড়িয়ে গেছে (৫২তম স্থানে)। অনেক এগিয়ে গেছে পাকিস্তান (৪৪), তার থেকেও অনেক এগিয়ে গেছে ভারত (৩৩)। ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সমাজ-রাজনীতিতে এর প্রভাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৬১টি দেশের মধ্যে ৫৫তম। আর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমরাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ।
মানুষের নিজের বিকাশের এই চমৎকার হাতিয়ারটি কী করে সবার হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটি কি আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কখনো দেখতে পাবেন না?
মুনির হাসান: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি!

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Md. Ariful Islam

Md. Ariful Islam

২০১২.০৯.২৩ ০৫:৪৩
একদম মনের কথা লিখেছেন। আমরা চাই সরকার এ বিষয়ে দ্রুত নজর দিক, যাতে আমরা দ্রুত সামনের দিকে এগোতে পারি। এমনিতেই আমরা অনেক পিছিয়ে।

Liton Biswas

Liton Biswas

২০১২.০৯.২৩ ০৬:৪৫
I think govt should approve the VOIP

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

২০১২.০৯.২৩ ০৮:৫৩
প্রথমে এব্যাপারে লেখার জন্যে আমি মুনির হাসান (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি) আপনাকে জানাই আমার পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অ্যানালগ ইন্টারনেট। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্লোগানে পরিণত হয়েছিল। ভবিষ্যৎমুখিন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী মানুষেরা, বিশেষত তরুণসমাজ সরকারের এই ঘোষণায় বেশ উদ্দীপনা বোধ করেছিল। কারণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অনেক অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে অল্প সময়ের মধ্যে উন্নয়নের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে—এমন দৃষ্টান্ত আমাদের সামনেই রয়েছে। আমাদের দেশে ইন্টারনেটের গতি খুব মন্থর। প্রচুর অর্থ খরচ করেও ব্যবহারকারীরা যথেষ্ট গতি পাচ্ছেন না। এর কারণ, উচ্চগতির প্রযুক্তি-অবকাঠামোর প্রসার যতটা সম্ভব, ততটা ঘটেনি। যথেষ্ট মাত্রার ব্যান্ডউইডথ অব্যবহূত পড়ে রয়েছে। বিটিআরসির অধিকতর মনোযোগ মোবাইল টেলিফোন খাতের দিকে; কিন্তু সেটিও পড়ে রয়েছে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি নিয়ে। নেপালের মতো দেশেও তৃতীয় প্রজন্মের ব্রডব্যান্ড (থ্রিজি) সেবা চালু হয়েছে, অথচ বাংলাদেশে থ্রিজি চালু করার উদ্যোগ নেই। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশনের একটি জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সমাজ-রাজনীতিতে এর প্রভাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৬১টি দেশের মধ্যে ৫৫তম। আর দক্ষিণ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমরাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ। কেন আমরা এমন পিছিয়ে রয়েছি? সেটি কি আমাদের নীতিনির্ধারকেরা অনুগ্রহ করে দেখবেন? মানুষের নিজের বিকাশের এই চমৎকার হাতিয়ারটি কী করে সবার হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার।

Md. Ebrahim Hossain

Md. Ebrahim Hossain

২০১২.০৯.২৩ ০৯:০৭
সভ্য ভাষায় মন্তব্য করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাচ্ছে । সরকার ডিজিটাল ধোয়া তুলে ক্ষমতায় আসার পর অন্তত এই ক্ষেত্রে শুন্য অগ্রগতি হয়েছে। যেসব মন্ত্রী-আমলা-কর্তাব্যক্তিরা এই বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা আসলে এ বিষয়ে যে কোন কাজেরই না তা প্রমানিত হলো। আমাদের সরকার প্রধানেরও এ বিষয়ে কোনই ভ্রুক্ষেপ নেই । এখনও মোবাইল অপারেটরগুলো তাদের খেয়াল খুশিমত যাচ্ছে-তাই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে বিনিময়ে যেমন খুশি দাম হাকছে। আর থ্রি জি আসলে কবে চালু হবে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেনা। ২০১০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অন্তত বিশবার সময় বদল করে আমাদের সাথে প্রতারণা অব্যহত রেখেছে।

Raaz Ghosh

Raaz Ghosh

২০১২.০৯.২৩ ০৯:৩৭
'ডিজিটাল বাংলাদেশ' নিয়ে এত মাতামাতি হচ্ছে..অথচ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' সম্পর্কিত বেশিরভাগ ব্যানারগুলোই হাতে লেখা! এই হল বাংলাদেশের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' কর্মসূচী।

monir

monir

২০১২.০৯.২৩ ০৯:৪২
বত'মান সরকার প্রতি মেগাবাইট ব্যান্ড-উইডথের দাম ৩৮ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে, অথচ মোবাইল কোং গুলো ইন্টারনেট সাভি'সের দাম কমাচ্ছে না। মোবাইল কোং গুলো জনগনের সাথে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার পরিবতে' রিতিমত ডাকাতি শুরু করছে। স্লো ইন্টারনেট সাভি'স কিন্তু অত্যন্ত চড়া মূল্য, তার উপর ১৫% ভ্যাট। ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ইন্টারনেট সাভি'স এর উপর ৫% ভ্যাট ধায' করা হোক।

md.shazzadur rahman

md.shazzadur rahman

২০১২.০৯.২৩ ১০:১৭
একদম মনের কথা লিখেছেন।

A.B.M. Mehedi Hasan

A.B.M. Mehedi Hasan

২০১২.০৯.২৩ ১০:২৫
দারুণ লেখা, সাধুবাদ রইল। পড়ে ভাল লাগলো।

২০১২.০৯.২৩ ১০:৩২
Seems that Govt. Policy is the first barier to the development.

২০১২.০৯.২৩ ১০:৩২
Seems that Govt. Policy is the first barier to the development.

মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন (মিঠু)

মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন (মিঠু)

২০১২.০৯.২৩ ১০:৩৫
লেখক মহোদয়কে ধন্যবাদ তথ্যবহুল ও জ্ঞানগর্ভ লিখাটির জন্য।

২০১২.০৯.২৩ ১১:৩৭
আমার ধারনা, এই সরকারের মন্তরি ও সচিব রাও সমভবত ইন্টারনেটর বেন্ডউইথ আর ইসপিড কি জানে না, জানলে ইন্টারনেটের আজ এই আবসতা হতো না।

২০১২.০৯.২৩ ১১:৪৬
‍এসব ধানাই পানাই বাদ দিয়ে ১০০/- ‍আনলিমিটেড ইউজেস(1MBPS) ‍ইন্টারনেট গ্রাম পর্যন্ত নিশ্চিত করুন,দেশের অর্থনীতি পাল্টে যাবে, ‍এটা খুব ‍একটা কঠিন কাজ নয়, ব্যয় বহুলও নয়।

Meftah Uddin

Meftah Uddin

২০১২.০৯.২৩ ১২:০৪
আমি গত ৩ মাস আগে এ ডি সি এল লাইন চেয়ে এখনও কেন কিছু খবর পেলাম না? এর উত্তর কে আমাকে দিবে? হাইরে বাংলাদেশ? হাইরে সরকারি নামধারি পাবলিক কম্পানি?

ayub

ayub

২০১২.০৯.২৩ ১২:০৭
I want a broadband internet connection in my home at Bakhtapur, Fatickchari, Chittagong. Can govt. help me to get the line?

Md. Lutfar Rahman

Md. Lutfar Rahman

২০১২.০৯.২৩ ১২:৪৬
অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এই মূল্যবান লেখাটির জন্য। আমি ব্যাক্তগত ভাবে সৌদি প্রবাসী আর এখান যেটা দেখতে পাই আমি যদি আমার নিজের পরিচয় পত্রের উপরে আকটি ল্যান্ডফোন নিতে চাই তাহলে সৌদি টেলিকোমের নির্ধারিত একটি নাম্বারে আমার মোবাইল থেকে ফোন করে বললে ৫ মিনিটের মধ্যে তারা আমাকে আমার ল্যান্ডফোনের নাম্বার একটিভ করে দিয়ে বলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার সংযোগ পাবেন এবং সত্যই পরের দিন সংযোগ দিয়ে যায় তাদের লোক এসে। সংযোগের সময় একটা পয়সা দিতে হয় না। অথচ দেখুন আমাদের দেশে আমি যদি একটা ফোন নিতে চাই তাহলে কত যায়গায় দৌড়াতে হয় এ স্যারকে ১০০০ আরেক স্যারকে ২০০০ এভাবে দিয়ে তারপরো কতদিন লেগে যায়। আমার কথা হলো আমরা কি কোনদিনই পারব না সত মানুষ হতে? আমরা কি কোন দিনই পারব না দূর্নীতি মুক্ত হতে আমাদের শিক্ষাই কি দূর্নীতি? আর আমাদের দেশ যারা চালান তাদেরকে তো আমরা পরখ করে অনেক দেখলাম তারা তো একই সুত্রে গাথা/ একই গুরুর শির্ষ্য। তাহলে আমরা নিজেরাই কি দায়ি নই আমাদের এই পরিস্থিতির জন্য কারণ আমরাই তো তাদের দিচ্ছি আমাদের অভিভাবকের দ্বায়িত্ব। আমরা কি পারি না এটা থেকে আমাদের মুক্ত করতে আমরা কি পারি না চিন্তা ভাবনা করে আমাদের অভিভাবক বানাতে। আমাদের এটাই সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবার না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কিনতউ আমাদের মতই পস্তাবে। তাই আসুন আমরা সবাই এগিয়ে আসি। সবাই যোগ্য অভিভাবক খুজে েনবার চেষ্টা করি। হয়ত আজ না হয় কাল আমরা সার্থক হব। খুজে পাব আমাদের যোগ্য অভিভাবক।

ধন্যবাদ সবাইকে

md.shazzadur rahman

md.shazzadur rahman

২০১২.০৯.২৩ ১৩:০৫
আমি যে মন্তব্য লিখেছি তার দশভাগের একভাগ এর আগের মন্তব্যে ছাপানো হয়েছে । যদি আপনাদেরই চিন্তার প্রকাশ ঘটাতে চান তাহলে পাঠকদের মন্তব্যের দরকার ?

Md.Abdul Wahab

Md.Abdul Wahab

২০১২.০৯.২৩ ১৩:১১
নেপালের মতো দেশেও তৃতীয় প্রজন্মের ব্রডব্যান্ড (থ্রিজি) সেবা চালু হয়েছে, অথচ বাংলাদেশে থ্রিজি চালু করার উদ্যোগ নেই। এ বিষয়ে দ্রুত নজর দিক, যাতে আমরা দ্রুত সামনের দিকে এগোতে পারি।

Md Faruk Hossain

Md Faruk Hossain

২০১২.০৯.২৩ ১৩:৪৫
এই সরকার খরগোশ এবং কচ্ছপ এর গল্প থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তারা মনে-প্রানে বিশ্বাস করে ধীরগতিই বিজয়ের মূলমন্ত্র। ইন্টারনেট গতির ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর চেয়ে একশগুন পিছিয়ে থেকেও তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখছে। তামাশা আর কাকে বলে!

Tanvir

Tanvir

২০১২.০৯.২৩ ১৪:০১
লেখককে অনেক ধন্যবাদ একটি সময় উপযোগী লেখা লেখার জন্য। অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করি সরকার এই বিষয়টাতে খেয়াল করবে।

akram

akram

২০১২.০৯.২৩ ১৪:১৬
অনেক কষ্ট করে একটি মন্তব্য লিখেছিলাম কিন্তু প্রখমআলো ছাড়পত্র দেয়নি। মন্তব্য প্রকাশে যদি এতো ভয় তা হলে এ অপশনটি উঠিয়ে দিলেই হয়।

ইমরুল

ইমরুল

২০১২.০৯.২৩ ১৬:০৭
লেখাটির জন্য মুনির স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আমি এডিএসএলের ইন্টারনেট ইউজ করি। অন্যদের তুলনায় স্পীড ভালই বলা যায়। তবে এতেও প্রচুর সমস্যা। একটু পরপর কানেকশন চলে যায়। মাঝে মাঝে ঘন্টায় ৮-১০ বারও চলে যায়। আবার লাইন চলে গিয়ে একাধারে অনেকক্ষন থাকে না। মাঝে মাঝে টানা দুই- তিন দিনও থাকে না :(
এডিএসএলে আরো সমস্যা আছে, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে বাসা বাড়ির দূরত্ব বেশি হলে সিগনাল ভাল পাওয়া যায় না সো ইন্টারনেটও পাওয়া যায় না। বিটিসিএল যদি টেলিফোন লাইন অপটিক্যাল ক্যাবল দিয়ে দিত তাহলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

বিটিসিএল এডিএসএলের লাইসেন্স দিয়েছে শুধু মাত্র একটি কোম্পানিকে (এমেম সিস্টেম)। সো তারা খুব সহজেই মনোপলি করতে পারছে। আমি শুনেছি এমেম সিস্টের মালিক একজন সামরিক কর্মকর্তা। কেয়ার টেকার গর্ভমেন্টের সময় তিনি লাইসেন্স হাতিয়ে নেন। ইন্টারনেট ব্যবসার তাদের কোন অভজ্ঞতাও নাই। যার ফলাফল ভোগ করছি আমরা সাধারণ গ্রাহকেরা। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও ভাল ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছি না। তাদের কাস্টোমার কেয়ার সেন্টারের কথা কি আর বলব। ফোন দিয়ে ঠিকমত পাওয়া যায় না। সমস্যার কথা বলবে বেশির ভাগ সময়ই সমাধান দিতে পারে না।

কিছুদিন আগে আমার টানা কয়েকদিন কানেকশন ছিল না। কাস্টোমার কেয়ার ফোন দিয়ে কোন সমাধান পাচ্ছিলাম না। তখন আমি তাদের বললাম, "লাইন এমন করলে তো আমি আপনাদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারব না"। তখন কাস্টোমার কেয়ার প্রতিনিধি আমাকে বলল,"ঠিকাছে আপনি অন্য লাইন নিতে পারেন"।
আমি অন্য লাইন নিতে পারি নি কারণ আমার এলাকাতে এখনো ওয়াইম্যাক্স কিংবা আর কোন ব্রডব্যান্ড নেই। যেই দিন আমার এলাকায় ওয়াইম্যাক্স আসবে সেই দিনই এই বিরক্তিকর এডিএসএল লাইন বাদ দিব। এখন অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ব্যাকআপ হিসাবে মোবাইল ইন্টারনেট চালু রাখতে হচ্ছে।
আমি যেহেতু আউটসোর্সিং করি তাই সব সময়ই ইন্টারনেট সচল রাখতে হয়। তা নাহলে ক্লাইন্ট বিরক্ত হবে পরবর্তীতে আর কাজ দিবে না।

SHEIKH TANVIR AHMED RAJU

SHEIKH TANVIR AHMED RAJU

২০১২.০৯.২৩ ২০:২৪
thank u monir hasan sir for writing about a important matter. i just want to share something about internet using price where bangladesh mobile operator charging for 1 GB with slow 2G internet speed 345 taka on other hand unlimited internet with 3G high speed net united kingdom (UK) only charged 4 pound (about 450 taka ) . some time i thinking where our future going on... , can u we change ??