আগাম নির্বাচনের কথাও ভাবছে সরকার
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে চিন্তাভাবনা চলছে। আর আগাম নির্বাচন দেওয়ার ক্ষেত্রে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল বা মে মাসকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের ভেতর-বাইরের অনেকে মনে করছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতার মামলার রায় হতে পারে। আর তাতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি উজ্জীবিত হবে, সরকারের জনপ্রিয়তাও বাড়বে। আর তা কাজে লাগিয়ে স্বাধীনতার মাস মার্চে আগাম নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টি চিন্তায় আছে। তবে মার্চে সম্ভব না হলে এপ্রিল বা মে মাসে তা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তাও প্রথম আলোকে জানান, এ সময়ে আগাম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন।
মহাজোটের শরিক দলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, সরকার মনে করছে, বিরোধী দল এখনো সংগঠিত নয়। আগাম নির্বাচন দিলে তারা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে না।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, তাঁরাও নানাভাবে তথ্য পাচ্ছেন, সরকার হঠাৎ আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে দিতে পারে, যাতে বিএনপি প্রস্তুতি নিতে না পারে।
বিএনপির নেতারা জানান, ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সম্প্রতি দলীয় এক সভায় তাঁর নেতা-কর্মীদের আগাম নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এরশাদ এ-ও বলেছেন, প্রধান বিরোধী দল যাতে সংগঠিত হতে না পারে, মূলত এ কারণেই সরকার আগাম নির্বাচন দিতে পারে। গণমাধ্যমে এরশাদের এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি আরও বেশি করে বিবেচনায় নিয়েছেন বিএনপির নেতারা। এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বলেছেন, সরকার দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে। তা হতে দেওয়া হবে না।
অবশ্য মহাজোট সরকারের আরেক শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আগাম নির্বাচনের ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেছেন, ‘আগাম নির্বাচন হলে হয়তো এরশাদ সাহেবের সুবিধা। এ কারণে তিনি এ ধরনের কথা বলে থাকতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগের ভেতরে এ নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, তাঁর দল গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তাঁরা সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান।
এদিকে গত সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ বলেছেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে যেকোনো সময় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। তিনি এ-ও বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কিছু সামগ্রী আছে, যা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এগুলো আসতে ছয় মাসের মতো সময় লাগে। সেসব সামগ্রীও ইতিমধ্যে আনা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগাম নির্বাচন দিক আর যা-ই দিক, তা নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে। তা না হলে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’ তিনি এ-ও বলেন, ‘সাজানো নির্বাচন করতে সরকারের নীলনকশার কথা আমরা জানি, এটা মোকাবিলা করার সামর্থ্য বিএনপির আছে।’
বর্তমান জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, আগামী বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদেও (১৯৯৬-২০০১) শেখ হাসিনা আগাম নির্বাচন দিতে চেয়েছিলেন—এমন তথ্য এবার আলোচনায় এসেছে। তখন তিনি এ ব্যাপারে মদিনা শরিফে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় চাপে শেষ পর্যন্ত আগাম নির্বাচনের চিন্তা থেকে সরে আসতে হয় তাঁকে।
সরকারঘনিষ্ঠ একাধিক মহল থেকে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত যে চিন্তা-পরিকল্পনা, তাতে আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার সম্ভাবনা নেই। সে ক্ষেত্রে পুলিশ, বিডিআর, র্যাব, আনসার মোতায়েন করে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়, সে জন্য বিভাগ ধরে একাধিক দিনে ভোট গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, আগাম নির্বাচন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কী কী ধরনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







MUHAMMAD
২০১২.০৯.২৩ ০৩:৩৮Tajerul islam sadhin
২০১২.০৯.২৩ ০৫:৩৬রাসেল
২০১২.০৯.২৩ ০৭:৫৮alamin
২০১২.০৯.২৩ ০৮:৩১rana
২০১২.০৯.২৩ ০৯:২৫Md.Shajidul Islam
২০১২.০৯.২৩ ০৯:৫৭sayed Ahmed
২০১২.০৯.২৩ ১০:০৬Syeed Mahdi
২০১২.০৯.২৩ ১০:৪০
২০১২.০৯.২৩ ১০:৫১mahfuza bulbul
২০১২.০৯.২৩ ১০:৫৬s rahman
২০১২.০৯.২৩ ১১:০১Akas
২০১২.০৯.২৩ ১১:০৪Mohammad Shah Alam
২০১২.০৯.২৩ ১১:১৪Mahtaf Hossain
২০১২.০৯.২৩ ১১:১৭বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নিজের কৃতকর্মের জন্যই (জনগণকে সবচেয়ে যা বেশী প্রভাবিত করে, সেই দ্রব্যমূল্য ও বিভিন্ন সেবা-মূল্যের উর্ধগতি এবং আইন-শৃঙ্খলার চরম অধঃগতি, আর সেই সাথে সাগর-রুনি হত্যা, ইলিয়াস আলী গুম ইত্যাদির কূল-কিনারা করতে না পারা, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী, কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের নামে নয়ছয়, পদ্মাসেতুর দুর্নীতি, রেল মন্ত্রণালয়ের কালো বেড়ালের দুর্নীতি, ডেসটিনি ইত্যাদির মানুষ ঠকানো, সর্বশেষ হলমার্ক ইত্যাদি কোম্পানীর সরকারী ব্যাংগুলো ডাকাতি ও তার সাথে সরকারের কারো কারো যুক্ত থাকা, ড. ইউনুসসহ মানী ব্যক্তিদের অপমান ইত্যাদি মোটা দাগের অঘটন) ডুবতে বসেছে, সাধারণ মানুষ তো বিরুদ্ধে গেছেই, আমার জানামতে, অনেক বিচারবুদ্ধি-সম্পন্ন আওয়ামী লীগ সমর্থকও মানসিকভাবে সমর্থন প্রত্যাহার করে বসে আছে ; তবে এ-ক্ষেত্রে বিএনপি বা অন্য কোন দলের তেমন কোন কারিশমা নেই। এখন `আগাম নির্বাচন' বা `বাসী নির্বাচন' যা-কিছুই তারা করুক না কেন, তাতে জনগণের স্বাভাবিক নিরপেক্ষ ভোট প্রয়োগে, জোটবদ্ধভাবে হোক বা এককভাবে হোক, আওয়ামী লীগের পরবর্তী বারে রাষ্ট্র-ক্ষমতায় আসার আর কোন সুযোগ দেখছি না, বরং ভরাডুবি হওয়ার আশঙ্কাই প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
পাতানো নির্বাচনের যে ছক তারা একেছে, তা বাস্তবায়ন করতে পারলে, তা ভিন্ন কথা, তবে আমাদের আমজনতার বিচারে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে হয়ত তারা ক্ষমতা আকড়ে কিছুদিন ধরে রাখতে পারে, কিন্তু আখেরে তারা আরো বেশী বেশী ডুববে।
Mridul Raihan
২০১২.০৯.২৩ ১১:৪৪
২০১২.০৯.২৩ ১১:৫৭
২০১২.০৯.২৩ ১২:০৪ayub
২০১২.০৯.২৩ ১২:১৩Md Ejabul Haque
২০১২.০৯.২৩ ১২:২৬Md. Luthfur Rahman
২০১২.০৯.২৩ ১২:৫২Ripon Paul Sku
২০১২.০৯.২৩ ১২:৫৭Faisal
২০১২.০৯.২৩ ১৩:০৪বিএনপি এখন নির্জীব, নিষ্ক্রিয় বটে, কিন্তু মহাজোটের এতোটা আত্মবিশ্বাস নেই যে, তাদের অধীনে আগাম নির্বাচন হবে আর জনগণ সদলবলে তাদের ভোট দেবে।তাহলে ডিসিসি নির্বাচন দিয়ে তারা অনেক আগেই ঢাকার রাজনৈতিক ময়দান নিজেদের কবজা করে নিত।
T Alahee
২০১২.০৯.২৩ ১৩:১৬mahfuza bulbul
২০১২.০৯.২৩ ১৩:১৬আগাম নির্বাচন করে,
হয়তো গণতন্ত্রের আলখেল্লা পরে নয় ,
পুরাদস্তুর স্বৈরশাসকের বেশে !
Mohammad Nuruddin Jahangir
২০১২.০৯.২৩ ১৩:২৪Ripon Paul Sku
২০১২.০৯.২৩ ১৩:৩২Raihan
২০১২.০৯.২৩ ১৩:৫৪Nahian Salehin
২০১২.০৯.২৩ ১৬:৫৪tushar
২০১২.০৯.২৩ ১৯:৩২