পদ্মা সেতু প্রকল্প

কাজ দ্রুত করতে টাস্কফোর্স গঠনের পক্ষে অন্য দাতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৩-০৯-২০১২

  • ৪ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেবে সহ-অর্থায়নকারী দাতা সংস্থাগুলো।
কারণ হিসেবে দাতা সংস্থাগুলোর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের কিছু কাজে বিশ্বব্যাংক একক অর্থায়নে করবে, আবার বেশ কিছু কাজ হবে সব দাতার যৌথ অর্থায়নে। তাই পুরো প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে এ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে কোন প্রক্রিয়ায় পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের পর।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দলের আজ-কালের মধ্যেই ঢাকায় আসার কথা। সংস্থার ঢাকা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন থেকে আসা প্রতিনিধিদলটি অর্থমন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদকের একটি বিশেষ তদন্ত দল নিয়োগ করার কথা। এই দলের তদন্তসংশ্লিষ্ট সব তথ্যের পূর্ণ ও পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের নিয়োগ করা একটি প্যানেলের কাছে। এ জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে জানা গেছে।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল আশুলিয়ায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার অর্থ এই নয় যে, খুব শিগগির এর কাজ শুরু হবে। কিছু প্রক্রিয়াগত, পদ্ধতিগত এবং কারিগরি বিষয় রয়েছে, যা সুরাহা করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের আজ রোববার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা বক্তব্য দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল শনিবার মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বার্ষিক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমি পদ্মা সেতুর বিষয়ে কিছু বলব না। কথা বলতে পারি কালকে।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সঙ্গে আলোচনা করে অর্থমন্ত্রী পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিবৃতি দেবেন। গওহর রিজভী ওয়াশিংটন থেকে গতকাল বিকেলে দেশে ফিরেছেন। তাই আজ সরকারের বিবৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতির পর এই প্রকল্পের ব্যাপারে পৃথক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানাবে সহ-অর্থায়নকারী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)। এবং তা ইতিবাচক হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
২৯০ কোটি ডলারের প্রাক্কলিত ব্যয়ের পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রধান ঋণদাতা বিশ্বব্যাংকের দেওয়ার কথা ১২০ কোটি ডলার। এ ছাড়া এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার দেওয়ার কথা।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Tauhidun

Tauhidun

২০১২.০৯.২৩ ০৪:০১
দুদক এখন আর তদন্ত করে কি বের করবে।

Mahtaf Hossain

Mahtaf Hossain

২০১২.০৯.২৩ ০৮:১৪
পদ্মাসেতু প্রকল্পের উপর যা-কিছুই করা হোক না কেন, তাতে যেন অবশ্যই স্বচ্ছ্বতা বজায় থাকে এবং কোন ফাকফোকর দিয়ে যেন আর কোন দুর্নীতিবাজ ও খাইখাই পার্টি ঢুকতে না পারে- সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য আমরা আমজনতা যোগাযোগ মন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধ করবো।

Ahsan

Ahsan

২০১২.০৯.২৩ ১০:০৮
pls stop the news on "padma bridge" now this is really irritating.

Subash Roy

Subash Roy

২০১২.০৯.২৩ ১৭:৫০
দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।