আ.লীগ-বিএনপির দখলে ২০০ একর সরকারি জমি!
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির চুনাপাথর খনি প্রকল্পের জমি দখল করে কয়লা রাখার জায়গা বানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা
ছবি: প্রথম আলো
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের প্রায় ২০০ একর জমি বেদখল হয়ে গেছে। এই দখলের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতা, জনপ্রতিনিধি ও কয়লা আমদানিকারক সমিতির নেতাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় বেদখল হওয়া জমির দাগ-খতিয়ান ও পরিমাণ উল্লেখ করে দখলদারদের একটি তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রী ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত এলাকায় টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের অবস্থান। এর পাশেই বড়ছড়া-চারাগাঁও শুল্ক বন্দর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে টেকেরঘাটে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির তত্ত্বাবধানে চুনাপাথর খনি প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রকল্পের আড়াই শ একর জমি রয়েছে। ক্রমাগত লোকসানের কারণে প্রকল্পটি ২০০৭ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা প্রকল্পের জমি দখল করে বাড়িঘর, দোকানপাট, কয়লার ডিপো (উন্মুক্ত স্থান) তৈরি করেন। ছয় মাস আগে বড়ছড়া এলাকায় প্রকল্পের টিলা কেটে ও জমি দখল করে ২০ থেকে ৩০টি নতুন ডিপো করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর খনি প্রকল্পের জমি দখল করে নির্মাণ করা হয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়।
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ৬ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব নিগার সুলতানা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়। চিঠির সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের ২১২ জনের নামের একটি তালিকা ও জমির পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে। এরপর প্রশাসন গত ৩০ আগস্ট ওই এলাকায় লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালায়। কারণ, অভিযানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উচ্ছেদ করা হয়নি। উচ্ছেদের নামে প্রকল্প এলাকার সীমানা তারের বেড়ার ভেতরে পুরাতন ভবনে থাকা কোম্পানির নিরীহ শ্রমিক-কর্মচারীরদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কিছু না বলে এই প্রকল্পের সঙ্গে বছরের পর বছর যারা জড়িত, তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও অবৈধ দখলদারদের তালিকার বিবরণ অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকায় জমি দখল করে ৫৬টি কয়লার ডিপো তৈরি করা হয়েছে। এসব ডিপো গড়তে কোথাও কোথাও টিলা কাটা হয়েছে। খনি প্রকল্পের জমিতে পাঁচটি ডিপো বানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুল হক। এক নারী বড়ছড়া এলাকায় জমি দখল করে ১২টি দোকানঘর ও সাতটি বসতঘর নির্মাণ করেছেন। হাফিজ উদ্দিন ছয়টি ও ইসলাম উদ্দিন চারটি ডিপো করেছেন। দুটি করে ডিপো করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন খাঁ, স্থানীয় উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবদলের নেতা সবুজ আলম, জয় হোসেন ও শামিম আহমদ। দখলের তালিকায় নাম রয়েছে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার ও তাঁর বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন খন্দকারের।
সরেজমিনে দেখা দেখা গেছে, খনি প্রকল্পের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও ডাম্পের বাজার এলাকায় এই জমি অবৈধ দখল হয়েছে। প্রকল্পের মূল ফটকের পূর্ব পাশে সম্প্রতি টিলা কেটে ও সমতলভূমিতে কয়েকটি কয়লার ডিপো করা হয়েছে। এর দু-একটিতে কয়লাও রাখা আছে। ডিপোর পাশে তৈরি করা হয়েছে কার্যালয়-ঘর। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই এলাকায় শুল্ক বন্দর থাকায় জমির দাম অনেক বেশি। এখানে একটি কয়লার ডিপো ভাড়া দিয়ে বছরে লাখ টাকা পাওয়া যায়। কেউ কেউ জমি দখল করে চারটি-পাঁচটি ডিপো ভাড়া দিয়েছেন। আবার নিজেরাও ব্যবসা করছেন। বড়ছড়া বাজারের একাধিক দোকানি বলেন, যারা দখলদার তারা প্রভাবশালী, আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। এখানে দুই দল মিলেমিশেই দখল বজায় রাখে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন খাঁ দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজের জমিতে ডিপো করেছি। এ জমি আমার কেনা।’ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, ‘কোম্পানির এক ইঞ্চি জমিও আমার দখলে নেই। বড়ছড়া এলাকায় আমি আলকাছ উদ্দিন খন্দকারের কাছ থেকে দুটি ডিপো ভাড়া নিয়েছি। এই জমির মালিক তিনি নিজে। আমি একটি দায়িত্বে আছি, সব সময় চেষ্টা করি সততার সঙ্গে ব্যবসা করতে। কে কীভাবে তালিকা করল, আমি জানি না।’ এ ব্যাপারে কথা বলতে আলকাছ উদ্দিন খন্দকারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আক্কাস জানান, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প এলাকায় কয়েক শ কোটি টাকার জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। এই জমির পরিমাণ ২০০ একর হবে। একটি চক্র প্রকল্পের জমি দখল করে রাস্তা, ঘরবাড়ি, দোকান করেছে। প্রথম আলোকে আলী আক্কাস বলেন বলেন, ‘বাংলাদেশ রসায়নশিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জমির দাগ-খতিয়ান উল্লেখ করে দখলদারদের একটি তালিকা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন এক দিনের অভিযানের নামে যা করল, তা আমাদের অবাক করেছে।’
তবে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছি। খনি প্রকল্পের জমির দখলদারদের একটি তালিকা আমাদের কাছে এসেছে। সেটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে কোম্পানির এমডি মোহাম্মদ আলী আক্কাস বলেন, প্রকল্পের আড়াই শ একরের মধ্যে প্রশাসনের জমি থাকে কীভাবে?







মনিরুজ্জামান
২০১২.০৯.২৩ ০৭:২১Durbar
২০১২.০৯.২৩ ০৮:১১কে বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শুধু হিংসা-রেষারেষীর রাজনীতিতে লিপ্ত ? তাদের ভেতর তাহলে ভালোবাসা-মহব্বতও আছে !এ দুনিয়া তাহলে এখনো নরকে পরিণত হয়নি !! আলহামদুলিল্লা !!!
Raju(Jhalakathi,Barisal)
২০১২.০৯.২৩ ০৮:৫৬Raju(Jhalakathi,Barisal)
২০১২.০৯.২৩ ০৮:৫৯Mohammad Shah Alam
২০১২.০৯.২৩ ১১:৩৬