আজ মনে হচ্ছে আমি সার্থক: ববিতা
-
ববিতা
ছবি: সৈকত ভদ্র
-
ছেলে অনিকের সঙ্গে মা ববিতা
আর দশটা দিনের মতোই সেদিন সকালটা শুরু হয়েছিল। দিন কয়েক আগে ফিরেছেন ছেলের কাছ থেকে। ছেলে পড়াশোনা করে কানাডায়। জেটল্যাগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বসার ঘরে এসে দেখেন অনেক চিঠির স্তূপ। এতগুলো চিঠির মধ্যে একটিতে তাঁর চোখ আটকে গেল। সেই বিশেষ চিঠিতে যে তাঁর জন্য খুশির সংবাদ আছে, তখনো তাঁর অজানা। খামটি খুলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন। এক দৌড়ে গেলেন কম্পিউটারের সামনে। স্কাইপে লগ-ইন করলেন। তৎক্ষণাৎ তা ছেলেকে জানালেন। ছেলের সে কী আনন্দ!
এটি কোনো সিনেমার গল্প নয়। বাস্তবের এক মায়ের গল্প। অভিনয়শিল্পী ববিতা ও তাঁর ছেলে অনিক ইসলামের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্তের গল্প। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুতে তড়িৎকৌশল বিভাগে ‘স্প্রিং টার্ম-২০১২’-এ অনিক ইসলাম প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। ববিতার গুলশানের বাসায় যখন তিনি এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল, সামনে যিনি বসে আছেন, তিনি একজন সাধারণ মা, একজন সফল মা। কে বলবে ইনি বাংলাদেশের গুণী অভিনেত্রী ববিতা, যাঁর তারকাখ্যাতি সীমানা ছাড়িয়ে। কিন্তু অভিনয়জগতের বাইরে যাঁর প্রাণজুড়ে আছেন শুধুই তাঁর সন্তান। গর্বিত মা শোনালেন একা কীভাবে ছেলেকে এত দূর নিয়ে এসেছেন।
আপাতদৃষ্টিতে মনে করা হয়, সিনেমার নায়িকা ও তাঁদের সন্তানেরা সারাক্ষণ অনুষ্ঠান, পার্টি—এসব নিয়ে মেতে থাকেন। সংসার ও সন্তানের দিকে তাঁদের হয়তো কোনো খেয়াল থাকে না। সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন ববিতা ও তাঁর ছেলে। অনিকের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তাঁর বাবা ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলম মারা যান। একদিকে অভিনয়, অন্যদিকে সংসার-সন্তান সামলানো—সবই তিনি করেছেন। কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে? জানতে চাইলে ববিতা বলেন, ‘অনিক যখন ছোট, তখন ঢাকার বাইরে কোনো শুটিং করতাম না। এফডিসি বা ঢাকার মধ্যে যে কাজগুলো হয়েছে, সেগুলো করেছি। ধীরে ধীরে ও বড় হয়েছে। তখন বাইরে কাজ করতাম। কিন্তু সারাক্ষণ ছেলের খবর নিয়েছি। খেয়েছে কি না, স্কুল থেকে ফিরে বিশ্রাম নিয়েছে কি না, স্কুলের পড়া ঠিকমতো হলো কি না, সব; এমনকি বাসায় কোন শিক্ষকের কাছে পড়বে, সেটিও আমি ঠিক করতাম। আমার ছেলেও ভীষণ ভালো। অতটুকু বয়স থেকেই এত বোঝে আমাকে।’
মা-ও কম কিসে। অনিকের বয়স তখন ১০-১২ হবে, একদিন স্কুল থেকে ফিরে মাকে শোনান, তাঁর বন্ধুর মা কত ভালো রান্না করেন। এখন উপায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ববিতা চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছেন। তাই কাজের চাপে রান্নাটা ঠিকমতো শেখা হয়নি। কিন্তু তাঁকে ভালো মা হতে হলে যে ছেলের মনে কোনো অপূর্ণতা রাখা যাবে না। কিনে আনলেন সিদ্দিকা কবীরের রেসিপির বই—রান্না, খাদ্য, পুষ্টি। একদিন নিজের হাতে নানা পদের খাবার রান্না করে খাইয়ে ছেলেকে তাক লাগিয়ে দিলেন। শুধু কি তা-ই, মা ববিতা অনেক সময় নিজে ভাড়া করা গাড়ি বা ট্যাক্সিতে শুটিংয়ে গেছেন; আর নিজের গাড়ি ছেলের জন্য বরাদ্দ রেখেছেন।
সেদিন যখন স্কাইপে ছেলেকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনিকের এত ভালো ফল করার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে; আর ‘উইন্টার টার্মে’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের গবেষণার সহকারী (রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে কাজ করার জন্যও প্রস্তাব দিয়েছে। কম্পিউটারের পর্দায় এ-পাশে মা আর ও-পাশে ছেলের তখন আনন্দাশ্রু ঝিলিক দিচ্ছিল। এই ফলের পুরো কৃতিত্ব ছেলে দেন মাকে। ববিতা বলেন, ‘ছেলের জন্যই তো স্বামী হারানোর শোক ও একাকিত্ব ভুলে থেকেছি। যখনই নিজেকে অসহায় মনে হতো, তখনই অনিকের মুখ ভেসে উঠত চোখের সামনে। ব্যস, আবার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি।’
চলচ্চিত্রের এই গুণী শিল্পী অন্য সব মায়ের মতোই সন্তানের পরীক্ষার সময় রাত জেগে থাকতেন। ছেলের পরীক্ষার সময় বোরকা পরে স্কুলের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকতেন। মনে হতো, মায়েরই যেন পরীক্ষা। কেননা, সন্তানের চেয়ে বড় কিছু তাঁর জীবনে আর কখনোই প্রাধান্য পায়নি। ‘আর্থিক সমস্যা না থাকলেও জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমাদের সমাজে একজন নারী বিয়ে না করে একা থাকলে নানা জনে নানা কথা বলে। কখনো যে বিয়ের কথা ভাবিনি তা নয়; কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়েছে, অনিক যদি তাকে গ্রহণ না করে। কিংবা সেই মানুষ যদি অনিককে আমার মতো ভালোবাসতে না পারে। এ কারণে সেসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলেছি। অনিকের সফলতায় আজ মনে হচ্ছে, আমি সার্থক ও সফল।’ বললেন ববিতা।
অনিক ঢাকায় স্কলাসটিকা থেকে এ এবং ও লেভেল পাস করার পর কানাডায় যান তড়িৎকৌশলে পড়তে। একা হয়ে যান ববিতা। একাকিত্ব দূর করার জন্য নিজের মতো করে জীবন সাজিয়ে নিয়েছেন। বাড়িতে পাখি, কুকুর ও গাছপালার যত্ন নিয়ে সময় কাটান। এ ছাড়া নানা ধরনের সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বাইরে তিনি ডিসট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন। বছরে অন্তত দুবার কানাডায় ছেলের কাছে যান। মা-ছেলের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের। সময় পেলেই তাঁরা ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। পরস্পরের বোঝাপড়া খুব ভালো। ছোট থেকেই মায়ের কাজকে অনেক শ্রদ্ধা করেন অনিক। মা যে এত বড় একজন তারকা, তা অনিককেও গর্বিত করে। একজন ভালো শিল্পী একজন ভালো মা-ও হতে পারেন—তা যেন প্রমাণ করলেন ববিতা। অনিককে বিদেশে বাড়ি কিনে দেওয়ার কথা বললে উত্তরে ছেলে মাকে বলেন, ‘আমার জন্য অনেক করেছ। তোমার টাকা তুমি নিজে উপভোগ করো। মা, আমি আমার মতো করে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।’ ছেলের এমন কথা মাকে গবির্ত করে। ভাবেন, আজ তিনি সত্যিই সার্থক।







Apu kowsar
২০১২.১২.১৯ ০৩:০৪Showkat
২০১২.১২.১৯ ০৩:০৮Fahim
২০১২.১২.১৯ ০৪:৩৭Muzibur rahman
২০১২.১২.১৯ ০৬:২৯RIPON
২০১২.১২.১৯ ০৭:৪০syed Kamal mohammad Mukul
২০১২.১২.১৯ ০৮:৩৬shahed1985
২০১২.১২.১৯ ০৮:৫১R.M.Farhad
২০১২.১২.১৯ ০৯:৩৩Naser Babu
২০১২.১২.১৯ ০৯:৩৫Golam Masud
২০১২.১২.১৯ ০৯:৫০কাউসার রুশো
২০১২.১২.১৯ ০৯:৫৫MMR Sarker Miraj
২০১২.১২.১৯ ১০:৩২Labony Akter
২০১২.১২.১৯ ১০:৫০Muzibur rahman
২০১২.১২.১৯ ১১:৫৯shaker
২০১২.১২.১৯ ১২:৪৯
২০১২.১২.১৯ ১৩:০৭Shajol
২০১২.১২.১৯ ১৩:৩৩MK Majumder
২০১২.১২.১৯ ১৩:৩৮অনেকটা আমার মায়ের..
Mirza Mehedi Hasan
২০১২.১২.১৯ ১৪:১৩jannatul ferdush
২০১২.১২.১৯ ১৮:৪৯mukta rahman
২০১২.১২.১৯ ২০:২৭