স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধন্যবাদ

বাম দলগুলোর ব্যতিক্রমী হরতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৯-১২-২০১২

  • ৩৯ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
সিপিবি ও বাসদের কর্মীরা গতকালের হরতালে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। নিজেদে

সিপিবি ও বাসদের কর্মীরা গতকালের হরতালে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। নিজেদের উদ্দীপ্ত রাখতে তাঁরা রাজপথে খণ্ড খণ্ডভাবে জমায়েত হয়ে গণসংগীত পরিবেশন করেন। ছবিটি শাহবাগ এলাকা থেকে তোলা

প্রথম আলো

বাজছে ঢোল, গিটার। চার রাস্তার মাঝে গোল হয়ে বসে গলা ছেড়ে গান গাইছেন কয়েকজন তরুণ-তরুণী। এক পাশে থেমে থেমে চলছে বক্তৃতা।
বাম দলগুলোর ডাকা হরতালে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের দৃশ্য ছিল এমনই। হরতালের কেন্দ্রস্থল পল্টন মোড়েও বক্তৃতার পাশাপাশি গণসংগীত পরিবেশিত হয়েছে। সারা দেশেই পুলিশের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে ব্যতিক্রমী এ হরতাল।
জামায়াতে ইসলামীসহ সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করা, দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় মালিকসহ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং জনজীবনের সংকট নিরসনের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) হরতালের ডাক দেয়। এ ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদসহ সাত দফা দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাও হরতালের ডাক দেয়। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে: তাজরীন পোশাক কারখানায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা, রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করা, অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিচার, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং সুন্দরবন ধ্বংসের ‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প’ বাতিল করা।
হরতালের মূল কেন্দ্রস্থল ছিল পল্টন মোড়। এখানেই সিপিবি, বাসদ ও বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পল্টন মোড়ের দুই পাশে পৃথক মাইকে দুই জোটের নেতারা দিনভর বক্তব্য দেন। শাহবাগ মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় ছিলেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা। পল্টন, প্রেসক্লাব, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা, বিজয়নগর, শাহবাগ, পরীবাগ এলাকায় দুপুর পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, জিগাতলা, কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধ, মালিবাগ, সদরঘাট, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও তেজগাঁও এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়েছে। মিছিলকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও দলীয় প্রতীকসংবলিত পতাকা।
সকাল থেকেই পল্টন আর শাহবাগমুখী সড়কগুলো বন্ধ করে দেয় পুলিশ। রাজধানীর বাংলামোটর, রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) মোড়, মৎস্য ভবন মোড়, প্রেসক্লাবের সামনে, বিজয়নগর, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা এলাকায় পুলিশ রাস্তার ওপর বাঁশ ফেলে, গাড়ি রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে দেখা যায়, কারওয়ান বাজার থেকে শাহবাগমুখী সড়কের ওপরে বাঁশ ফেলে রেখেছে পুলিশ। দুজন ট্রাফিক সদস্য ও একজন সার্জেন্ট যানবাহনগুলোকে নিউ ইস্কাটন রোডের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গামী অ্যাম্বুলেন্সও ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলামোটর মোড়ে শাহবাগগামী এক চিকিৎসককে রিকশা থেকে নামিয়ে দেয় পুলিশ। ওই চিকিৎসক বলেন, পুলিশ যানবাহনগুলোকে নিউ ইস্কাটন রোডের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু তিনি যাবেন বারডেম হাসপাতালে। বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরও পুলিশ তাঁকে রিকশা থেকে নামিয়ে দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা দেখে তাঁর মতো অনেকেরই মনে হয়েছে, এই হরতালের প্রতি সরকার বা পুলিশের সমর্থন ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধন্যবাদ: সারা দেশে শান্তিপূর্ণ হরতাল হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সিপিবি ও বাসদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রমনায় ইউবিএল ক্রসিংয়ে একটি লেগুনার কাচ ভাঙা ছাড়া সারা দেশে কোথাও বিশৃঙ্খলা হয়নি। এ জন্য তাদের কোথাও বাধা না দিয়ে পুলিশ বরং সহযোগিতা করেছে। বিশৃঙ্খল ও ধ্বংসাত্মক হরতাল পালনকারীদের এ হরতাল থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
পল্টন এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের সহকারী কমিশনার নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শান্তিপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ হরতালের সমাবেশে কোনো বাধা দিচ্ছে না।
দুপুরের পর বাস চলেছে: গতকাল সকালের দিকে রাজধানীর রাস্তায় তেমন বাস দেখা না গেলেও দুপুরের পর বাস চলাচল করেছে। অন্য হরতালে বিআরটিসির বাস চললেও গতকাল দুপুর পর্যন্ত চলেনি। নগরজুড়ে কিছু রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও হিউম্যান হলার চলাচল করেছে। তবে অন্যান্য হরতালের তুলনায় গতকাল রাস্তায় মানুষ ছিল বেশি। এ কারণে বাসস্টপগুলোতে দিনভর ছিল বিপুল মানুষের ভিড়।
একটি বহুজাতিক বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা কাজী মকবুল হোসেন বলেন, সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে দেখেন, রাস্তা ফাঁকা। রিকশা-বাস কিছুই নেই। শেষে উত্তরা থেকে কিছুটা হেঁটে, কিছুটা রিকশায় বিমানবন্দর পর্যন্ত এসে একটি হিউম্যান হলারে আগারগাঁও পর্যন্ত এসেছেন।
একাধিক বাসকর্মী জানিয়েছেন, সরকার-সমর্থক শ্রমিক ও মালিকেরা গাড়ি বের করতে বাধা দিয়েছেন। স্থানীয় থানার পুলিশও গাড়ি বের করতে নিষেধ করেছে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সাধারণ পরিবহনমালিকেরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ডাকা হরতালের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। এ কারণে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন। সমিতির পক্ষ থেকেও কাউকে গাড়ি বের করতে জোর করা হয়নি।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা জানান, সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। যানবাহন-দোকানপাট বন্ধ ছিল। হরতাল পালনকারীদের সহযোগিতা করেছে পুলিশ। জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা হরতালকারীদের ওপর যাতে হামলা করতে না পারে, সে জন্য কোথাও কোথাও সতর্ক পাহারায় ছিল পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলন: হরতাল শেষে বিকেলে পুরানা পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হরতাল সফল হয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠনটির সভপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। এ সময় বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানসহ দুই দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হরতাল সফল করায় পরিবহন ও পোশাকশ্রমিকদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, মৌলবাদী দল, র‌্যাব ও পুলিশ বাধা দিলেও হরতাল সফল হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশের হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং ২০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এই দুই দলের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: ২৮ ডিসেম্বর বেলা তিনটায় প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল-সমাবেশ, ১ জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দিবস পালন, এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার, জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ, তেল-গ্যাসের দাম কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে ৩ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত জাগরণ কর্মসূচি। ওই পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ২৬টি জনসভা, ৫১টি সমাবেশ ও পথসভা করা হবে।
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল সফল করার জন্য জনগণকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Babul Nokrek

Babul Nokrek

২০১২.১২.১৯ ০৩:৫৫
সত্যি অভিভুত ! আমাদের অন্যআন্য রাজৈতিক দল কি কিছু শিখবে? মনে হয় না ..সদড সাবাশ বাম দল ...

মোহাম্মাদ

মোহাম্মাদ

২০১২.১২.১৯ ০৪:০০
বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোটের হরতালেও পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে হরতাল বাস্তবায়ন করলে, এর চেয়েও শান্তিপূর্ণ হরতাল হতে পারে।

Mohammad Siam Hossain Khan

Mohammad Siam Hossain Khan

২০১২.১২.১৯ ০৪:০০
বি এন পি -জামাতের এই হরতাল থেকে অনেক কিছু সিখার আচে !একেই বলে সান্তিপুরন ও জনগনের হরতাল !জালাও- পরাও ,অ গ্নি-সংযঘ , আর গারি ভাংচুর করে জনগনকে ভয় দেখান ছহারা আর কিছহুই ৈ না !জামাতকে নিসিড্ড করার দাবিটি এই সফল হরতালের মাঢমে জাতি আজ রাই দিে দিেচে বলে সবার ডারনা !

sabbir

sabbir

২০১২.১২.১৯ ০৭:৪৮
হ্যা ঠিকই বলেছেন পুলিশের সহযোগিতায়। পুলিশ নিজেই পিকেটিং করেছে হরতালের সপক্ষে। যেখানে বিরোধি দলের হরতালে রাজনৈতিক অফিসগুলোকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার মিছিল করতে দেয়া হয়না। সেখানে পুলিশ ্র উদ্যেগে ঞরতাল! হায় সেলুকাস! উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ।

বাবুল করিম

বাবুল করিম

২০১২.১২.১৯ ০৮:৩৫
------ কী খেলাই না দেখাল পুলিশ। শাবাশ পুলিশ; এই পুলিশ আমাদের অহংকার!!!!!! তাদের নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি!!!!!!

Tajerul islam sadhin

Tajerul islam sadhin

২০১২.১২.১৯ ০৮:৪১
কেমন কথা হলো এটা! ধর্মভিত্তক দল নিষিদ্ধ করতে হবে, কেন? যুদ্ধাপরাধীর বিচার দ্রুত হোক, আরো দ্রুত হোক কিন্তু দল কেন নিষিদ্ধ হবে?

ABDUL MAJID QUAZI

ABDUL MAJID QUAZI

২০১২.১২.১৯ ০৮:৪৬
একে বলে শান্তিপুর্ন হরতাল। এই রীতিতে হরতাল চালু করা হউক।

রিপন ঘোষ

রিপন ঘোষ

২০১২.১২.১৯ ০৮:৪৯
এই ব্যতিক্রমী হরতালের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই। জামায়াত--শিবির-বিএনপি এর ধ্বংসাত্বক হরতালের বিপরীতে এই হরতাল এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

MD FARUK KHAN

MD FARUK KHAN

২০১২.১২.১৯ ০৮:৫৫
বাম দলগুলোর নয়,ছিল আওয়ামীলীগের সরকারের হরতাল ।

S. A. Jahan

S. A. Jahan

২০১২.১২.১৯ ০৯:২৯
Govt. Hartal..

Abul

Abul

২০১২.১২.১৯ ১০:০০
বাবুল-সিয়ামদের মত সমর্থকই বর্তমান সরকারের দরকার ! পত্রিকায় কি লিখলো আর টিভিতে কি দেখালো সেদিকে চোক-কান না দিয়ে, নেতা-নেত্রি কি বলল সেটা নিয়ে হুক্কা-হুয়া করতে হবে !

২০১২.১২.১৯ ১০:০৪
১৬ কোটি মুসলমান অধুশিত একটি স্বাধীন রাষ্টে এই বামদের ঠাই না। তারা ক্ষমতাশীনদের ছাতার তলে থেকে রাজনীতি করছে। ক্ষমতাশীনেরা ক্ষমতা হারালে এদর অস্তিত্ব খুজে পাোয়া যাবে না। মুলত এই হরতাল ছিল সরকারী হরতাল। তাই তো আমাদের পুলিশভাইরা নিশ্চুপ। স্বযং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই স্বাধীনতার মাসের ডাকা হরতালের বাহবা দিলেন। অথচ কদিন আগের বিরোধীদের ডাকা হরতাল কিভাবে প্রত্যাক্ষান করেছিলেন।

M Mafruhi Sattar

M Mafruhi Sattar

২০১২.১২.১৯ ১০:৩৬
অেপক্ষা করিছলাম হরতাল েদখেত। সিত্যই এর েকান তুলনা েনই। লক্ষ করুন একই হরতার আেরা শািন্ত পূর্ণ হেলো অন্যেদর েকাষেত্র িশেরানাম হেতা িনরুত্তাপ হরতাল অথবা েকাথাো হরতালকারিেদর েদখা যায় িন। কালেকর বাধাদান হেয়েছ অিভনব। আর অন্যেদর েকাষেত্র হেতা তা জন জীবেন দূেভাগ। ধন্যবাদ বাম দলেক। অিভনন্দণ বাম ধলেক

২০১২.১২.১৯ ১০:৩৮
দেশের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা থাকলে ক্ষমতাসীন দল এভাবে হরতাল করতে পারেনা।
২০১২.১২.১৯ ১০:৪০
very good,Govt Hortal looks very nice.

পঙ্কজ নাথ Pankaj Nath

পঙ্কজ নাথ Pankaj Nath

২০১২.১২.১৯ ১০:৪০
বাম দলগুলোর সমর্থক হিসেবে হরতালের নামে তাদের এই হাস্যকর, ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড আমাকে হতাশ ও লজ্জিত করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম সরকারের পুলিশ বাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং ব্যবস্থাপনায় তথাকথিত "স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল" পালিত হলো। যেখানে পুলিশ বাহিনী পিকেটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছে। আর এভাবেই আমরা বড় দুই দলের বেড়াজাল আবদ্ধ।
কারণ বাম দলগুলো তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেয়ে বড় কোনো দল বা ক্ষমতাসীনদের লেজুড়বৃত্তিই পছন্দ করে বেশি। এজন্য তারা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে বড় দলের মার্কায় ভর করে সংসদে যেতেও দ্বিধা করে না। মার্কসবাদীরা সরকারী দল এবং পুলিশের নজিরবিহীন ব্যবস্থাপনায় হরতাল করে। হায় বড় বিচিত্র এদের মতিগতি। অচিরেই আমরা হয়তো দেখবো মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ইনু-মেননদের বড় দলের মার্কা নিয়ে সংসদে যাবে।

Sultana

Sultana

২০১২.১২.১৯ ১০:৪৪
ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীসহ সাম্প্রদায়িক ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করার কথা। জামাত নিষিদ্ধ হওয়ার দাবির কারন কারও অজানা থাকার কথা নয়।

পঙ্কজ নাথ Pankaj Nath

পঙ্কজ নাথ Pankaj Nath

২০১২.১২.১৯ ১০:৪৫
আওয়ামী লীগ এভাবে বাম দলগুলোর মাধ্যমে তথাকথিত " স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল" না করে সরাসরি নিজেরাই হরতালের ডাক দিতে পারতো। পুলিশ বাহিনী পিকেটিং করে মানুষকে হয়রানি করে পথে পথে বাধা দিল, বাস থামিয়ে বাস থেকে মানুষকে নামিয়ে দিল, চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ রাস্তায় ফেলে ব্যারিকেড দিল- কী অভূতপূর্ব দৃশ্য! সাবাস বাম দল, সাবাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!! বিজয়ের মাসে নাকি হরতাল করা না-জায়েজ?? হায় বাংলাদেশ, হায় অভাগা জনগণ!!

Kamruzzaman

Kamruzzaman

২০১২.১২.১৯ ১০:৫৩
এই ব্যতিক্রমী হরতালের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই। জামায়াত--শিবির-বিএনপি এর ধ্বংসাত্বক হরতালের বিপরীতে এই হরতাল এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সকাল থেকেই পল্টন আর শাহবাগমুখী সড়কগুলো বন্ধ করে দেয় পুলিশ। রাজধানীর বাংলামোটর, রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) মোড়, মৎস্য ভবন মোড়, প্রেসক্লাবের সামনে, বিজয়নগর, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা এলাকায় পুলিশ রাস্তার ওপর বাঁশ ফেলে, গাড়ি রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে দেখা যায় কারওয়ান বাজার থেকে শাহবাগমুখী সড়কের ওপরে বাঁশ ফেলে রেখেছে পুলিশ। দুজন ট্রাফিক সদস্য ও একজন সার্জেন্ট যানবাহনগুলোকে নিউ ইস্কাটন রোডের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গামী অ্যাম্বুলেন্সও ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বি.আর.টি.সি. বাসও রাস্তায় নামানো হয় নাই নিরাপত্তার কারণে। হায়রে দেশ !!

২০১২.১২.১৯ ১১:১১
হেডলাইনটা হওয়া উচিৎ ছিলোঃ

"বিচিত্র হরতাল : সরকারপন্থী বাম, পুলিশ ও বিআরটিসির যৌথ কর্মসূচি"

Reza Mohiuddin

Reza Mohiuddin

২০১২.১২.১৯ ১১:৩৬
What a peaceful hartal!! What a friendly relation of police with the picketers! Police became so
friendly that they helped the picketers in restricting the vehicles on road. Hon'ble Minister for
Home was happy with the performance of the peaceful, non-violent picketers and the police.

We want to see this type of non-violent government backed hartals in future.

Ronju Khan

Ronju Khan

২০১২.১২.১৯ ১১:৩৯
অত কথা বুঝি না রাজাকারদের ফাসি চাই ,

Md.Ibrahim

Md.Ibrahim

২০১২.১২.১৯ ১১:৪০
এটি যেন সরকারী হরতাল হয়েগেছে.. হঠাত করেই যেন উইর্টান নিলেন পুলিশ বাহীনি একেবারেই স্বল্প সংখ্যক পিকেটার পুলিশ তাদের কোন বাধাই দিলোনা উল্টো পুলিশ বাহিনী যেন হরতাল স্বফল করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন রাস্তায় কাটাতারের বেড়া দিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করলেন এমন হরতাল জীবনেও দেখিনী..বিআরটিসি তাদের কোন বাস রাস্তায় নামায়নি...হরতাল নেই কোন পিকেটিং নেই কোন মিছিল তার পরও হরতাল হয়ে গেলো..এটি হরতাল বলে মণে হয়নি মনে হয়েছে সরকার ও বামপন্ত্রীদের যৌথ কর্মসূচি..!!!

Shah Paran

Shah Paran

২০১২.১২.১৯ ১১:৫১
Nothing gonna Change, হরতাল is just a stupide bull story.
শান্তি পূর্ণ হরতালের ফলাফলের অপেক্ষায় রইলাম।

Zakir Hossain

Zakir Hossain

২০১২.১২.১৯ ১১:৫৪
০,০০০৫% সমর্থক নিয়ে এরা যে হরতাল করলো তাতে অবাক হওয়ার ই কথা। আর বি এন পি ৫০% এর বেশি সমর্থন নিয়েও রাস্তায় দাড়াতেই পারল না। বাংলার জনগন এখন বোঝেন, কি জাদুই না তাড়া জানে।

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

২০১২.১২.১৯ ১১:৫৮
ব্যতিক্রমী তো বটেই !
তা না হ'লে, যেখানে সরকারের তরফে হরতাল ঠেকানোর কথা সেখানে সে তাতে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেয় ?
তা না হ'লে, যেখানে পুলিশকে অন্যান্য হরতালে পিকেটারদের ঠেকাতে মারমুখী হতে দেখা গেছে, সেখানে এ-হরতালে হরতাল-ডাকা দলের পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায়, তার অভাব পূরণ করে, পুলিশই পিকেটারের ভূমিকা গ্রহণ করে ?
তা না হ'লে, যেখানে এ-যাবতকালের সকল হরতালে বিআরটিসির গাড়ী চললেও, একমাত্র কালকের হরতালেই ওগুলো হরতাল-বান্ধব ভূমিকা নিয়ে রাস্তায় নামা থেকে বিরত থেকেছে ?
তা না হ'লে, যেখানে অন্যান্য হরতালের বিরুদ্ধে সরকারের বাগযন্ত্র অবিরাম সচল থাকে, সেখানে ঐ হরতালেই কোন বিরুদ্ধবাদী কথা না বলে বিরত থাকে ?
তা না হ'লে, যেখানে সকল হরতালে দেশের ক্ষতি হওয়ায় অন্যান্য হরতালের বিরুদ্ধে এ-যাবতকালে সরকার নিন্দাই জানিয়েছে, সেখানে ঐ হরতালের জন্য ধন্যবাদ জানায় ?
সর্বশেষে বলা যায়- ঐ হরতালটা আসলে ছিল বামদলের ছদ্মাবরণে `সরকারী হরতাল', যা দেশের আমজনতা বেশ ভালভাবেই বুঝতে পেরেছে।

shahjahan

shahjahan

২০১২.১২.১৯ ১২:০১
অিভভূত এ হরতােল আমরা যারপর নাই খুিশ প্রধানমন্এীেক ধন্যবাদ এবার পুিলশভাইেদর প্রমোশন িদন

Md. Rabiul Islam

Md. Rabiul Islam

২০১২.১২.১৯ ১২:০২
শান্তিপূর্ন হরতাল বলে যারা ঢেকুর তুলছেন আর বলছেন বিএনপি-জামাতের এ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত, তাদের বলব, প্লিজ নিজ বিবেককে একটু জাগ্রত করুন, সত্য বলার চেষ্টা করুন। মিথ্যাকে ঘৃনা করুন। খারাপকে, মিথ্যাকে কখনও মিথ্যা দিয়ে, খারাপ দিয়ে প্রতিহত করা যায়না, বরং এতে ঐ খারাপের পিছনেই জনমত তৈরি হয়ে যায় একটা সময়ে। পুলিশের সহায়তায় বামদলগুলো যে হরতাল করল, তার জন্য সাধুবাদ পেলে একমাত্র সরকার এবং পুলিশই পেতে পারে। বিএনপি-জামাতের হরতালের সময় সরকার এবং পুলিশ এই ভূমিকা পালন করলে, নিশ্চিতভাবে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। সুতারাং পুরস্কার বা তিরষ্কার বিএনপি এবং বামদলকে না দিয়ে সরকারকে দিন।

Hasnath

Hasnath

২০১২.১২.১৯ ১২:১৮
কালকের হরতাল থেকে বোঝা গেল, হরতালে সহিংসতার জন্য দায়ী হচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সহিংস না হলে ১০ জন নিয়েও হরতাল সফল করা যায়। দেখা যাক ২০ তারিখ ইসলামি দলগুলোর হরতালে পুলিশ কি ভুমিকা পালন করে।

Mohiuddin

Mohiuddin

২০১২.১২.১৯ ১২:৫৫
বিশ্বজিত এবং আওয়ামিলীগের হরতাল:
বিশ্বজিত্ হত্যার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বললেন, হত্যাকারীদের কয়েকজন বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জড়িত। কয়েকজনের আত্মীয়স্বজন মাদরাসার অধ্যক্ষ। আমাদের প্রশ্ন ওলামা লীগের নেতারা কি হার্বার্ড বা অক্সফোর্ডের ছাত্র?
মখা আলমগীর ধন্যবাদ দিলেন হরতার সফল করার জন্য!!! কাকে??? অন্যদল হরতাল ডাকলে দা আর বটি মিছিল,কসাইর ছোরা মিছিল, চাপাতি মিছিল, অস্ত্র মিছিল, আওয়ামী পুলিশ লীগের টিয়ার গ্যাস আর লাঠিবাজির চমতকার মহড়া। পুলিশ লীগ দিয়ে পিকেটিং করে যানবাহন বন্ধকরে মানুষকে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেয়া হল। কোথাও মোবাইলের সাথে হ্যান্ড মাইক লাগিয়ে হিন্দি গান চালিয়ে রাস্তা দখল করে পুলিশের পিকেটিং-যার জন্য ধন্যবাদ দিলেন মখা সাহেব তার জাতীয় পুলিশ লীগকে? এই বীজয়ের হরতাল নিষিদ্ধের মাসে ১২জন লোককে গিটার হাতে রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে নাটক না করলেও চলত। ছাত্রলীগ হুমকি দিলো বাসমালিকদের বাস না নামানোর জন্য আর বিআরটিসি বাংলাদেশের হরতালের ইতিহাসে বিরল রেকর্ড সৃষ্টি করলো হরতালে সমর্থন দিয়ে। বাংলাদেশের মানুষ দেখলো আওয়ামী চরিত্র। এতদিন বিরোধী দলে যেয়ে না হয় হরতাল করে অঙ্গীকার ভঙ্গ করলো কিন্তু এই বিজয়ের মাসে? তাও আবার সরকারী দল হরতাল করে কি মারাত্মক ইতিহাসই না সৃষ্টি করলো। বিচিত্র আওয়ামী লীগ আর এর চাইতেও বিচিত্র আমাদের স্ব-রাস-টম-নত্রি-মখা আলমগীর সাহেব। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ-------- যাক এই শীতের দিনে অন্তত একটু হাসালেন জাতিকে।

Rakib

Rakib

২০১২.১২.১৯ ১৩:৩২
বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোটের হরতালেও পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে হরতাল বাস্তবায়ন করলে, এর চেয়েও শান্তিপূর্ণ হরতাল হতে পারে।

Md. Mahbubur Rab

Md. Mahbubur Rab

২০১২.১২.১৯ ১৩:৫২
মিডিয়ার কত সহানুভূতিশীল পচার, অহ্লাদে আটখানা যেন!!
২০১২.১২.১৯ ১৫:২৯
ব্যতিক্রমী তো বটেই !

Morshedulislam

Morshedulislam

২০১২.১২.১৯ ১৬:৩৫
ছেলে এত ভাল যে কারো দিকে চোখ তুলে তাকায় না , তাকাবে কিভাবে ছেলেতো অন্ধ । অবস্থা হয়েছে তাই ! নিজেদের যোগ্যতায় তো এতোদিনে হলো না , বুর্জোয়াদের লেজুড়বৃত্তি করে তবুও একটা শখ পূরণ হলো । বাহ !! কী আনন্দ !!

নয়ন ১৭

নয়ন ১৭

২০১২.১২.১৯ ১৮:০৮
হরতাল হরতালই ।

Russell

Russell

২০১২.১২.১৯ ১৮:৪৩
বিএনপি ও এর স্বাধীনতা বিরোধী দোসররা কি এই হরতাল থেকে কিছু শিখবে যে ভয় ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে নয় কিভাবে জনসমর্থন নিয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে হরতাল করা যায়? আমরা ডরতাল/ভয়তাল মুক্ত আন্দোলন চাই। জামাত শিবির যেভাবে পুলিশের উপর আক্রমন চালাচ্ছে সেখানে পুলিশ উদ্যোগী হয়ে হরতালে সহযোগীতা করলে কারো কারো না বুঝে গা জ্বলে কেন?

Khairul Basher

Khairul Basher

২০১২.১২.১৯ ১৯:০৭
It is a training program. Govt. is teaching how to do hartal and how to attain govt. cooperation.

shawkat hossain

shawkat hossain

২০১২.১২.১৯ ২২:৩৮
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি প্রযোজিত পুলিশ পরিচালিত বাসদ ও সিপিবি অভিনীত 'হরতাল' নাটকের সফল মঞ্চায়ন হয়েছে । অভিনন্দন সবাইকে।
২০১২.১২.১৯ ২৩:০৯
Very good instance.