প্রাথমিক অগ্রগতি ভালো, মাধ্যমিক পিছিয়ে

১৭ বছর পর নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই

মোশতাক আহমেদ | তারিখ: ১৯-১২-২০১২

  • ৯ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
প্রাথমিক স্কুলগুলোর ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এসে গেছে সরকারি পাঠ্যপুস্তক। বইগুলো বিনা মূল্যে ব

প্রাথমিক স্কুলগুলোর ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এসে গেছে সরকারি পাঠ্যপুস্তক। বইগুলো বিনা মূল্যে বিভিন্ন স্কুলে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তোলা ছবি ষ আলীমুজ্জামান

বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক ছাপা ও উপজেলায় পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের অগ্রগতি বেশ ভালো। তবে পিছিয়ে আছে মাধ্যমিক স্তরের কাজ। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা থাকলেও মাধ্যমিকের এখনো ১৮ শতাংশ বই যায়নি। তবে প্রাথমিক স্তরের প্রায় সব বই পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হরতালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে পরিবহন-সমস্যায় মাধ্যমিকের কিছু বই এখনো পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে ৯০ ভাগের বেশি বই পাঠানোর জন্য প্রস্তুত আছে। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে আশা করেন তিনি।
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবির হিসাব অনুযায়ী, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের (মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ) তিন কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য মোট ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৬ কপি বই ছাপা হচ্ছে। প্রায় ১৭ বছর পর এবার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে এবারও ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হবে। কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় ছোটখাটো ভুলত্রুটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। তবে এবার যেহেতু নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই ছাপা হচ্ছে, তাই এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য ছোটখাটো ভুলত্রুটি হয়ে গেলে সেটাও আমরা পরে সংশোধন করে নেব।’
এনসিটিবির সূত্রমতে, মোট বইয়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ১০ কোটি ৭৮ লাখের কিছু বেশি। বাকি ১৫ কোটির বেশি বই মাধ্যমিক স্তরের। গতবার মোট বই ছাপা হয়েছিল ২২ কোটির কিছু বেশি। এবারই সবচেয়ে বেশি বই ছাপা হচ্ছে।
মোট ৫৪৮টি লটে দেশীয় মুদ্রাকর ও প্রেস মালিক ছাড়াও ভারতের কৃষ্ণা ট্রেডার্স, গপসন্স পেপারর্স লি. এবং ভিকে উদ্যোগ নামে তিনটি প্রেসের মাধ্যমে বই ছাপানো হচ্ছে। ভারতে প্রাথমিক স্তরের তিন কোটি ২৯ লাখ বই ছাপা হয়েছে। বাকি প্রায় ২৩ কোটি বই দেশেই ছাপানো হচ্ছে।
এনসিটিবির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলায় পাঠানো। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এনসিটিবির প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিকে ৮২ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে। বাকি ১৮ শতাংশ বই পৌঁঁছেনি।
১৭ বছর পর নতুন শিক্ষাক্রমের বই: সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাক্রম তৈরি হয়। তবে সেটা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল ১৯৯৬-৯৭ সালে। দীর্ঘদিন পর আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত পাঠ্যপুস্তক পাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১১১টি বই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩টি বই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত, ৫১টি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এবং ২৭টি বই নবম ও দশম শ্রেণীর। অবশ্য গতবারই সাতটি বই নতুন শিক্ষাক্রমে চালু হয়েছে।
এবারই জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রথমবারের মতো প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার (সাধারণ, মাদ্রাসা ও ইংরেজি) বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ আবশ্যিক বিষয়গুলো একই হচ্ছে। বিষয়গুলোর পরীক্ষায় নম্বর বণ্টনও একই রকম হবে। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (ষষ্ঠ থেকে দশম), কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ) এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা (নবম ও দশম শ্রেণী) বাধ্যতামূলক থাকবে। আর ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নতুন বই হবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি। নতুন বিষয়বস্তু হিসেবে থাকবে প্রজনন স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, এইচআইভি/এইডস, অটিজম, তথ্য অধিকারসহ কিছু বিষয়। এ ছাড়া নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে শিশুদের বইয়ের বোঝা কমানোর জন্য বিষয়বস্তু কমানো হচ্ছে। ধর্মশিক্ষার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষাও যোগ হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছর আগে তৈরি শিক্ষাক্রম এখন আর চলতে পারে না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমরা নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই দিচ্ছি।’
উচ্চমাধ্যমিকেও বিনা মূল্যে বই দেওয়ার চিন্তা: শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের মতো ২০১৪ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। উচ্চমাধ্যমিকেও বিনা মূল্যে বই দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যত সম্ভব ওপরের ক্লাসে বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করানো। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Md. Monzur Morshed Payel

Md. Monzur Morshed Payel

২০১২.১২.১৯ ০৭:৩১
নতুন শিক্ষাক্রম হলেও বই পুরাতন। কারণ মলাটটি শুধু পালটে ফেলা হয়েছে। মাদরাসা ৯ম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বইটি তার প্রমাণ।

Tajerul islam sadhin

Tajerul islam sadhin

২০১২.১২.১৯ ০৮:৪৪
আনন্দ লাগছে! ছোটদের মত!

M Jamal Uddin

M Jamal Uddin

২০১২.১২.১৯ ০৯:৩১
That's Good.

Md. Iqtiar Hossain

Md. Iqtiar Hossain

২০১২.১২.১৯ ০৯:৪৭
বর্তমান সরকারের যেকজন জ্ঞানী মন্ত্রী আছেন। তার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অন্যতম। সকল মন্ত্রী যদি জনগণের জন্য নুন্যতম চিন্তা করত, তাহলে দেশের চেহারা অন্যরকম হত।

২০১২.১২.১৯ ০৯:৫৬
I'm glade bcoz my baby will admit in class-1. Hope he will learn the new curriculum. I think the new curriculum will help students a lot. Thanks to Edu. Minister.

syed Kamal mohammad Mukul

syed Kamal mohammad Mukul

২০১২.১২.১৯ ১১:২০
য়ুগ উপয়োগি ! আমি আশানিত !! ধরমো মানুষের মন ওমানষিকতা নিয়ন্তন করে ! তারসাথে য়োগ হল নিতি শিখখা ! ইনফরমেশন টেক সত্যই দারুন।
২০১২.১২.১৯ ১১:২১
২০০৫সালে দেশের আভ্যন্তরীন আয় ছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা। আর গত বছর আভ্যন্তরীন আয় হয়েছে ১লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবছর আভ্যন্তরীন হবে প্রায় দেরলাখ থেকে দুই লাখ কোটি টাকা। সুতরাং তখন চাল খেয়েছি ২২ - ২৬ টাকায় আর এখন চাল খাচ্ছি ২৫ থেকে ৪০ টাকায়। আর তখন ১ডলার সমান ছিল ৬৮ টাকা আর এখন ১ডলার =৮২ টাকা। ২০০৫ সালে আমাদের রিজার্ভ ছিল ২৫০-৩০০ কোটি ডলার। আর এখন রিজার্ভ হচ্ছে ৯০০-১২০০ ডলার। ২০০৫ সালে আমাদের কোন স্বর্ণ রিজার্ভ ছিল না। এখন বিশ্ব গোল্ড ব্যাংকে আমাদের আছে ১০টন স্বর্ণ। (বর্তমানে প্রতি ১০গ্রাম স্বর্ণের দাম ৬০হাজার টাকা প্রায়)। এখন আমরা প্রথম শ্রেনী থেকে ১০শ্রেনী পর্যন্ত বই পাই একে বারে বছরের প্রথম দিনে। আগামীতে ডিগ্রী পর্যন্ত বাই দেওয়ার চিন্তা চলছে। কিন্তু কয়েকবছর আগেও প্রথম শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত বই দিতে পারতো না কিছু নতুন ও কিছু গত বছরের পুরাতন মিলিয়ে বই দিতো। সুতরাং আমরা কি আমাদের সন্তানদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে চাই না। শিক্ষা ব্যবস্থাতে মোটামুটি ভর্তি, ফরম ফিলআপ, সহ রেজিষ্ট্রেশন সহ প্রায় সকল কার্যক্রম ডিজিটাল হয়ে গেছে। এগুলি কি আমরা একেবারেই অস্বীকার করব। শুধু কম দামে খাওয়াবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই আশাস্বাসে, আমরা সরকার পরিবর্তন করে দিব। তাও কম দামে খেলেই হবে, কৃষকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করতে হবে না। সুতরাং তফাত টুকু বুঝতে শিখুন। বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান গতমাসে বলেছিলেন বাংলাদেশের অর্থণীতি ক্ষিপ্র বাঘের মত এগিয়ে আসছে। আমরা বলি অর্থনীতি ধ্বংস, যা হোক, এখন চাইলে আমাদের সরকার গুলি অনেক বড় বড় প্রকল্প নিজেই বাস্তবায়নের উদ্বোগ নিতে পারে। যা আগে সরকার কল্পনাও করত না। আগে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির পর প্রকল্প গ্রহন করত। কিন্তু সেরকম নয়।

সুতরাং আমাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করেই আমাদেরকে স্থির থাকতে হবে, তাদের ভালর জন্যই আমাদেরকে পরিবর্তনের জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে। একই সরকার বার বার নির্বাচিত করতে হবে। মনে রাখবেন পরিবর্তন মানে সরকার পরিবর্তন নয়, নিজের অবস্থার পরিবর্তন সেই জন্য সরকারকে হতে হবে শক্তিশালি। সরকারের হাতকে করতে হবে শক্তিশালি। নইলে ঠান্ডা মাথার শয়তানেরা নিজেরা ক্ষমতায় যাবার জন্য সরকার পরিবর্তনের কথা বলবে। সরকার পরিবর্তন হবে, শুধু পরিবর্তন হবে না নিজের অবস্থার, অনৈতিক অবস্থার। তাই নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিব

Md. Nurul Islam

Md. Nurul Islam

২০১২.১২.১৯ ১৯:২৯
We are waiting for that date , Thanks hon'ble minister
২০১২.১২.১৯ ২০:১০
কছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে তবে আরো চিন্তা করা উচিত ছিল