প্রাথমিক অগ্রগতি ভালো, মাধ্যমিক পিছিয়ে
১৭ বছর পর নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই
প্রাথমিক স্কুলগুলোর ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এসে গেছে সরকারি পাঠ্যপুস্তক। বইগুলো বিনা মূল্যে বিভিন্ন স্কুলে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তোলা ছবি ষ আলীমুজ্জামান
বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক ছাপা ও উপজেলায় পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের অগ্রগতি বেশ ভালো। তবে পিছিয়ে আছে মাধ্যমিক স্তরের কাজ। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা থাকলেও মাধ্যমিকের এখনো ১৮ শতাংশ বই যায়নি। তবে প্রাথমিক স্তরের প্রায় সব বই পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হরতালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে পরিবহন-সমস্যায় মাধ্যমিকের কিছু বই এখনো পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে ৯০ ভাগের বেশি বই পাঠানোর জন্য প্রস্তুত আছে। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে আশা করেন তিনি।
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবির হিসাব অনুযায়ী, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের (মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ) তিন কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য মোট ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৬ কপি বই ছাপা হচ্ছে। প্রায় ১৭ বছর পর এবার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই দেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে এবারও ১ জানুয়ারি সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়ে পাঠ্যপুস্তক দিবস পালন করা হবে। কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় ছোটখাটো ভুলত্রুটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। তবে এবার যেহেতু নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই ছাপা হচ্ছে, তাই এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য ছোটখাটো ভুলত্রুটি হয়ে গেলে সেটাও আমরা পরে সংশোধন করে নেব।’
এনসিটিবির সূত্রমতে, মোট বইয়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ১০ কোটি ৭৮ লাখের কিছু বেশি। বাকি ১৫ কোটির বেশি বই মাধ্যমিক স্তরের। গতবার মোট বই ছাপা হয়েছিল ২২ কোটির কিছু বেশি। এবারই সবচেয়ে বেশি বই ছাপা হচ্ছে।
মোট ৫৪৮টি লটে দেশীয় মুদ্রাকর ও প্রেস মালিক ছাড়াও ভারতের কৃষ্ণা ট্রেডার্স, গপসন্স পেপারর্স লি. এবং ভিকে উদ্যোগ নামে তিনটি প্রেসের মাধ্যমে বই ছাপানো হচ্ছে। ভারতে প্রাথমিক স্তরের তিন কোটি ২৯ লাখ বই ছাপা হয়েছে। বাকি প্রায় ২৩ কোটি বই দেশেই ছাপানো হচ্ছে।
এনসিটিবির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই উপজেলায় পাঠানো। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এনসিটিবির প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিকে ৮২ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে। বাকি ১৮ শতাংশ বই পৌঁঁছেনি।
১৭ বছর পর নতুন শিক্ষাক্রমের বই: সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাক্রম তৈরি হয়। তবে সেটা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল ১৯৯৬-৯৭ সালে। দীর্ঘদিন পর আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত পাঠ্যপুস্তক পাবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন শিক্ষাক্রম অনুসারে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১১১টি বই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩টি বই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত, ৫১টি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এবং ২৭টি বই নবম ও দশম শ্রেণীর। অবশ্য গতবারই সাতটি বই নতুন শিক্ষাক্রমে চালু হয়েছে।
এবারই জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রথমবারের মতো প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার (সাধারণ, মাদ্রাসা ও ইংরেজি) বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ আবশ্যিক বিষয়গুলো একই হচ্ছে। বিষয়গুলোর পরীক্ষায় নম্বর বণ্টনও একই রকম হবে। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (ষষ্ঠ থেকে দশম), কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ) এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা (নবম ও দশম শ্রেণী) বাধ্যতামূলক থাকবে। আর ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নতুন বই হবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি। নতুন বিষয়বস্তু হিসেবে থাকবে প্রজনন স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, এইচআইভি/এইডস, অটিজম, তথ্য অধিকারসহ কিছু বিষয়। এ ছাড়া নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে শিশুদের বইয়ের বোঝা কমানোর জন্য বিষয়বস্তু কমানো হচ্ছে। ধর্মশিক্ষার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষাও যোগ হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছর আগে তৈরি শিক্ষাক্রম এখন আর চলতে পারে না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আমরা নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বই দিচ্ছি।’
উচ্চমাধ্যমিকেও বিনা মূল্যে বই দেওয়ার চিন্তা: শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের মতো ২০১৪ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। উচ্চমাধ্যমিকেও বিনা মূল্যে বই দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যত সম্ভব ওপরের ক্লাসে বিনা মূল্যে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করানো। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’







Md. Monzur Morshed Payel
২০১২.১২.১৯ ০৭:৩১Tajerul islam sadhin
২০১২.১২.১৯ ০৮:৪৪M Jamal Uddin
২০১২.১২.১৯ ০৯:৩১Md. Iqtiar Hossain
২০১২.১২.১৯ ০৯:৪৭
২০১২.১২.১৯ ০৯:৫৬syed Kamal mohammad Mukul
২০১২.১২.১৯ ১১:২০সুতরাং আমাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করেই আমাদেরকে স্থির থাকতে হবে, তাদের ভালর জন্যই আমাদেরকে পরিবর্তনের জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে। একই সরকার বার বার নির্বাচিত করতে হবে। মনে রাখবেন পরিবর্তন মানে সরকার পরিবর্তন নয়, নিজের অবস্থার পরিবর্তন সেই জন্য সরকারকে হতে হবে শক্তিশালি। সরকারের হাতকে করতে হবে শক্তিশালি। নইলে ঠান্ডা মাথার শয়তানেরা নিজেরা ক্ষমতায় যাবার জন্য সরকার পরিবর্তনের কথা বলবে। সরকার পরিবর্তন হবে, শুধু পরিবর্তন হবে না নিজের অবস্থার, অনৈতিক অবস্থার। তাই নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিব
Md. Nurul Islam
২০১২.১২.১৯ ১৯:২৯