• হোম
  • খেলা
  •   বিসিবির অবস্থান জানতে চান সাবের

গঠনতন্ত্রের বিতর্কিত সংশোধনী

বিসিবির অবস্থান জানতে চান সাবের

ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ১৯-১২-২০১২

  • ৫ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বিসিবির সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন আগেই। কাউন্সিলর হতে কিনে নিয়েছেন বারিধারা ড্যাজলার্স ক্লাবও। তবে কাল ঢাকার একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়ন’ নিয়ে নিজেরই আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নির্বাচনের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলার আগে বিসিবির কাছে গঠনতন্ত্র সংশোধনী নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট অস্পষ্টতার ব্যাখ্যা চান তিনি।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিসিবির সরকার মনোনীত সভাপতি ছিলেন। কিন্তু দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর হঠাৎই কেন সামনে এলেন সাবের চৌধুরী? উত্তরটা তাঁর মুখেই শুনুন, ‘সরকারকে বিব্রত করতে নয়, সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য।’ দ্বিতীয়বার সভাপতি হলে নির্বাচন করেই হবেন, এমন অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তবে সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন কি না, সে বিষয়টা গেলেন এড়িয়ে।
বিসিবির গঠনতন্ত্রের সর্বশেষ সংশোধনী হয়েছে গত ২৯ নভেম্বর। কিন্তু কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এই সংশোধনী দিল এবং সংশোধনীগুলো কাদের স্বার্থে—প্রশ্ন তুললেন সাবের চৌধুরী, ‘যে সংশোধনীগুলো এল, সেগুলো ক্রিকেট বোর্ড, নাকি এনএসসি এনেছে? এনএসসি আনলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ধারার সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। আর বিসিবির অ্যাডহক কমিটির কোনো সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলেই জানি।’
বিসিবির ওপর তবু আস্থা রাখতে চান সাবেক সভাপতি, ‘আমি মনে করি না যে বিসিবি থেকে এ ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। তাদের বেনিফিট অব ডাউট দিতে চাই। তবে বিসিবিকেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বললেও ক্রিকেট বোর্ড এখনো নীরব। নির্বাচিত কমিটি থাকলে হয়তো এনএসসির সংশোধনীর প্রতিবাদ করত।’
অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন স্বাধীন ও স্বচ্ছ হবে না—এমন শঙ্কাও আছে সাবের চৌধুরীর, ‘প্রধানমন্ত্রীও বলেন, অনির্বাচিতদের দিয়ে মৌলিক পরিবর্তন আনা যাবে না। তাহলে অ্যাডহক কমিটির এসব পরিবর্তন আনার এখতিয়ার কি আছে? অ্যাডহক কমিটিতে যাঁরা আছেন, তাঁদের অধীনে নির্বাচনে তাঁরাই প্রার্থী হয়ে গেলে নির্বাচন স্বচ্ছ হবে না।’ কারও নাম উল্লেখ না করেই বললেন, ‘সভাপতি পদপ্রার্থী যদি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাউন্সিলর মনোনয়ন দেন, তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? যাঁর অধীনে নির্বাচন, ভোটার কারা হবেন, সেটাও তিনিই নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। তাহলে তো গণতন্ত্রের কোনো বিষয়ই আর থাকল না!’
এসব কারণেই বিসিবির সর্বশেষ গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রক্রিয়াটি তাঁর দৃষ্টিতে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘অনৈতিক’। উদাহরণ হিসেবে টানলেন সুপার লিগের ক্লাবগুলোকে সাধারণ পরিষদে দুটি করে সদস্যপদ দেওয়ার প্রসঙ্গটি, ‘কোনো দেশেই এক ক্লাবের দুই ভোট থাকে না। পত্রিকায় পড়েছি, অনেক ক্লাবের বাজেট বড় বলে নাকি এটা হয়েছে। টাকার ভিত্তিতে যদি সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ হয়, তাহলে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে তো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সদস্যসংখ্যা সবচেয়ে বেশি হতো!’
সমালোচনা করেছেন সাধারণ পরিষদে জেলা পর্যায় থেকে সদস্য আনার পরিবর্তিত ধারারও, ‘জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর হিসেবে একজনকে মনোনয়ন দিচ্ছেন। এখন তা দেবেন জেলা প্রশাসক। এভাবে ক্রিকেটে সরকারি বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
অথচ পুরোপুরি সরকারি প্রভাবমুক্ত না হলে আইসিসির সদস্যপদ হারানোর হুমকি আছে বিসিবির ওপর। তা ছাড়া, বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল এখন আইসিসির সহসভাপতি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবকিছুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সাবের হোসেন চৌধুরীর তাই আহ্বান, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যক্তিস্বার্থের কথা ভুলে দৃষ্টিটা আরও দূরে ছড়িয়ে দিন।
গঠনতন্ত্র সংশোধনী নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত গত মার্চে বিসিবির বিশেষ সাধারণ সভায়। সাধারণ পরিষদে ক্রিকেটারদের সরাসরি আসার পথ রুদ্ধ করা এবং আরও কিছু বিতর্কিত সংশোধনী প্রস্তাব সেই সভায় পাসও হয়ে গিয়েছিল। তবে সাবেক বোর্ড সভাপতি মুস্তফা কামালের হস্তক্ষেপে এনএসসি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন করেনি সেসব। সেগুলো সমর্থনযোগ্য মনে করেন না সাবের চৌধুরীও।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Nehal

Nehal

২০১২.১২.১৯ ০৪:০৭
We are eagerly waiting to see you as a president of BCB.

২০১২.১২.১৯ ০৫:২২
Still now Bangladesh Cricket Team not winning International Tournament and Test serious continuously . In the cricket board only that person should come who played cricket in his life . Who did not play cricket in their life this type of person should not come to the Cricket Board for stealing Money . Think how we can win 2015 Cricket World cup . Bangladesh should learn from Australian Cricket .

Mehdi

Mehdi

২০১২.১২.১৯ ০৫:৫৮
He is the right man for BD cricket.
২০১২.১২.১৯ ০৯:৪৫
বাংলাদেশ কারও বাপের না..... আর ক্রিকেট কারো একার সম্পদ নয়। তাই সাধু সাবধান।

Md. Jahirul Islam

Md. Jahirul Islam

২০১২.১২.১৯ ১৮:০৩
Sir , we want to see you as BCB president . We belive you are the right person for improve of our cricket. Wish you good luck .