পাকিস্তানে পোলিও নিরোধ কর্মসূচি গুটিয়ে আনবে জাতিসংঘ
পাকিস্তানে পোলিও নিরোধকর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ পোলিও নিরোধ কর্মসূচি গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আজ বুধবার দেশটিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় আরও দুজন মারা গেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আটজনে।
বিবিসি জানায়, আজ পেশোয়ারে পোলিও নিরোধ প্রকল্পের একজন তত্ত্বাবধায়ক ও তাঁর গাড়িচালককে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা এক স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থীও আহত হয়।
এখন পর্যন্ত কেউ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে এর আগে তালেবান জঙ্গিরা পোলিও নিরোধ কর্মসূচি বন্ধের হুমকি দিয়েছিল।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে পোলিও টিকা খাওয়ানোর কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হবে। শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়ানোর জন্য দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেয় জাতিসংঘ।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কর্মকর্তারা চাইছেন, দেশটির কিছু কিছু স্থানে প্রতিষেধক দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা হাসপাতালের বাইরে গিয়ে টিকা খাওয়াতে নারাজ।
পাকিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের মুখপাত্র মাইকেল কোলম্যান বলেন, পোলিও নিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
পেশোয়ারের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা জাভেদ মারোয়াত বলেন, হঠাত্ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে সমস্যা আরও জটিল হবে, কারণ সমস্যাটি এক দিনে সমাধানের নয়। হুট করে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত কেবল পোলিও টিকাদানবিরোধী মহলকেই শক্তিশালী করবে।
তবে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তাঁরা কাজে যাবেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, চরসদর এলাকায় আজ মোটরসাইকেল আরোহী বন্দুকধারীদের গুলিতে পোলিও নিরোধ প্রকল্পের একজন নারী তত্ত্বাবধায়ক ও তাঁর গাড়িচালককে হত্যা করা হয়।
এর আগে পেশোয়ারে একজন পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা চলে। গুরুতর ক্ষত নিয়ে তিনি লেডি রিডিং হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। একজন চিকিত্সক জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা গুরুতর।
সম্প্রসারিত প্রতিষেধক কার্যক্রমের উপপ্রধান জান বাজ আফ্রিদি জানান, নওশেহরা এলাকায় দুর্বৃত্তরা চারজন নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে এতে কেউ আহত হয়নি।
হামলার পেছনে তালেবান জঙ্গিদের হাত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তালেবানরা অভিযোগ করে আসছে, টিকা দেওয়ার মাধ্যমে খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের নির্বীজ করতে চাইছে। তবে, আজ পাকিস্তানের তালেবানদের মুখপাত্র ইহসানুল্লাহ ইহসান রয়টার্সকে বলেছেন, চলমান সহিংসতার সঙ্গে তাঁর দলের কোনো যোগ নেই।
কার্যত ২০১১ সালে একজন পোলিও নিরোধকর্মীর সহায়তায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। এর পর থেকে পাকিস্তানের অনেক এলাকার জনসাধারণের ধারণা, পোলিও নিরোধ কর্মসূচি মূলত মার্কিন চক্রান্ত।
এর আগে জঙ্গিরা পোলিও নিরোধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি বেসরকারি সংস্থার কয়েকজন কর্মীকে অপহরণ ও হত্যা করে। সে সময় জঙ্গিরা বলেছিল, ওই কর্মীরা তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি চালাচ্ছিলেন।
পাকিস্তানে তিন দিনের পোলিও নিরোধ কর্মসূচির আজ ছিল শেষ দিন। এ সময় প্রায় ৫২ লাখ শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানোর কথা ছিল। বিশ্বে এখন কেবল পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াতেই প্রাণঘাতী পোলিও মহামারি আকারে টিকে আছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ আজ বুধবার বলেছেন, পোলিও নিরোধ কর্মসূচি জারি থাকা আবশ্যক। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিশুদের ওপর পোলিওর এ ধরনের আক্রমণ আমরা মেনে নিতে পারি না।’
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৪ সালে দেশটিতে পোলিও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজার। ২০১২ সালে এ সংখ্যা মাত্র ৫৬-তে নেমে এসেছে।







Shammi
২০১২.১২.১৯ ১৯:২৩ezazul haque
২০১২.১২.১৯ ২২:৫২