ইসরায়েলের হাতে পাকিস্তানের পারমাণবিক গবেষণার তথ্য
জোনাথান পোলার্ডের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ। ছবিটি গত বছর তোলা।
ছবি . রয়টার্স
গত শতকের আশির দশকে পাকিস্তানের পারমাণবিক গবেষণার অগ্রগতির তথ্য হাতে পেয়েছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি গুপ্তচর জোনাথান পোলার্ডের দায়িত্ব ছিল সেসব তথ্য জোগাড় করা। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির ভিত্তিতে ‘দ্য ডন’-এর একটি খবরে আজ এ কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের কাহুতা পারমাণবিক গবেষণা চুল্লির ওপর তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নথি ১৯৮৪ এবং ১৯৮৫ সালে পোলার্ড ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
একজন মার্কিন নাগরিক এবং মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী হওয়া সত্ত্বেও পোলার্ড ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮৭ সালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁর কারাদণ্ড হয়। তবে ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বরের পর তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেতে পারেন।
গত সপ্তাহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ‘দ্য জোনাথান জে পোলার্ড এসপিওনেজ কেস: অ্যা ড্যামেজড অ্যাসেসমেন্ট’ শিরোনামের একটি নথি প্রকাশ করে। এ নথিটি ১৯৮৭ সালের ৩০ নভেম্বর তৈরি করা হয়েছিল।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা মহাফেজখানা প্রকল্পের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নথিটি প্রকাশ করা হয়। এতে ইসরায়েলি চর হিসেবে পোলার্ডের কর্মকাণ্ডের বিবরণ লেখা আছে।
প্রকাশিত নথিটি থেকে জানা যায়, পোলার্ড বিভিন্ন আরব দেশ ও পাকিস্তানে পারমাণবিক গবেষণার ওপর তথ্য সংগ্রহ করতেন। তাঁর গুপ্তচরবৃত্তির অন্যান্য লক্ষ্য ছিল আরবের বিভিন্ন দেশের আকর্ষণীয় অস্ত্রসম্ভার, রাসায়নিক অস্ত্র, সোভিয়েত ইউনিয়নের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, আরবের যুদ্ধপ্রস্তুতি ইত্যাদি।
নথিতে বলা হয়, পোলার্ড ইসরায়েলের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য জোগাড় করতেন। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের কাছে একটি চুল্লিতে প্লুটোনিয়াম পরিশোধনের ওপরে তথ্যও তিনি জোগাড় করেছিলেন।
নথিটির অন্তত ১০টি স্থানে পাকিস্তান ও এর পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পোলার্ডের তত্পরতার বিবরণ আছে। কিছু কিছু জায়গায় আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এবং সে যুদ্ধে পাকিস্তানের তত্পরতার উল্লেখ আছে।
সিআইএ কীভাবে পাকিস্তানের পারমাণবিক গবেষণার তথ্য হাতে পেল, তা এ নথি থেকে জানা যায়নি। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত আরও কয়েকটি নথি থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






