বুম্বাদা থেকে কাকাবাবু
-
প্রসেনজিতৎ
ছবি: আনন্দ
-
-
-
-
-
-
: হ্যালো, বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ)। আপনার সঙ্গে একটু আড্ডা দিতে চাই।
: খুব ভালো, কাল (১৪ জানুয়ারি) চলে আসুন।
: কোথায় আসব?
: জায়গাটা কলকাতা শহর থেকে খানিকটা দূরে। চব্বিশ পরগনার সোনারপুরের বনহুগলি গ্রাম পঞ্চায়েত। নেপালগঞ্জ বললে সবাই চিনবে। এখানে নতুন একটি স্টুডিও হয়েছে, পার্পেল মুভি টাউন। বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে আসুন। এরপর শুটিংয়ের ফাঁকে একটু সময় বের করে নেব।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাই পার্পেল মুভি টাউনে। সঙ্গে আছেন আলোকচিত্রী ভাস্কর মুখার্জি। স্টুডিওর বাইরে পায়চারি করছেন আর মন দিয়ে মুঠোফোন বার্তা পড়ছেন প্রসেনজিৎ। হুট করে তাঁকে দেখলে একটু অবাক হতে হবে। মুখে মেকআপ। চুলগুলোও অন্য রকম। সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই হাত বাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। নিয়ে গেলেন দোতলায়, নিজের রুমে। অনুরোধ করলেন, ‘কিছুক্ষণ বসতে হবে। এখন শট চলছে। দুপুরে খাবারের পর আমরা কথা বলব।’ এরপর বেরিয়ে যান তিনি।
রুমের সামনে দরজায় লেখা আছে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, অভিনেতা। চা আর নাশতা নিয়ে ঢুকলেন প্রসেনজিতের একজন সহকারী। বললেন, ‘কলকাতার প্রায় সব স্টুডিওতেই এভাবে নাম লিখে বুম্বাদার জন্য আলাদা রুম রাখা আছে।’
দুপুরের খাবারের পর প্রসেনজিৎ তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে পাঠালেন। তিনি আমাদের নিয়ে গেলেন একটি ওভি ভ্যানে। জানালেন, কলকাতায় একমাত্র প্রসেনজিতেরই ব্যক্তিগত ওভি ভ্যান রয়েছে। কাজের ফাঁকে তিনি ওভি ভ্যানেই সময় কাটান।
এই মেকআপে আপনাকে একটু অন্য রকম লাগছে। কোন ছবির শুটিং করছেন?
প্রসেনজিৎ বললেন, ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সিরিজের মিসর রহস্য। এর আগে সুনীলদার লেখা কাহিনি থেকে দুটি ছবি করেছি—অপরাজিতা ও মনের মানুষ। বছর দুয়েক আগে একদিন সুনীলদার বাড়িতে আড্ডা দিচ্ছি। তাঁকে বললাম, আমার অনেক কিছু করা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সিরিজ করিনি। কাকাবাবুটা তুমি আমাকে দাও। সুনীলদাও রাজি হয়ে গেলেন। এবার আমি কাকাবাবু।’
প্রসেনজিতের সামনে তখন এই ছবির চিত্রনাট্য। পরবর্তী দৃশ্যের সংলাপগুলো মুখস্থ করছেন। সঙ্গে আছে ল্যাপটপ। বললেন, ‘আজকের কাকাবাবুর হাতে কিন্তু ল্যাপটপ আছে। আমরা কাকাবাবুকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করছি। তাতে সুনীলদাও অমত করেননি। দুঃখ একটাই—ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার আগেই সুনীলদা চলে গেলেন।’
জানালেন, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ছবির শুটিংয়ের জন্য মিসর যাচ্ছেন তাঁরা। ছবির একটি বড় অংশের কাজ হবে মিসরের কায়রোতে। বললেন, ‘হলিউডের ইন্ডিয়ানা জোনস ছবিতে যে ধরনের কারিগরি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, এ ছবিতেও তেমনটি থাকছে। আমরা পাঁচ বছরে কাকাবাবু সিরিজের তিনটি ছবি করব।’
উত্তমকুমারের পর একটা কথা খুব শোনা যেত—কলকাতার বাংলা ছবির বাজার শেষ। এরপর সেই ১৯৮০ সাল থেকে শুরু করে কলকাতার বাংলা ছবিকে আজকের মজবুত অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে যে কজন শিল্পী ও কলাকুশলীর অসামান্য অবদান রয়েছে, তাঁদের অন্যতম প্রসেনজিৎ। জানালেন, ১৯৮০ সালে দুই পৃথিবী ছবি দিয়ে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু। এরপর এখন পর্যন্ত তাঁর ৩৪২টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণার সঙ্গে, ৫২টি। এরপর করেছেন রচনার সঙ্গে ৩০টি এবং শতাব্দীর সঙ্গে ২৮টি ছবি। বললেন, ‘এখনো যখন শট দিতে যাই, মনে হয় এটাই আমার প্রথম ছবি। আর পরিচালক আমার শিক্ষক। যে দর্শকেরা ছবিটি দেখতে আসবেন, তাঁরা আমার প্রথম ছবিটি দেখবেন।’
গত ১০ জানুয়ারি ঢাকায় এসেছিলেন প্রসেনজিৎ। ফিরে গিয়ে তিনি বললেন, ‘আমাদের দুই বাংলা মিলে চলচ্চিত্রের বাজারটা কিন্তু অনেক বড়। দুই বাংলার ছবির বাজারকে যদি এক করা যায়, তাহলে আমরা ভারতের তামিল, মালয়ালাম কিংবা তেলেগুর বাজার থেকে কোনো অংশে ছোট থাকব না।’
জানালেন, শিগগিরই কলকাতায় বাংলাদেশের চারটি নতুন ছবি মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। আর প্রথম ছবিটি হবে রেদওয়ান রনির চোরাবালি। পাশাপাশি বাংলাদেশে পুরোনো বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ সংস্কার করে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং নতুন অনেকগুলো প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করা হবে।
এদিকে ওভি ভ্যানের বাইরে অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন মিসর রহস্য ছবির প্রযোজক শ্রী ভেনকাটেশ ফিল্মের কর্ণধার শ্রীকান্ত মেহতা ও মহেন্দ্র সোনি। সেদিকে এতটুকু খেয়াল নেই প্রসেনজিতের। প্রসেনজিৎ কাকাবাবু হচ্ছেন, তাঁর ছেলে কৃষানজিতের অনুভূতি কেমন? প্রসেনজিৎ বললেন, ‘ও খুব এক্সাইটেড। শুটিং শেষে বাসায় ফেরার পর এটা-ওটা জিগ্যেস করে। ওর বয়স এখন নয়। মজার ব্যাপার কি জানেন—কৃষানজিৎ কিন্তু দেবের (কলকাতার এ সময়ের আরেকজন জনপ্রিয় অভিনেতা) বিশাল ভক্ত। আর ওদের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্ব।’
আড্ডা শেষ করতে হবে। এবার উপস্থাপক বুম্বাদার কথা শুনব। জি বাংলার ‘বাংলার সেরা পরিবার’-এর পর আর কোনো অনুষ্ঠান উপস্থাপনার ইচ্ছে আছে? প্রসেনজিৎ হাসতে হাসতে বললেন, ‘বলছেন কি, এই অনুষ্ঠান থেকে আরও কিছু পয়সা রোজগার করে নিই! অন্তত তিনটা সিজন প্রচার হোক, তারপর না হয় দেখা যাবে।’
বাকি রয়ে গেলেন শুধু অর্পিতা, বুম্বাদার স্ত্রী। বললেন, ‘ছেলের জন্য তো অর্পিতা অনেক দিন চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারেনি। এখন আবার টুকটাক করছে। এরপর বাংলাদেশে গেলে ওকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। ওর খুব শখ।’
প্রসেনজিতের ছবি তোলা হবে। অনুরোধ করলেন, ‘প্লিজ, এখন না। কাকাবাবুর এই লুকটা আমরা এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’
ওদিকে কাকাবাবুর জন্য স্টুডিওর সেটে সবাই প্রস্তুত। বুম্বাদাও ছুটে গেলেন স্টুডিওতে। যাওয়ার সময় পেছন ফিরে হাত উঁচিয়ে বিদায় জানালেন কাকাবাবু।







Muzibur rahman
২০১৩.০১.২৪ ০৮:৩৩Farzana Rahman Linda
২০১৩.০১.২৪ ১১:৪২