প্রথম আলো-ট্রাস্ট ত্রাণ কার্যক্রম
বাংলাদেশের দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য প্রথম আলো ত্রাণ তহবিল গঠিত হয়। বন্যা, সিডর, আইলা, শৈত্যপ্রবাহসহ বিভিন্ন দুর্যোগে আর্তমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেছে প্রথম আলো ত্রাণ তহবিল।
এসব ছাড়াও কুড়িগ্রাম চরে স্কুল প্রতিষ্ঠা, সাতক্ষীরায় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, পুকুর খনন, জামালপুরে নৌকা সাহায্য ইত্যাদি কার্যক্রমে বছরব্যাপী দেশের মানুষের জন্য সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
গত এক বছরে ত্রাণ কার্যক্রমের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
কুড়িগ্রাম প্রথম আলো স্কুল: কুড়িগ্রামে প্রথম আলো চরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ১৫ মে, ২০১০। স্কুলটিতে ১০০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যদিও বর্তমানে ১০৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। দুই ঘরবিশিষ্ট স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের দুপুরের খাবারসহ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। দুজন শিক্ষক এই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া একজন কর্মচারী নিয়োজিত আছেন সার্বিক দেখাশোনার জন্য। প্রথম আলো চর নামেখ্যাত এই চরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুব্যবস্থার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বর্তমানে মাসিক ৩০ হাজার টাকা ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে এবং ১০৩ জন শিক্ষার্থী শিক্ষার আওতায় আছে।
আইলাদুর্গত: আইলাদুর্গতের জন্য প্রথম আলো কার্যক্রম থেকে ডাল, চাল, লবণ, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। এর সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে বস্ত্রও বিতরণ করা হয়। ঘর তোলার সরঞ্জাম, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ছাড়া আরও বিবিধ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে আইলাদুর্গত অঞ্চলে।
ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র: আইলাদুর্গত অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক হাজার দুর্গতকে আশ্রয় দেওয়ার মতো একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়। বছরের স্বাভাবিক সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র স্কুল হিসেবে ব্যবহূত হবে। এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ করাও হবে আশ্রয়কেন্দ্রের অন্যতম কাজ। এইচএসবিসির সহযোগিতায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সাইক্লোন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় কারিতাসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। আশ্রয়কেন্দ্রসংলগ্ন পুকুর খনন করে ওই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের পানির সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
নৌকা: জামালপুরে কাচিহারা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য দুটি নৌকার সহায়তা করা হয়। কাচিহারা স্কুলের শিক্ষার্থীরা পানিবদ্ধ অবস্থায় বিভিন্ন উপায়ে (সাঁতার কেটে, হাঁড়ি দিয়ে) পানি পার হয়ে স্কুলে যেত। এই নৌকার ফলে তারা একসঙ্গে সবাই নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারছে। শিক্ষার্থীরা এই নৌকায় নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পেরে খুবই খুশি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






