প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক

‘তামাকের বিপদ: উত্তরণের পথ কী’

| তারিখ: ১০-০৬-২০১১

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
‘তামাকের বিপদ উত্তরণের পথ কী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক গতকাল প্রথম আলোর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়

‘তামাকের বিপদ উত্তরণের পথ কী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক গতকাল প্রথম আলোর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়

ছবি: প্রথম আলো

গত ২৮ মে প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘তামাকের বিপদ: উত্তরণের পথ কী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগিতায় ছিল ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো

যাঁরা অংশ নিলেন
আ ফ ম রুহুল হক
মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম এ মালিক
সাবেক উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও মহাসচিব, জাতীয় হূদরোগ ফাউন্ডেশন।
কাজী রফিকুল আলম
প্রেসিডেন্ট, ঢাকা আহছানিয়া মিশন।
ফরিদা আক্তার
নির্বাহী পরিচালক, উন্নয়ন বিকল্পে নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনিগ)।
জেড আই খান পান্না
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট;
চেয়ারম্যান, হিউম্যান রাইটস কমিটি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
ডা. অরূপ রতন চৌধুরী
সভাপতি, মানস;
বিভাগীয় প্রধান, ডেনটিস্ট, বারডেম।
মোস্তফা জামান
ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
তানজীব-উল আলম
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
ডা. ইকবাল কবীর
সমন্বয়কারী, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন
সহকারী অভিযোক্তা (পাবলিক প্রসিকিউটর), বান্দরবান জেলা জজকোর্ট।
ড. নিগার নার্গিস
সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সাইফুদ্দিন আহমেদ
নির্বাহী পরিচালক, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) ও সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট।
সিনথিয়া ফরিদ
আইন পরামর্শক, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)।
আমিনুল ইসলাম
প্রকল্প সমন্বয়কারী, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট)।
হাসিবুর রহমান
নির্বাহী পরিচালক, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)।

সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম: যুগ্ম সম্পাদক, প্রথম আলো

আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম
আজকে আলোচনায় যাঁরা অংশ নিচ্ছেন, তাঁরা সবাই তামাকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সবাইকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমাদের যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, যেটি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয়েছিল, পরে আরও কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়েও আলোচনা করা হবে।
বছরে তামাকজনিত রোগে বিশ্বে ৫০ লাখের বেশি লোক মারা যায়। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০৩০ সালের দিকে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় এক কোটি লোক মারা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ৭০ ভাগই আমাদের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর অধিবাসী। বিশ্ব আজ তামাক-মহামারিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
সিগারেটের ধোঁয়ার মধ্যে প্রায় ৪০টি রাসায়নিক উপাদান কারসিনোজেন অর্থাৎ ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। নিকোটিন হচ্ছে মারাত্মক রাসায়নিক দ্রব্য, যা মানুষকে নেশায় আচ্ছন্ন করে। আরও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যেগুলো মানবদেহের বিভিন্ন ক্ষতি করে থাকে। যেমন, রাসায়নিক উপাদান ফরমালডিহাইড আছে তামাকে, যা মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহূত হয়। এটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী একটি উপাদান। কার্বন মনো-অক্সাইড—এটি একটি বিষ। যা লিউকোমিয়া সৃষ্টি করে। অ্যামোনিয়া, যা টয়লেট পরিষ্কারে ব্যবহূত হয়। এসব রাসায়নিক উপাদান ধূমপানের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং ফুসফুসে জমা হয়, যা ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর মুখে আমাদের ঠেলে দেয়। যারা ধূমপান করে, তাদের প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে এই ধূমপান। তাদের বেশির ভাগই মাঝবয়সে মৃত্যুবরণ করে। এসব পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ধূমপান কত বড় একটি অভিশাপ!
বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে ৭০০ কোটি সিগারেট উৎপন্ন হয়, যা ১৯৯৭ সালে ছিল মাত্র ১৫০ কোটি। যেখানে ধূমপানের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ক্যাম্পেইন বাড়ছে, সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছেই। সিগারেট উৎপাদনের পরিমাণ কমছে না, কারণ গত কয়েক বছরে সিগারেটের ওপর শুল্কের হার মাত্র এক শতাংশ বেড়েছে। সুতরাং, সিগারেট উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
আগের দিনে একটি সময় ছিল, সিগারেট পান করা স্টাইল মনে করত অনেকে। কিন্তু এখন এটি সম্পূর্ণ বিপরীত। এখন দেখা যায়, তরুণেরা সিগারেট না খাওয়াকেই স্টাইল মনে করে। এ রকম একটি অনুকূল অবস্থায় আমরা যদি সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও বাড়াতে পারি, তাহলে তরুণসমাজকে ধূমপান ও তামাকমুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। তামাকের ওপর বিধিনিষেধ করে অনেক আইন থাকলেও সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও অনেকে প্রকাশ্য স্থানে ধূমপান করেন।
আমরা প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ স্লোগান নিয়ে শপথ সংগ্রহের কার্যক্রম করেছিলাম। সেখানে অনেকে শপথ করেছিলেন, ধূমপান আর করবেন না এবং তাঁরা তা রক্ষা করেছিলেন। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রচারের জন্য জাতীয় কর্তব্য হিসেবে গণমাধ্যমগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আজকের আলোচনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার মোস্তফা জামানকে অনুরোধ করছি।

মোস্তফা জামান
আমাদের দেশে ধোঁয়াহীন তামাক, জর্দা, সাদা পাতা, গুল, খয়ের—এগুলো অনেক বেশি ব্যবহূত হয়। তামাকের পাতাই শুধু তামাক হিসেবে ব্যবহূত হয় না; এর মূল, কাণ্ড, ডালও ব্যবহূত হয়। যেমন, বিড়ি তৈরিতে কাণ্ড, গুল তৈরিতে মূল ও কাণ্ড পাতার সঙ্গে মিশিয়ে গুঁড়া করা হয়। সুতরাং আইনে তামাকের সংজ্ঞায়নে শুধু তামাকের পাতার কথা উল্লেখ থাকলেও সংশোধনীতে আমরা তামাকগাছের অন্যান্য অংশ ব্যবহারের প্রসঙ্গে প্রস্তাব করেছি। তামাকের পাতা যত শক্তভাবে মানুষকে আঘাত করতে পারে, তত মানুষ আসক্ত হয়। তেমনি তামাকের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান নিতে হবে। তামাক মানবদেহের মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত ক্ষতি করতে সক্ষম। তামাকের কারণে মস্তিষ্কের স্ট্রোক, মুখের ক্যানসার, শ্বাসনালি ও ফুসফুসের ক্যানসার, পায়ে পচন ধরাসহ অনেক রোগ হতে পারে। তামাকের কারণে শ্বাসনালির ক্যানসার ছাড়াও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আমাদের দেশে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের হার হূদরোগের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশে ধোঁয়াযুক্ত তামাক (সিগারেট, বিড়ি) সেবনকারীর হার পুরুষদের মধ্যে বেশি হলেও নারীরাও সমান হারে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ, তাঁরা পুরুষের দ্বারা পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। পাবলিক প্লেস ও কারখানাগুলোতে অন্যের ধূমপানের কারণে পরোক্ষভাবে এর শিকার হচ্ছেন। তামাকের আইন কার্যকর করার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত পাবলিক প্লেস ও ট্রান্সপোর্ট নিশ্চিত করার সুপারিশ করছি। ধূমপানে আকৃষ্ট করার জন্য উৎপাদনের সময় কিছু রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়, যা নিকোটিনের চেয়ে ক্ষতিকর। ক্ষতিকর এসব রাসায়নিক পদার্থ অর্ধেক তামাকের মধ্যে থাকে, বাকি অর্ধেক যখন তামাক পোড়ে, তখন উৎপন্ন হয়।
পশ্চিমা বিশ্বে তামাক বলতে সিগারেট বা ধূমপানকে বোঝায়। কিন্তু ধোঁয়াযুক্ত তামাকের চেয়ে ধোঁয়াহীন তামাক বেশি ক্ষতি করে থাকে।
বাংলাদেশে ধোঁয়াযুক্ত তামাক (সিগারেট, বিড়ি ইত্যাদি) সেবনকারীর হার পুরুষের মধ্যে বেশি। তবে ধোঁয়াহীন তামাক (জর্দা, সাদা পাতা ইত্যাদি) সেবনকারীর হার পুরুষ ও নারীর মধ্যে প্রায় সমান। তামাক ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বাজারজাতকরণের কৌশল নির্ধারণ করছে। চাল-ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও বিড়ি-সিগারেটের দাম বাড়েনি। অন্যদিকে আমাদের ধূমপানবিরোধী প্রচার-প্রচারণা অনেকটা দুর্বল।
গত শতকে ধূমপানের কারণে ১০০ মিলিয়ন লোক মারা গেছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে এই শতকে মৃতের সংখ্যা এক বিলিয়ন হবে। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ ধূমপায়ী চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ব্রাজিল, বাংলাদেশ, জার্মানি ও তুরস্ক—এই ১০টি দেশের বাসিন্দা। আর সমস্যাটি মূলত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের হবে। সুতরাং আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, আমরা উন্নত বিশ্বের ব্যবসার শিকার হব কি হব না। কারণ উন্নত বিশ্বে তামাকের ব্যবহার ইতিমধ্যে অনেক কমে গেছে। সেখানে মানুষ সচেতন এবং আইনগুলো খুব শক্তিশালী।
আমাদের দেশে যারা অতিরিক্ত ধূমপায়ী, তারা অপ্রাপ্ত বয়সে মারা যায়। অর্থাৎ ৫০ বছরের খুব বেশি বাঁচতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার গড় বয়স ৬১ বছর আর আমাদের দেশে তা মাত্র ৫১ বছর।
বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৪৩ শতাংশ মানুষ ধূমপান করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৪ সালের হিসাবমতে, ধূমপানের কারণে বাংলাদেশে বছরে ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায় এবং তিন লাখ ৮২ হাজার মানুষ প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে।
পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারীর ধূমপানে আক্রান্ত হওয়ার হার কম হলেও একটি ভয় কিন্তু রয়ে যাচ্ছে। যদি তাদের তামাক ধরিয়ে দেওয়া যায়, তবে তামাকের ব্যবহার এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সুতরাং আমাদের নারীসমাজ যেন কোনোক্রমে ধূমপানে প্রলুব্ধ বা আসক্ত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কিন্তু শঙ্কার বিষয়, সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান ও মাদক গ্রহণে নারীর আসক্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।
সিগারেটের প্যাকেটের ওপর লেখা উচিত এতে কী কী রাসায়নিক উপাদান আছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আমাদের আইনে আছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে এসব তথ্য জমা দেবে, যা জনগণ না জানলেও চলবে। এ ধরনের আইনের দুর্বলতা দূর করতে হবে।
আমাদের গণমাধ্যমে সিগারেটের প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন প্রচার কমলেও তরুণসমাজকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা বাড়াচ্ছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু সিগারেটের প্যাকেটে ক্ষতিকর দিকের কথা লেখা থাকলে খুব বেশি মানুষকে সচেতন করা যাবে না। কারণ অধিকাংশ লোক নিরক্ষর। সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে ক্ষতিকর দিকগুলোর ছবিও রাখা উচিত। থাইল্যান্ডে ক্ষতিকর দিকগুলোর ছবিসহ উপাদানের নাম উল্লেখ করা থাকে।

আ ফ ম রুহুল হক
আজ যে তামাকবিরোধী আন্দোলন, তাতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণীর অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। কারও একার পক্ষে ধূমপানবিরোধী আন্দোলনে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়।
যাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়ছি, তারাও কম শক্তিশালী নয়। তারা ব্যবসায়ী; শক্তি, টাকা-পয়সা আছে। তারা আইনের ফাঁকফোকর খুঁজছে, কীভাবে তাদের ব্যবসা বাড়ানো যায়। তারা আধুনিক নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করছে। অনেক আধুনিক মেয়ে সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে।
উন্নত বিশ্বে নারীরা এখন অনেক বেশি ধূমপায়ী। আমাদের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী তরুণসমাজকে টার্গেট করে এগোচ্ছে। তামাক চাষের চেয়ে অধিক লাভবান অর্থকরী ফসল আমাদের আছে। সেদিকে উৎসাহিত করতে পারলে তামাক চাষ কমবে।
অ্যান্টি স্মোকিং ক্যাম্পেইন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা চালিয়ে আসছে। সরকারের পাশাপাশি তাদের সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতার আশ্বাস আমরা দিচ্ছি। আমরা তামাকবিরোধী কার্যক্রমে আংশিক সফল হয়েছি, সম্পূর্ণ হতে পারিনি। আমরা তামাকবিরোধী যে আইনটি করেছি তার খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় কিছু পরিবর্তন-পরিমার্জনের পর ফেরত পাঠালেই আইনটি সংসদে উত্থাপন করা হবে। আমরা তাগিদ দিচ্ছি, শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল করা হয়েছে। এই সেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসব বিষয় তদারক করার জন্য। তামাকের ওপর কর বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। কম দামি সিগারেটের ওপর কর কম আছে। সেটি বাড়ানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ করছি। জরিমানা করেই হোক আর অতিরিক্ত করারোপ করেই হোক—এসব ছাড়া ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করা যাবে না।
তামাক থেকে যে কর আয় করা হয় তার একটি অংশ চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়। আবার, পরিবহন থেকে যে কর আদায় করা হয় তার একটি অংশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চেয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ব্যয় করার জন্য। ক্যানসার চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল। চিকিৎসাব্যবস্থা ও সামগ্রী বাড়িয়ে আমরা এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতে চাই।
তামাক থেকে যে কর আদায় হয় তার দুই-তিন শতাংশ আমরা চেয়েছি। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ হলো নন-কমিউনিকেবল রোগ; যেমন হূদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস। এসব রোগের অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান। আগামী সেপ্টেম্বরে সকল দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে ইউএন সম্মেলন বসবে, কীভাবে এই রোগগুলোর ঝুঁকি কমানো যায় সে ব্যাপারে আলাপ-আলোচনার জন্য। সেখানে কিন্তু তামাকের ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা করা হবে। মানুষকে যদি বোঝানো যায় ধূমপানও একটি বিষ, তবে এটি কমানো সম্ভব। এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অপরিসীম। বিশ্বে শিক্ষিত ও সচেতন সমাজে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমে আসছে।
মানুষের ইচ্ছাশক্তিই মূল ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তামাক ব্যবসায়ীদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তরুণ শিক্ষার্থীরা। তারা জানে যে যদি এদের ধূমপান-আসক্ত করা হয় তবে আগামী ১৫ বছরের জন্য নিশ্চিত ব্যবসা আছে। তাদের বাদ দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হবে না। তাদের সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করতে হবে। আমার জানামতে, অনেক তামাক ব্যবসায়ী অন্য ক্ষেত্রে অনেক ভালো কাজ করছেন। সুতরাং তাঁদেরও বোঝাতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। আমাদের অনেক আইন আছে কিন্তু সেগুলোর প্রয়োগ হচ্ছে না। আমাদের আইনগুলো কার্যকর করতে হবে।
আমাদের নিজেদের মধ্যে সহনশীলতাও বাড়াতে হবে। আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমাদের দেশে উন্নয়ন করা সম্ভব, যদি সবাই মিলে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারি। তামাকবিরোধী আন্দোলন যত বেশি সক্রিয় হবে তত এ ক্ষেত্রে আমরা সফল হব।

ফরিদা আক্তার
২৮ মে বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস, যেদিন আমরা বৈঠক করছি। কাজেই নারীরা তামাকে আসক্তির ফলে যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, এ বিষয়গুলো সংগতিপূর্ণ। গর্ভস্থ শিশুর ওপর সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাবে মৃত ও বিকলাঙ্গ শিশু জন্মাচ্ছে। এগুলো কিন্তু একটি ভয়াবহ চিত্র। ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজগুলোতে গবেষণা হয়েছে।
বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস কাছাকাছি সময় হওয়ায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। যাঁরা নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা কিন্তু তামাকের কথা বলছেন না। আবার যাঁরা তামাক নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা নিরাপদ মাতৃত্বের বিষয়গুলোর ওপর জোর দিচ্ছেন না। কিন্তু আমরা দেখছি, নিরাপদ মাতৃত্বের ওপর বিরূপ প্রভাব রাখছে তামাক। জর্দা ও সাদা পাতা সেবন পুরুষদের ধূমপানের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে নারীদের।
আমরা তামাকবিরোধী নারী জোট গঠন করেছি। আমরা যখন বিভিন্ন জেলায় বৈঠক করি, তখন নারীরা বলেন, তাদের বেশির ভাগই আগে ধোঁয়াহীন তামাক (জর্দা বা সাদা পাতা) ইত্যাদি সেবন করতেন, যা তাঁদের দাঁতে ও বিভিন্ন অঙ্গে ক্ষতি করছে। তাঁরা তা এখন বুঝতে পারছেন।
আমরা তামাক চাষ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বান্দরবান ও কুষ্টিয়ার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, তামাকের বীজ বপন থেকে শুরু করে পাতা তোলা পর্যন্ত যে প্রচুর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তার সঙ্গে যাঁরা সম্পৃক্ত থাকেন, তাঁদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। নারী ও পুরুষদের বেশি কোমরের ব্যথা দেখা যায়, কারণ তামাক চাষে প্রচুর ওঠা-বসা করতে হয়। তামাক চাষি যাঁরা আছেন, তাঁদের ফুসফুসজনিত অনেক রোগ দেখা যায়। তামাক চাষিরা বলেন, যাঁরা তামাক চাষ করে ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন, তাঁদের নিজেদের চিকিৎসা করতে গিয়ে পাঁচ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। তামাকপাতা ঠিক দামে কোম্পানি কিনবে কি না, এ চিন্তায় অনেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
যেসব সাংসদ তামাকের ওপর করের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কি আমরা অভিযোগ আনতে পারি না যে, তাঁরা দেশের একটি আইনের বিরোধিতা করছেন? শুধু গরিব মানুষ ও মানুষের মৃত্যু হচ্ছে যার কারণে, সেই তামাকের পক্ষে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সেই মৃত্যুর জন্য দায়ী করা যায়। আমাদের সবাইকে এ জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে তামাক প্রতিরোধে।

আব্দুল কাইয়ুম
তামাকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে যাঁরা ধূমপায়ী ও তামাক সেবনকারী আছেন, তাঁরা এ অভিশাপ থেকে বের হয়ে আসবেন। আলোচনার এ পর্যায়ে মানসের সভাপতি অরূপ রতন চৌধুরীকে বলার জন্য অনুরোধ করছি।

অরূপ রতন চৌধুরী
আমরা সবাই জানি, তামাক আমাদের মৃত্যু ডেকে আনছে। আমাদের তামাকবিরোধী যে আইন আছে, তা যথেষ্ট শক্তিশালী নয় এবং কার্যকর হচ্ছে না।
নারীদের মধ্যে ধোঁয়াহীন তামাকের আসক্তির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু ধোঁয়াহীন তামাকের কথা স্পষ্ট করে আইনে কিছু বলা নেই। আমাদের অধিকাংশ লোক নিরক্ষর, সেখানে শুধু সিগারেটের প্যাকেটে ধূমপানের ক্ষতির কথা উল্লেখ থাকলে সচেতনতা বাড়বে না। যেখানে উন্নত দেশ ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো ছবিসহ প্যাকেটে প্রচার করছে, আমাদের এখানে তাহলে কেন শুরু করা হচ্ছে না?
আরেকটি বিষয়, আমরা তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধির কথা বলছি। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দলের সাংসদেরা সক্রিয় হয়ে আছেন, যাতে এ কর বৃদ্ধি করা না হয়। তাঁরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ কর বৃদ্ধি না করার অনুরোধ করে এসেছেন। তাঁরা বুঝতে চেষ্টা করেছেন, এটি করলে নির্বাচনের সময় প্রভাব আসবে। যদি আমাদের সাংসদেরা একটি শিক্ষাবান্ধব বাজেট নেন, জনগণকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলেন, শিক্ষিত লোকেরা তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। আমি এক রিকশাওয়ালাকে প্রশ্ন করি, এখন তো খাওয়ার সময়, তুমি বিড়ি পান করো কেন? উত্তরে বলে, এক টাকায় খাবার যা পাই, তা-ই খাই। অর্থাৎ সে ধূমপানকে খাবার মনে করছে। তাঁর মধ্যেও সে বিষয়টি কাজ করছে না যে, এটি খাওয়ার জিনিস নয়, এটি একটি বিষ যা সে পান করছে।
যেহেতু এবারের তামাকবিরোধী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল’, সেহেতু আমাদের নারীদের আসক্তির সংখ্যা বাড়ছে, তার ওপর জোর দিতে হবে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারীদের স্তন ক্যানসার হচ্ছে, মৃত বা বিকলাঙ্গ শিশু প্রসব করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে খুব তৎপর আছেন। তিনি ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রীকে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন—যে কর আদায় করা হয় তামাকজাত পণ্য থেকে, তার একটি অংশ যেন চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হয়। ২০০৪ সালে প্রতিবছর ৫৭ হাজার মৃত্যুর তথ্য আমরা পেয়েছি তামাকজনিত কারণে। এখন যদি হিসাব করা হয়, তবে এর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তামাকের কারণে বহু লোক পঙ্গু হয়ে বসে থাকবে, সে দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না।

মহিউদ্দীন
বান্দরবানে আমরা সিভিল কোর্টে তামাক চাষ বন্ধের জন্য যাই। সিভিল কোর্ট ও জেলা দায়রা জজ আদালতে গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এখন এটি হাইকোর্টে আছে। কিছু দিন আগে মার্কিন কংগ্রেসে টোব্যাকোর বিরুদ্ধে একটি বিল পাস হয়েছে। আইনটির নাম হচ্ছে ‘ফ্যামিলি স্মোকিং প্রিভেনশন অ্যান্ড টোব্যাকো অ্যাক্ট ২০১১’। কিন্তু সেখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সে বিলে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের সদস্যরা একমত হয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।
আমি আশা করব, তামাকবিরোধী আমাদের যে আইনটি আছে তার সংশোধনী এনে দুটি দল একমত হয়ে বিলটি পাস করবে।
তামাকের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশেও কঠিন আইন করা হয়েছে। ভারতে সিগারেট আমদানির ওপর ব্র্যান্ড আর্ন কর আরোপ করা হচ্ছে। জাপানে কর বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বুলগেরিয়ায় যাঁরা তামাক চাষ করেছেন, তাঁদের ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। ঘানায় যাঁরা তামাক চাষ না করে অন্য কৃষিপণ্য উৎপাদন করছেন, তাঁদের বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ভিয়েতনামে তামাকবিরোধী ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। নরওয়েতে তামাকের ওপর ঋণসুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানে তামাকবিরোধী আইনগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাশিয়ায় চড়া হারে করারোপ করা হয়েছে তামাকের ওপর। আজ আমাদের তামাক চাষিরা শোষিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন। নব্য নীলচাষের রূপরেখায় তামাক চাষ হচ্ছে।
আমাদের দেশে আইন শক্তিশালী করার মাধ্যমে তামাক চাষ ও উৎপাদনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমাদের আইনে ১২ ধারায় পাঁচ বছর পর্যন্ত বিকল্প অর্থকরী ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল—পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু কৃষকেরা সে সুবিধা পাচ্ছেন না। নব্য কায়দায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তাঁদের সহায়তা করা হচ্ছে।
আমাদের আইনে প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য ৫০ টাকা জরিমানার বিধান আছে। তা পর্যাপ্ত নয় এবং সঠিকভাবে কার্যকর করা হচ্ছে না। এমনকি অনেক বিচারক আছেন যাঁরা চেম্বারে বসে ধূমপান করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজেরাও প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। আমি এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব করতে চাই। জরিমানার অঙ্ক ৫০ টাকা পর্যাপ্ত নয়। এটি এক হাজার থেকে পাঁচ বা ১০ হাজার টাকা করা দরকার। পাশাপাশি কারাদণ্ডের বিধান রাখা হোক। চাকরির ক্ষেত্রে অধূমপায়ী কর্মকর্তাদের ধূমপায়ী কর্মকর্তাদের চেয়ে অধিক সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তামাক চাষ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার জন্য বিধান করতে হবে। যেখানে তামাক চাষ হবে, তা ধ্বংস করে দিতে হবে।
তামাকজাত প্রতিটি দ্রব্যে আলাদা করারোপ করতে হবে। সীমান্তের পাশে তামাকের যে চোরাচালান হয়, তা বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা যেতে পারে। সংবিধান সংশোধনে যে কমিটি কাজ করছে সেখানে বিশেষ করে রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণের ইস্যুতে তেমন আলোচনা হচ্ছে না। সুতরাং আমার অনুরোধ থাকল, এই বিশেষ কমিটি সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকারের বিষয়গুলো সংশোধনীতে পর্যালোচনা করবে।

জেড আই খান পান্না
তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক নিয়ে একটি কৌতুক বলতে চাই। একজনকে বলা হলো তামাকের তিনটি উপকারী দিক বলার জন্য। সে বলল, তামাকসেবীর বাসায় রাতে কখনো চোর আসে না। দ্বিতীয়ত, পাগলা কুকুর বা শেয়াল তাকে কামড়াবে না। তৃতীয়ত, সে কখনো বৃদ্ধ হবে না। এটা কেন? কারণ ধূমপায়ী সারা রাত কাশবে। সুতরাং চোর ভাববে বাড়ির লোক সজাগ আছে, তাই চোর আসবে না। অল্প বয়সেই সে হাঁটাচলা করতে পারবে না বলে হাতে একটি লাঠি থাকবে। ফলে পাগলা কুকুর বা শিয়াল ভয়ে তার কাছে আসবে না। সে কোনো দিন বৃদ্ধ হবে না, কারণ সে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই মারা যাবে।
পৃথিবীতে সাপেরও উপকারী দিক আছে, কিন্তু সিগারেটের উপকারী কোনো দিক আমি খুঁজে পাইনি। ১৯৯৯ সালে বিচারপতি ফজলুল করিম এবং এম এ ওয়াহাব মিয়ার একটি বিচারের প্রেক্ষাপটে ২০০৫ সালে এই তামাকবিরোধী আইনটি হয়। ২০০৬ সালে আইনটির বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।
১৯৯৯ সালে সে বিচারটি যদি দেখি, তবে আইনটির কোথায় গলদ আছে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০১০ সালের আরেকটি বিচার যদি দেখি, সেখানে তামাক উৎপাদন কারখানায় যেসব শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের কী কী সুবিধা থাকা দরকার তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ শ্রমিকদের লাইফ ইন্স্যুরেন্স থাকতে হবে। আদালতের রায়ে বিড়ি বা সিগারেট কারখানায় যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনের নিশ্চয়তার জন্য যে জীবন বিমা করার কথা বলা হয়েছে, তা বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তামাক চাষের জন্য বড় কোম্পানিগুলো কৃষকদের যে দাদন দেয়, তা বেআইনি ঘোষণা করার দাবি করছি। দাদন যদি কোনো কৃষক নেয়ও, তবু দাদন অনুযায়ী সে উৎপাদন করতে বাধ্য থাকবে না—এ ধরনের বিধান থাকা উচিত। আজ যখন আফিম চাষ নিষিদ্ধ হতে পারে তখন অবশ্যই তামাক চাষ বন্ধ করা উচিত। কারণ তামাকের কোনো উপকারী দিক নেই। কেন বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে তামাকজাত পণ্য আমদানি করব, যা মানুষের কোনো উপকারে আসে না? এগুলো আমাদের নৈতিকতার বিরুদ্ধে। আমাদের বার কাউন্সিলে একটি সেল গঠন করেছি, যাঁরা এ আইনটির সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া পরিকল্পনা করছেন। তামাককে অবশ্যই বেআইনি ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বিচারের জন্য আলাদতের সম্মুখীন হব। আদালত অবশ্যই জনগণের পক্ষে রায় দেবেন।

আব্দুল কাইয়ুম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিগার নার্গিসকে বলার জন্য অনুরোধ করছি।

নিগার নার্গিস
আমি মূলত করব্যবস্থার ওপর গবেষণামূলক বেশ কিছু কাজ করেছি। আজকের আলোচনায় এটি স্পষ্ট হয়ে উঠে এসেছে, ধোঁয়াযুক্ত তামাকের ওপর কর অনেক দিন ধরে চলে এলেও ধোঁয়াহীন তামাক এখনো করব্যবস্থার আওতার অনেকটা বাইরে রয়েছে। গত বছর প্রথম এটি করের আওতায় আনা হয়।
আমাদের জানা দরকার, তামাকের ওপর যে কর আছে তা অন্যান্য পণ্যের করের মতো নয়। তামাকের ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এর ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাকের কর বিক্রয়মূল্যের ৭০ শতাংশ হতে হবে। কারণ তামাকের ধোঁয়ার কারণে অন্যদের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তার তদারকমূল্য রয়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হয়। ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে সে মূল্যটি হচ্ছে খুচরামূল্যের ৭০ শতাংশ। আমাদের দেশে অবশ্য সে করটি ৭০ শতাংশের অনেক নিচে আছে। ধোঁয়াহীন তামাকের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়, কারণ যাঁরা এটি করেন তাঁরা আসলে আমাদের কোনো ক্ষতি করেন না—এই যুক্তিও জোরালোভাবে তোলা যায় না ধোঁয়াহীন তামাকের ক্ষেত্রে।
ধোঁয়াহীন তামাকের কারণে যে শারীরিক ক্ষতি হয় তা ধোঁয়াযুক্ত তামাকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সুতরাং এ ধরনের গবেষণামূলক তথ্য আরও বেশি প্রচার করতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টিতে তামাকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অনেক বেশি ক্ষতি হয়—এ বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে আনতে হবে বেশি করে। নারীদের ধোঁয়াহীন তামাক সেবনের ফলে জীবনের আয়ু কমে যাচ্ছে। সন্তান উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এবং তার মাধ্যমে একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এটা প্রচার করা দরকার। ধোঁয়াহীন তামাকের ক্ষেত্রেও ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত করারোপ করা উচিত।

আব্দুল কাইয়ুম
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমকে বলার জন্য অনুরোধ করছি।

কাজী রফিকুল আলম
তামাকের বিপদের কথা বলছি। সেটি শুধু বিপদ নয়, একটি মৃত্যুকূপ। প্রতিবছর বাংলাদেশে এক লাখ ২২ হাজার ৫০০ একর জমিতে তামাক চাষ হয়। প্রায় ২৬ লাখ মণ তামাক উৎপন্ন হয়। এর বাইরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার তামাকপণ্য আমদানি করি। বাংলাদেশে বছরে ১৮ হাজার কোটি বিড়ি উৎপাদন হয়। প্রায় আড়াই কোটি সিগারেট প্যাকেট তৈরি হয়। বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। ধোঁয়াহীন তামাক সেবনকারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি এক লাখ। এই সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনটির সংশোধনী এ মাসের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা। তাই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, এ বিষয়ে জোর দিয়ে আইনটি অতিদ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে পাস করার উদ্যোগ নিতে।
বর্তমান আইনে বোধ হয় তামাককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটিকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাবলিক প্লেস ও টান্সপোর্টের কথা বলা হলেও সেখানে হোটেল ও রেস্তোরাঁ, কর্মক্ষেত্র, পার্ককে ধরা হয়নি। রিকশা ও নৌকাকেও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হিসেবে ধরা হয়নি আইনটিতে। আইনে সংরক্ষিত ধূমপান এলাকা থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও এটি কিন্তু থাকা উচিত না। এফসিটিসিতে বলা হয়েছে, কোনো স্মোক জোন থাকবে না।
তামাকের বিরুদ্ধে প্রচারের ক্ষেত্রে, যেসব জায়গায় তামাক বিক্রি হবে সেসব স্থানের কথা উল্লেখ নেই। তামাক বিক্রয়স্থানে চমকপ্রদ রমরমা বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এগুলো বন্ধ করতে হবে। তামাকের প্যাকেটে ছবিসহ সতর্কবাণী প্রচার করতে হবে। ইতিমধ্যে বিশ্বে ৪৩টি দেশে ছবিযুক্ত সতর্কবাণী প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশে চালু করা হয়নি। অনেক পরিবারে দেখা যায়, শিশুদের দিয়ে দোকান থেকে সিগারেট কিনে আনতে বলা হয় এবং দোকানদার তাকে সিগারেট দিচ্ছে। এর ফলে শিশুরা ধূমপানে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সুতরাং ১৮ বছরের ছোট কোনো শিশুর কাছে সিগারেট বিক্রি বন্ধের আইন করে শক্তিশালীভাবে কার্যকর করতে হবে। জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে আস্তে আস্তে ৫০০ টাকা করতে হবে। আইনের প্রয়োগ কীভাবে সহজতর করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। পাবলিক প্লেস ও পরিবহনের কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে কেউ আইনটি ভঙ্গ করতে না পারে। তামাক চাষের জন্য যে জমি ব্যবহার করা হচ্ছে তা যদি আমাদের খাদ্য উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যেত, তবে আমাদের খাদ্যের যে সংকট রয়েছে তা অনেকটা কমে আসত। তামাকের বিকল্প চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে। আমাদের এফসিটিসির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো সংগতিপূর্ণ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এম এ মালিক
ধূমপান যে ক্ষতিকর সে ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। আমরা বলি, ধূমপান হচ্ছে বিষপান। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবে হূদরোগ, ক্যানসারসহ অন্য যে ক্ষতিগুলো হয় সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে না। দীর্ঘমেয়াদে ধূমপানের ফলে এগুলো হয়ে থাকে। যদি কাউকে বিষ বিনা মূল্যে দেওয়া হয় সে সেটা খাবে না। কারণ সে জানে এটি খেলে সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হবে। কিন্তু যাঁরা ধূমপান করেন তাঁরা জানেন না যে এটি আস্তে আস্তে তাঁদের শরীরের ক্ষতি করে থাকে।
আমাদের বিভিন্নভাবে মানুষকে বোঝাতে হবে, তারা যে ধূমপান করছে তা ভবিষ্যতে একদিন মৃত্যুর পথে টেনে নিয়ে যাবে।
এই সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা শুধু সরকারের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে। আইন করে তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশেষ করে স্কুলগামী ছাত্ররা যদি একবার ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে তারা তা সহজে ছাড়তে পারে না। সুতরাং বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ধূমপানে আসক্ত না হয়ে পড়ে। আমরা যদি সমবেতভাবে সবাই মিলে চেষ্টা করি, তবে অবশ্যই একদিন ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো থেকে তরুণসমাজকে ফিরিয়ে আনতে পারব।
আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকদেরও এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কথা বলতে হবে।
গণমাধ্যমগুলোতে ধূমপানের ভয়াবহ দিকগুলো বেশি করে প্রচার করতে হবে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য।
বিড়ি ও সিগারেটের নিকোটিন ও কার্বন মনো-অক্সাউড শরীরে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে। ধূমপান হূদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। আমরা হূদরোগ ইনস্টিটিউটে দেখেছি, হূদরোগে আক্রান্ত ৪০ বছরের কম বয়সী সবাই ধূমপায়ী। তিন-চার মাস আগে ১৮ বছরের একটি ছেলে হূদরোগে আক্রান্ত হয়েছে দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম। এত অল্প বয়সে সে ধূমপানের কারণে হূদরোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

তানজীব-উল আলম
আমরা নতুন যে আইনটি করতে যাচ্ছি, তার মধ্যে কয়েকটি ফাঁক ইতিমধ্যে রয়ে গেছে। ধূমপান কমাতে হলে তামাক উৎপাদনের মূল জায়গায় যাওয়া যেতে পারে। আইনে তামাক উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করার জন্য ভালো কিছু কথা বলেছি। কিন্তু কীভাবে প্রকৃত অর্থে তামাক উৎপাদন বন্ধ করা যায়, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ নেই। সে দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
খসড়া আইনে তামাক উৎপাদন বন্ধ করা হয়নি, শুধু নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আইনে শুধু বলা আছে, ‘তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও ব্যবহার ক্রমাগত নিরুৎসাহিত করিবার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ এবং তামাকজাত সামগ্রীর শিল্প স্থাপন, তামাকজাতীয় ফসল উৎপাদন ও চাষ নিরুৎসাহিত করিবার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করিবে।’ কথাটি ২০০৫ সালের আইনেও ছিল এবং বর্তমান খসড়া আইনেও আছে। ২০০৫ সালের আইনের অধীনে আমরা শুধু একটি রুল পেয়েছি, কিন্তু তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে কোনো নীতিমালা পাইনি। ধূমপান কমাতে হলে মূলত তামাক উৎপাদনের জায়গায় হাত দিতে হবে। যদি তামাক চাষ কমাতে পারি, তখন তামাকের দাম আপনা আপনি কমে যাবে।
আরেকটি হতে পারে, তামাকজাত দ্রব্য আমদানিকরণ নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। যদিও এসব আমদানির ক্ষেত্রে অধিক কর থাকলেও আমদানি কমছে না, বরং বাড়ছে। সাধারণত আমদানি করা দামি সিগারেটগুলো ধনিক শ্রেণী কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পান করে থাকেন। সুতরাং, আমরা যদি এই দুই শ্রেণীকে ধূপমানে নিরুৎসাহিত করতে চাই, তবে এগুলোর দাম বাড়াতে হবে। বর্তমানে যেখানে ২০ টাকায় পাঁচটি সিগারেট খাচ্ছেন, সেখানে তাঁরা হয়তো দিনে দু-একটা খাবেন। আইন করে তামাক চাষকে যদি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যায় অথবা কর ধার্য করে তামাক কোম্পানির আর্থিক বোঝা বাড়ানো যায়, তাহলে হয়তো এই ব্যবসায় বর্তমানের মতো আগ্রহ থাকবে না।
আমাদের দেশে একটি আইন হয়েছে, যেসব জমি কৃষিকাজে ব্যবহূত হচ্ছে, সেগুলো অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বর্তমানে তামাক চাষে ব্যবহূত জমির ক্ষেত্রে আইন করা যায়, ওই জমিগুলো তিন বছরের বেশি তামাক চাষে ব্যবহার করা যাবে না। আমরা সব সময় আইন বাস্তবায়নের সমস্যার কথা বলি। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় তামাক চাষ করা হয়। সুতরাং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
আর জরিমানা প্রসঙ্গে বলতে গেলে এটি খুব বেশি বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে জরিমানা যিনি সংগ্রহ করবেন, তাঁকে ম্যাজিস্ট্র্রেট হতে হবে কিন্তু এটি ম্যাজিস্ট্রেটের বাইরে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, একটি প্রতিষ্ঠানের যিনি বিভাগীয় প্রধান আছেন, তাঁকে সীমিত দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে এটি বাস্তবায়ন করতে, ওই প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি ধূমপান করেন।
তামাক ব্যবসায়ীদের করপোরেট কর দিতে হয় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, অন্যান্য সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মতোই। সুতরাং, এই জায়গায় আমি অনুরোধ করব, তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কর ৫০-৬০ শতাংশ করা যেতে পারে। যেখানে অনেক ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন কোম্পানি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত করপোরেট কর দিয়ে থাকে।
এসব তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকির পরিমাণ বছরে গড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। আকিজ বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা টোবাকোর বিরুদ্ধে বর্তমানে হাইকোর্টে ৭০০ কোটি টাকা কর ফাঁকির মামলা আছে। পাঁচ বছর ধরে মামলাটি পড়ে আছে। কর ফাঁকির যতগুলো বড় মামলা আদালতে বিচারাধীন, তার একটি বড় অংশ সিগারেট কোম্পানির বিরুদ্ধে। এ ধরনের কর ফাঁকির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে যদি কর আদায় করা সম্ভব হয়, তবে এসব কোম্পানি নিরুৎসাহিত হবে। সুতরাং নতুন কর আরোপ ও আদায় নিশ্চিত করতে হবে তামাক নিয়ন্ত্রণে।
আরও বেশি পাবলিককে ক্ষমতায়ন করতে হবে আইন বাস্তবায়নের জন্য। যাতে ম্যাজিস্ট্রেটের অপেক্ষায় বসে থাকতে না হয়। আইনের ১৩ ধারায় (৩) বলা হয়েছে, ‘তামাকজাতীয় ফসল বা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনের জন্য কোনো ধরনের ভর্তুকি বা ঋণ বা অন্য কোনোরূপ সহযোগিতা প্রদান করা যাবে না।’ কিন্তু এগুলো করলে এর শাস্তি কী হবে তা স্পষ্ট করে বলা নেই আইনে। নিষিদ্ধ কোনো বিষয়ে যদি শাস্তির বিধান না করা হয়, তবে সেটি আর নিষিদ্ধ থাকে না আইনজীবীদের মতে। তামাক কোম্পানি যদি তামাক চাষিদের কোনো ঋণ বা আর্থিক সুবিধা দেয়, তার ফলে সে আইন লঙ্ঘন করলে কী শাস্তি হবে, তা স্পষ্ট করে থাকা দরকার আইনটিতে।

জেড আই খান পান্না
তামাক আমদানি ডব্লিউটিওর অধীনে করতে পারব না, এটি ঠিক নয়। ফেনসিডিল কিংবা হেরোইন আমদানি আমরা নীতিগত কারণে করি না। এফসিটিসি নীতিমালা অনুসারে, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব রাখছে। সুতরাং, সরকার ইচ্ছা করলে নীতিমালা গ্রহণ করেই তামাক আমদানি বন্ধ করতে পারে।

মোস্তফা জামান
থাইল্যান্ড চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ডব্লিউটিওর বিধান এটি অনুমোদন করে না। সুতরাং এটি করা যাবে না।

তানজিব-উল আলম
বাংলাদেশ এখন ডব্লিউটিওর সদস্য। কোনো দেশ এমন কোনো বিধান করতে পারবে না, যা তার নিজের দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। হেরোইনের বিশ্ব কাস্টমের ক্ষতিকর হিসেবে যে কোড আছে তা আর সিগারেটের কোড এক নয়। সুতরাং সিগারেট আমদানি বন্ধ করা যাবে না।

সাইফুদ্দিন আহমেদ
আমাদের আইনে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী খুব জোরালোভাবে আছে। এটি থাকা উচিত। আমাদের আইনের শিরোনাম ঠিক আছে; কিন্তু সংজ্ঞার ক্ষেত্রে তামাকজাত দ্রব্যে যা বলা আছে, সেখানে জর্দা, গুল, সাদা পাতানেই। এগুলো সংজ্ঞায়নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এটি অর্জন করার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। এ জন্য দুই শতাংশ হারে কর স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর সব পণ্যের ওপর আদায় করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া দরকার তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য।

আমিনুল ইসলাম
বর্তমান সরকার যে ২০২১ সালের রূপকল্প নিয়ে এগোচ্ছে সেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তা লক্ষ্য অর্জনে বাধাগ্রস্ত করবে। ২০২১ সালের রূপকল্পের ৭ নম্বর অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্যোগে এই ধারায় সংবিধানের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের খাদ্য, পোশাক, শিক্ষা, আশ্রয় প্রসঙ্গে বলা আছে, এগুলো নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি কার্যকরভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে বাংলাদেশে চাকরির সুযোগ ১৮.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দারিদ্র্য বিমোচন করতে হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তামাক চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন দারিদ্র্যকরণকে আরও প্রলম্বিত করছে। কারণ তামাক চাষের ফলে জমিতে প্রথম দুই-তিন বছর লাভবান হলেও পরবর্তী সময়ে জমির উর্বরাশক্তি কমতে থাকে। তখন সার ও কীটনাশকের পরিমাণ বাড়াতে হয়। এতে লাভের পরিমাণ কমে আসে। সে জমি ১২-১৫ বছরের মধ্যে একেবারে পতিত জমিতে পরিণত হয়। তামাককে অনেকে লাভজনক ফসল বলেন। তামাক যদি লাভজনক ফসল হতো তবে রংপুর সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ জেলা থাকার কথা। কিন্তু সেখানে মঙ্গাসহ দারিদ্র্যের আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদের রূপকল্পের ৭ নম্বর ধারার ‘ডি’তে বলা আছে খাদ্য ও পুষ্টির কথা।
পুষ্টি ঘাটতি আমাদের অন্যতম সমস্যা। পুষ্টির অভাবে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে পুষ্টির কারণে যত লোক মারা যায়, তার অর্ধেক বাঁচানো সম্ভব, যদি তামাকের পেছনে ৬৯ শতাংশ ব্যয় করা অর্থ খাদ্যে ব্যয় করি। আমাদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বলতে চাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, ২০০৪ সালে ১২ লাখ লোক মারা যায় আটটি প্রধান রোগে আক্রান্ত হয়ে। সেখানে ধূমপানের কারণে বাংলাদেশে বছরে ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায় এবং তিন লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। প্রতিটি মৃত্যু যদি অর্থনৈতিক মূল্যে দেখি, তবে ২০০৪ সালে আমরা দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেতাম। প্রতিটি মৃত্যুর জন্য আমরা পাচ্ছি আট লাখ ৭৭ হাজার ১৯২ টাকা এবং তিন লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে, যার প্রতিটির জন্য এক লাখ ৩০ হাজার ৮৯০ টাকা। আমাদের ১২ লাখ লোক অসুস্থ হচ্ছে। তার জন্য প্রতিজনে ৪১ হাজার ৬৬৬ টাকা। সুতরাং আমাদের প্রতিটি মৃত্যুর জন্য সরকারের খরচ আট লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বিপরীতে, মৃত্যুতে আমরা পাচ্ছি চার লাখ ২১ হাজার টাকা। পঙ্গুত্বের জন্য তা কিনছি ৬২ হাজার টাকা এবং প্রতিটি অসুস্থতাকে কিনছি ২০ হাজার টাকা দিয়ে।
যখন এসব বিষয় স্পষ্ট, যখন আমরা তামাকের কর বৃদ্ধির কথা বলি, তখন কিছু সাংসদ এর বিরোধিতা করেন। সাংসদেরা রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দেন কর না বাড়ানোর জন্য। তাঁরা যুক্তি হিসেবে বলেন, গরিব মানুষ বিড়ি খান এবং বিড়ির কারখানায় কাজ করেন। সুতরাং এগুলো কোনোভাবেই আমাদের দারিদ্র্য কমানোর জন্য কার্যকর নয়, বরং তামাক সেবন ও উৎপাদন আরও দারিদ্র্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আন্তর্জাতিক কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। আমরা এফসিটিসি প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ। সেখানে কোনো সাংসদ যদি সিগারেট বা বিড়ির কর না বাড়ানোর অনুরোধ করেন রাজস্ব বোর্ডে, সেটা সরকার ও আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রনীতিবিরোধী। বিশ্বে যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, তামাক চাষ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তামাক চাষে প্রচুর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা ওই এলাকার নদীর পানি ও পরিবেশকে দূষিত করছে। যেসব অঞ্চলে তামাক চাষ হয় এবং উৎপাদন কারখানা আছে, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে যায়। তামাক চাষ, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও তামাক সেবন স্বাভাবিকভাবে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে থাকে। এগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সিনথিয়া ফরিদ
বার কাউন্সিল থেকে আমরা একটি উদ্যোগ নিয়েছি তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে। আমি সব আইনজীবীকে অনুরোধ করব একসঙ্গে কাজ করার জন্য। আইন মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বস্ত করা হয়, সেখান থেকে একজন ডেপুটি সেক্রেটারি আইনটির খসড়া নিয়ে কাজ করবেন। আইন মন্ত্রণালয় চাইছে, যত দ্রুত সম্ভব আইনটির খসড়া সংশোধন করে সংসদে উত্থাপন করতে।

আ ফ ম রুহুল হক
আপনাদের সবাইকে নিয়ে খসড়া আইনের যদি কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয় তা করা হবে। এ ব্যাপারে আমার মন্ত্রণালয়ের আপত্তি নেই। তবে তামাক ব্যবসায়ীদের কিছু আপত্তি থাকলেও জনস্বার্থে অবশ্যই বাস্তবসম্মতভাবে কার্যকর করা হবে আইনটি।

হাসিবুর রহমান
তামাক উৎপাদন কোম্পানিগুলো অনেক শক্তিশালী। বিপরীতে আমরা যাঁরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে কাজ করছি, সরকারের পাশাপাশি আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের দুর্বলতা রয়েছে। আমরা একটি রাজনৈতিক ম্যাপ করছি, তামাকের পক্ষে কারা আর বিরুদ্ধে কারা আছে। সেখানে দেখতে পাচ্ছি, অনেক বড় বড় শক্তি কাজ করছে এই তামাকের পক্ষে। সেখানে আমাদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আমাদের সাংসদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইনজীবী ও উন্নয়নকর্মী—সবার মধ্যে সদিচ্ছা দেখতে পেলেও সমন্বয়ের অভাবে আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছি না। আমাদের ব্যক্তিগত সদিচ্ছার চেয়ে সমন্বিত সদিচ্ছা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আজ গণমাধ্যম খুব শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে, তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুরোধ করব।

ইকবাল কবীর
আইনের খসড়াসংক্রান্ত প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই, টিএফকে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে আমাদের এফসিটিসি-বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রায় এক বছর আইনটির খসড়া তৈরিতে ব্যয় হলো। যত দ্রুত সম্ভব আইনটি বাস্তবায়ন করতে হবে। যদিও দেশীয় ও বিদেশি আইনজীবী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আইনটির খসড়া করা হয়েছে, তবু আইনটিতে ফাঁকফোকর রয়ে গেছে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। এফসিটিসির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের একটি আইনগত দায়বদ্ধতা রয়েছে। সংসদে যাঁরা যুক্তিসংগত ভালো কথা বলেন, তাঁদের নিয়েও আমরা একটি বৈঠক করব আইনটি সংসদে যাওয়ার আগে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে যাতে ধোঁয়াহীন তামাক নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা যায়, সে জন্য ২০ হাজার বাঁধাই করা পোস্টার প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা ২০১১-১৪ তৈরি করা হয়েছে।
আমাদের নিজেদের ভেতর যেন কখনো তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি ঢুকে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়ে তাঁদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা আছে; কিন্তু ভয়ও আছে যে উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী, হয়তো বেশি দূর এগোতে পারব না।

আব্দুল কাইয়ুম
গণমাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হয়েছে। তামাক ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই গণমাধ্যমকে জানাই অভিনন্দন। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আজকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন