প্রথম আলো ট্রাস্টের মুক্ত সংলাপ

শুধু আইন দিয়ে মাদক নির্মূল হবে না, একজোটে কাজ করার আহ্বান

| তারিখ: ২৪-০৭-২০১১

  • ১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত মুক্ত সংলাপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা বলেছেন, মাদকাসক্তিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিলেই মাদক নির্মূল হবে না, যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সৃষ্টিশীল কাজের সুযোগ দিতে হবে, সচেতনতা বাড়াতে হবে।
গত ২৬জুন রোববার প্রথম আলোর কার্যালয়ে ‘চাই মাদকমুক্ত সুস্থ পরিবার’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও ব্যাবের মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, মনোরোগ চিকিত্সক ও শিল্পীরা এতে অংশ নেন।
মাদকমুক্ত দুই পথশিশুও সংলাপে অংশ নেয়। এরা জানায়, প্রথমে এরা পলিথিনের ভেতরে আঠা দিয়ে শুঁকত। একপর্যায়ে মদ, গাঁজা, হেরোইন—সবই সেবন করতে শুরু করে। এক শিশু যশোরের বেনাপোল থেকে মাদক আনা-নেওয়ার কাজ করত বলেও জানায়।
সংলাপে উপস্থিত কয়েক শ তরুণ গতকাল সমস্বরে মাদক গ্রহণ না করার শপথ নেয়, চিত্কার করে মাদককে ‘না’ বলে।
আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, মাদকাসক্তিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা-মোকদ্দমা করলে মাদকের অপব্যবহার বন্ধ হবে না। যুবসমাজকে ব্যস্ত রাখতে হবে। ঢাকায় মাঠ নেই, এমনকি গ্রন্থাগারও নেই। এই মুহূর্তে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদক নির্মূলে একযোগে কাজ করতে হবে।
শফিক আহমেদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মাদক ঢুকছে। নারী ও শিশুরা তা বহন করছে, পেছনে থাকে বড় ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের ভেতরে মাদক ঢোকার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মাদক নির্মূলে পরিবারকে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। মাদকসেবীদের সিংহভাগ তরুণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতার কারণে বহু তরুণ হতাশাগ্রস্ত হয়, পরে মাদক নিতে শুরু করে। যারা শুধু লেখাপড়া করে, যাদের সামাজিক যোগাযোগ দুর্বল এবং যারা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নয়, তাদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার বেশি।
র্যাবের মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত র্যাব মাদকসংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত থাকার দায়ে ২৯ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, ১৭ লাখ বোতল ফেনসিডিল, ৩০০ কেজি হেরোইন, ২২ টন গাঁজা ও তিন লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষকে জেলে পুরে এই ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। মানুষকে সচেতন হতে হবে। বাবা-মাকে দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও ট্রাস্টের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম বলেন, শোক-দুঃখ, হতাশা কাটাতে শরীরেই একধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়। কেউ বেশি হতাশার কারণে মাদকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন চিকিত্সা ছাড়া উপায় থাকে না। তিনি বলেন, আট বছর ধরে প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছে। প্রতি মাসে মাদক নিরাময়ে ট্রস্ট পরামর্শ সভা করে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মোহিত কামাল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মাদক। মাদক সেবনের কারণে মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সে সহিংস হয়ে ওঠে, খুনোখুনি করে।
বার্তা সংস্থা এপির ব্যুরোপ্রধান ফরিদ হোসেন সাংবাদিকদের উদ্দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ প্রতিবেদন তৈরির পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মাদক শুধু মাদকসেবীকে ধ্বংস করে না, পুরো পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রকেও ধ্বংস করে দেয়। প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা মনোরোগ চিকিত্সক আহমেদ হেলাল বলেন, সন্তান মাদকসেবী হলে অনেক পরিবার বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে, অনেকে মাদকাসক্ত সন্তানকে বিয়ে দিয়ে দেয়। এটা ঠিক নয়।
অন্য আরও একজন উপদেষ্টা মাহমুদুজ্জামান বাবু অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুন নূর তুষার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান রওশন।

মাদকবিরোধী সেরা প্রতিবেদন পুরস্কার:
এ বছর সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাদকবিরোধী সেরা প্রতিবেদনের জন্য ছয়জনকে পুরস্কৃত করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। সংবাদপত্র শাখায় যায়যায়দিন পত্রিকার রীতা ভৌমিক প্রথম স্থান, আল আমিন পত্রিকার আফরোজা নাজনীন দ্বিতীয় ও যায়যায়দিন পত্রিকার রাসেল আহমেদ তৃতীয় পুরস্কার পান। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চ্যানেল আইয়ের মোস্তফা মল্লিক প্রথম, দেশ টিভির সাজিদুল হক দ্বিতীয় ও বাংলাভিশনের মোজাম্মেল শিশির তৃতীয় পুরস্কার পান।
প্রথম স্থান অধিকারীদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের ২৫ হাজার ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রত্যেককে একটি সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলীর দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন গীতি আরা নাসরীন, এপির ব্যুরোপ্রধান ফরিদ হোসেন ও প্রথম আলোর বার্তা বিভাগের পরামর্শক কুররাতুল আইন তাহমিনা।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Tarique Bin Shahid

Tarique Bin Shahid

২০১১.১০.০৬ ১১:৪০
This is wrong that law cant stop the drug ,