‘ঈদের শুরু চাঁদরাত থেকেই’
‘ঈদের আনন্দটার শুরু হয় চাঁদরাত থেকেই। বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েদের চোখে যেমন ঘুম থাকে না, তেমনি মা-খালাদের চোখেও ঘুম থাকে না। ঈদের আগের রাতে মায়ের বরফি বানানোর আয়োজনটা আজও ভুলতে পারিনি। তারপর সকালবেলা দুধের সাদা ধবধবে বরফি মুখে পুরে সুমিষ্ট হাসি, নতুন জামা—এসব কি আর ভোলা যায়?’ ছোটবেলার ঈদের কথা এভাবেই বললেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
এখন মা রাশেদা কে চৌধুরীরও চাঁদরাতে অবসর মেলে না। ছেলেমেয়েদের পছন্দের পুডিং তৈরি করে রাখেন চাঁদরাতেই। তবে বহু চেষ্টা করেও বরফিটা মায়ের হাতের সেই ধবধবে সাদা বরফির মতো হয় না। তবে প্রতি ঈদের মতো এবারও চলবে তাঁর সেই চেষ্টা। এবার পরিবারের সবার কেনাকাটা শেষ করে নিজের জন্য শাড়ি কিনতে গিয়েছেন মিরপুরের বেনারসিপল্লিতে। দেশি শাড়ি পরতেই ভালোবাসেন তিনি। সোনালি জড়ি পাড়ের ফিরোজা রঙের কাতান শাড়ি পরবেন ঈদের দিন। তার সঙ্গে মায়ের দেওয়া সুন্দর একসেট মুক্তার গয়না। ‘যেবার এইচএসসি ফলাফল দিল, ক্যাডেট কলেজকে হারিয়ে দিয়ে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করি। মা তখন খুশিতে ইসলামপুর থেকে এক সেট গয়না কিনে দিয়েছিলেন। তখন সোনার ভরি ছিল ১৫৬ টাকা। ঈদে মায়ের দেওয়া সেই গয়নাই এবার পরব।’ বললেন তিনি। মুক্তার মালার সঙ্গে সোনালি গয়নায় থাকবে ফিরোজা পাথরের ঝিলিক। কানের দুলটা কানপাশা ঘরানার। এক হাতে থাকবে এক গাছি সোনার চুড়ি আর দুটি আংটি, আরেক হাতে একটি সোনালি ঘড়ি। ঈদের সকালে সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে সেমাই-রুটি খান রাশেদা কে চৌধুরী। ‘বাসায় সেই শুরু থেকে যারা কাজ করত, আমাকে কাজে সাহায্য করত, তারা তো আমার সহকর্মীই। ওরা সবাই ছেলে, নাতিপুতি নিয়ে আসে ঈদের দিন সকালে। খুব ভালো সময় কাটে আমার।’ বলেন তিনি। সকালের পরে সময় কাটে পরিবার-পরিজন আর অতিথিদের সঙ্গে। আর বিকেলে বেরিয়ে পড়েন আত্মীয়স্বজনদের দেখতে। তখন ছোটবেলার পাড়া বেড়ানোর আনন্দের স্মৃতির কথা খুব মনে পড়ে তাঁর। এবারও হয়তো এভাবেই স্মৃতিতে হারিয়ে যাবেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






