সেনাবাহিনী
সামরিক বাহিনী থাকবে রাজনীতি থেকে দূরে
-
সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ
-
সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। আজ স্বপ্নের সেই সশস্ত্র বাহিনী সম্বন্ধে লিখতে বসেছি। তা সত্ত্বেও আমি আশা করব, যা লিখব, তা কোনো অলীক কল্পনা হবে না; বরং এই স্বপ্নের বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী একবিংশ শতকের যুগোপযোগী একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে।
স্বাধীনতার পর প্রায় শূন্য অবস্থা থেকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের নিয়ে সেনাবাহিনীর তিনটি ব্রিগেড গড়ে তোলা হয়েছিল। ট্যাংক, কামান, ভারী অস্ত্রশস্ত্র প্রায় ছিল না বললেই চলে। নৌ ও বিমানবাহিনীর ছিল আরও দৈন্যদশা। নৌবাহিনীর ছিল না কোনো যুদ্ধজাহাজ, আর বিমানবাহিনীর ছিল না কোনো জঙ্গিবিমান। সে অবস্থা থেকে যদি আজকের সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব, সামরিক বাহিনীর প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছে। অনেক নতুন ডিভিশন সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে। ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, কামানসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র কেনা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি নতুন সেনানিবাস গড়ে তোলা হয়েছে। বিমানবাহিনীর জন্য জঙ্গিবিমান, হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানের সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকটি নতুন বিমানঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছে। আমাদের বিরাট সমুদ্রসীমার অপার সম্পদ রক্ষার জন্য একটি আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণ স্কুল ও কলেজ এবং সম্প্রতি একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এসব প্রতিষ্ঠানে বন্ধুরাষ্ট্রগুলো থেকে অসংখ্য বিদেশি প্রশিক্ষণার্থী আসছেন, যা বাংলাদেশের সামরিক প্রশিক্ষণের উচ্চমানের নিশ্চয়তা প্রমাণ করে।
গত চার দশকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। যখনই ডাক এসেছে, তখনই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। শুধু স্বদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সর্বাধিকসংখ্যক সদস্য প্রেরণের সম্মান বাংলাদেশ বেশ কয়েক বছর ধরে ধারণ করে আসছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যে দেশেই গেছেন, সে দেশেই তাঁরা বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন।
অবশ্য একই সঙ্গে আমাদের স্বীকার করতে হবে যে গত চার দশকে সশস্ত্র বাহিনী ঘিরে বেশ কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে, যার মাশুল গুনতে হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীসহ পুরো জাতিকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বেশ কিছু দুর্ঘটনা বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই যুগের সামরিক ও আধা সামরিক শাসনের ফলে এ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তা সত্ত্বেও বলতেই হবে যে অবনতির চেয়ে উন্নতি, অদক্ষতার চেয়ে দক্ষতা, দুর্নীতির চেয়ে ন্যায়নীতি, ষড়যন্ত্রের চেয়ে দেশপ্রেমের পাল্লা অনেক ভারী। তাই আমি স্বপ্ন দেখতেই পারি, আগামী দিনগুলোতে একটি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এক সুদক্ষ ও সুপরিচালিত সামরিক বাহিনীর। চলুন দেখি, সেই স্বপ্নগুলো কী হতে পারে।
আমি এমন একটি সামরিক বাহিনীর স্বপ্ন দেখতে চাই, যা সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে রাজনৈতিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এর অর্থ অবশ্যই এই নয় যে রাজনৈতিক সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে রাজনীতি করবে অথবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করবে। রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অর্থ হচ্ছে, সরকারের অন্যান্য বিভাগের মতো সামরিক বাহিনী সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। এই বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি সরকার সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেবে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যেমন রাজনীতিতে নিজেদের জড়াবেন না, একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হবে সামরিক বাহিনীকে রাজনীতির অঙ্গনে টেনে না আনা। সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে জড়ানোর পরিণাম কী হতে পারে, তা আমাদের পার্শ্ববর্তী দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকালেই বুঝতে পারব। সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার ফলে আজ পাকিস্তান রাষ্ট্র ধ্বংসের সম্মুখীন। অথচ যথেষ্ট অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও সংঘাত থাকা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনী রাজনীতি থেকে দূরে থাকার ফলে ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এমনই এক সশস্ত্র বাহিনী দেখতে চাই, যার প্রতিটি সদস্য একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশ-জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল থাকবেন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত হবেন না।
সামরিক বাহিনীর সংগঠনেও কিছু পরিবর্তন ভবিষ্যতে দেখতে চাই। বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমকক্ষ আরও একটি বিভাগ চালু রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সামরিক বিভাগ (Armed Forces Division) নামে পরিচিত। এই বিভাগের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী তদারক করে থাকেন। ফলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মূলত একটা কাগুজে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। উপমহাদেশে তো বটেই, পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের দ্বৈতশাসন আছে বলে জানা নেই। আমার স্বপ্নের সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনের দায়িত্বে একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকবেন, যিনি হবেন একজন প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর অধীনে থাকবে একটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, যেখানে বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে সামরিক বাহিনীর দিকনির্দেশনামূলক সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করবেন।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানেরা একই পদমর্যাদাসম্পন্ন হয়ে থাকেন, যদিও সংখ্যার দিক থেকে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর সংখ্যাধিক্য থাকে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম দিকের বছরগুলোতে তিন বাহিনীর প্রধান সমান পদমর্যাদায় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদের সময় এ ব্যবস্থার পরিবর্তন করে সেনাবাহিনীর প্রধানের পদকে এক ধাপ উন্নীত করা হয়। ভারতে তো বটেই, এমনকি পাকিস্তানে, যেখানে বাস্তবপক্ষে সেনাবাহিনী সব সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করে, সেখানেও তিন বাহিনীপ্রধানের পদমর্যাদা একই। আমি আশা করব, বাংলাদেশেও তিনজন বাহিনীপ্রধান একই পদমর্যাদার হবেন।
ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীর লোকবল সংগ্রহে একটি পরিবর্তন আমি দেখতে চাই। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন সামরিক বাহিনীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসীসহ সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকে। একই সঙ্গে নারীদের আরও বেশি সংখ্যায় সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যেসব বৈষম্যমূলক নিয়োগবিধি রয়েছে, তা অচিরেই উঠিয়ে দেওয়া হবে বলে আমি মনে করি। যেমন: সেনাবাহিনীর পদাতিক, সাঁজোয়া ও গোলন্দাজ শাখায় এবং বিমানবাহিনীর পাইলট অথবা নৌবাহিনীর এক্সিকিউটিভ শাখায় কেন নারী নিয়োগ সম্ভব নয়, তা আমার বোধগম্য নয়। ভারতে, এমনকি পাকিস্তানেও যদি বিমানবাহিনীতে নারী পাইলট নিয়োগ পেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশে সম্ভব নয় কেন? সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাই নন, অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ সৈনিক পদেও নারীদের অন্তর্ভুক্তি হবে বলে আমি আশা করি।
আমি স্বপ্ন দেখতে চাই যে বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষার প্রচেষ্টায় সামরিক বাহিনী অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে সামরিক বাহিনী সচেষ্ট থাকবে। মানবাধিকার সংরক্ষণের বিষয়গুলো সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের ব্যক্তিগত মানবাধিকার, যা বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র ও সামরিক আইনবিধি দ্বারা সংরক্ষিত, তা যেন যথাবিহিত পালিত হয়—সে বিষয়ে সরকার ও সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বকে দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করব। আমাদের মনে রাখতে হবে, সামরিক আইনবিধি বলতে আমরা যা বুঝি, তা মূলত ব্রিটিশ সরকার ‘নেটিভ’ ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রণয়ন করেছিল। ওই সময় এসব আইন তৎকালীন ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর আইনের তুলনায় অনেক বেশি নিপীড়নমূলক ছিল। অথচ ওই আইনগুলো প্রথমে পাকিস্তানে এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আমরা অবিকৃত নকল করে চালিয়ে যাচ্ছি। উন্নত বিশ্বে তো বটেই, এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও সামরিক আইনবিধির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশে এখনো কোর্ট মার্শালের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল গৃহীত হয় না। অথচ ভারতে বহু বছর ধরেই কোর্ট মার্শালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আপিলে কোর্ট মার্শাল প্রদত্ত রায় বাতিল বলে গণ্য হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তাকে কোনোরূপ কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা আমরা বাংলাদেশে লক্ষ করেছি, তা-ও ভবিষ্যতে হ্রাস পাবে বলে আমি আশা করি। আমি মনে করি, কর্মস্থলে চাকরির অনিশ্চয়তা অতীতে অনেক ক্ষোভ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ ঘটিয়েছে, এটা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ক্ষতিকর। আমি আশা করব, ভারতসহ বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সামরিক আইনবিধির আদলে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আইনগুলো সংশোধন ও যুগোপযোগী করা হবে।
আমাদের সরকার প্রতিবছর সামরিক খাতে মোট বাজেটের প্রায় ৭ শতাংশ ও মোট দেশজ আয়ের প্রায় ২ শতাংশ ব্যয় করে থাকে। শিক্ষার পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজেট বরাদ্দ হয়ে থাকে সামরিক খাতে। ২০১১-১২ অর্থবছরে সামরিক খাতে বরাদ্দ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ওপর। কিন্তু এই বিশাল বরাদ্দ কীভাবে, কোন খাতে খরচ হচ্ছে—জাতির কাছে তা অজ্ঞাত থেকে যায় এবং এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদেও কোনো আলোচনা হয় না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা সামরিক বাহিনীর তরফ থেকেও কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয় না। উন্নত বিশ্বের সামরিক বাজেটের খুঁটিনাটি ইন্টারনেটে বিশ্ববাসী জানতে পারে। আমরা যেখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহের কথা বলছি, সে ক্ষেত্রে জনগণের করের টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা জানার গণতান্ত্রিক অধিকার জনগণের রয়েছে।
বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা, সেমিনার-বৈঠকের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে মোট সামরিক বরাদ্দের এক বিরাট অংশই সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা, বাসস্থান, রেশন, চিকিৎসা, পেনশন প্রভৃতি সুবিধা প্রদানেই ব্যয় হয়ে যায়। এরপর সত্যিকার সমরসজ্জা বা সমরপ্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ খাতে অতি সামান্য অর্থই অবশিষ্ট থেকে যায়। সামরিক বাহিনীর জন্য এটা একটা অশনিসংকেত। আধুনিক বিশ্বের সমরাস্ত্রের আধুনিকীকরণের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রতিটি খাতে জনবল কমে আসছে। একই অবস্থা বিমান ও নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন করে কীভাবে সমরসম্ভার ও প্রশিক্ষণ খাতে আরও অধিক ব্যয় করতে পারি।
চার দশক ধরে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সংগঠন, সমরসজ্জা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গড়ে উঠেছে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার পরিকল্পনা থেকে। কিন্তু আমরা জানি, এ অঞ্চলে আন্তদেশীয় সংঘর্ষের চেয়ে অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রদ্রোহী ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের আশঙ্কা অনেক বেশি। এ ধরনের আশঙ্কার মোকাবিলা করতে হলে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ, সংগঠন ও সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে, যেহেতু সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আঞ্চলিক, এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, তাই সে ক্ষেত্রে আন্তদেশীয় সামরিক সহযোগিতা অতীব জরুরি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত সন্ত্রাস দমনে যে মিলিত মহড়া করছে, এটা একটা শুভ উদ্যোগ। ভবিষ্যতে ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নেপালের মিলিত মহড়া একদিকে যেমন বাহিনীগুলোর সমরকুশলতা বাড়াবে, একই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ফলে অনেক ভুল-বোঝাবুঝি ও ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটাতে সাহায্য করবে।
পরিশেষে আমি স্বপ্ন দেখতে চাই, ভবিষ্যতে একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার সমর্থনে সুসংগঠিত, সুসজ্জিত ও সুপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি সশস্ত্র বাহিনী, যার প্রত্যেক সদস্য জনগণের সেবায় নিবেদিত প্রাণ। ‘জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর সেবায় নয়, সশস্ত্র বাহিনী জনগণের সেবায়’—এই হবে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্কের মূল কথা।
ইসফাক ইলাহী চৌধুরী: এয়ার কমোডর (অব.) এনডিসি, পিএসসি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
পাঠকের মন্তব্য
- ২০১১.১১.০৪ ১০:১৩
- Sir.. Good writing but I have some comments... 1st about lady recruitment ... Inf, armd, and arty doesn't suit for the ladies... This all are ground job where ladies employment will not be fruitful that's why initially lady officers were given with arty but that has been stopped... I can't say about air force and navy coz I don't know their job actually. And about lady recruitment as soldier, this is a wrong dream I would say, in that case breach of military discipline will increase what we can see in BMA in very minor cases and in military arena this fault are to be taken civilly that u know sir. Secondly about cutting of salary and admin expenditure and increasing trg , eqpt and armament expenditure... Is it a wise plan??? Sir... Were u comfortable with ur salary when you had been Flt LT or LT ??? Thak you sir for your wise writing....






