শিরোনাম:

বিচার ব্যবস্থা

আদালত হবে গরিববান্ধব

আসিফ নজরুল | তারিখ: ০৪-১১-২০১১

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
  • বিচারব্যবস্থা হবে গরিববান্ধব, অসহায় মানুষের পরম আশ্রয়স্থল এবং অন্যায়কারীর জন্য ত্রাসস্বরূপ

    বিচারব্যবস্থা হবে গরিববান্ধব, অসহায় মানুষের পরম আশ্রয়স্থল এবং অন্যায়কারীর জন্য ত্রাসস্বরূপ

১৯৯৮ সালে এক স্মরণীয় বক্তৃতা শোনার অভিজ্ঞতা হয় আমার। বক্তা ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তাফা কামাল। তিনি সিঙ্গাপুরে বিচার-ব্যবস্থায় তখনকার প্রধান বিচারপতি ইয়ং পাং হাও কী বিপ্লব এনেছিলেন, তার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। ইয়ংয়ের কাণ্ডকীর্তি জানলে মনে হবে, পৃথিবীতে সবই করা সম্ভব। সম্ভব এমনকি আমাদের বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের কাছে অতিপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় করে তোলা।
ইয়ং ছিলেন একজন ব্যাংকার। সিঙ্গাপুরের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বিচারক হিসেবে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। তিনি যখন এই নিয়োগ পান, সিঙ্গাপুরের বিচারব্যবস্থা ছিল নানা সমস্যায় জর্জরিত। অনেক বছর লেগে যেত সেখানে মামলা শেষ হতে। বিচারে দোষ প্রমাণ ছিল কষ্টকর এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকার পেতেন শুধু সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। ততটা খারাপ না হলেও আমাদের দেশের মতোই ছিল সেখানকার অবস্থা কিছু ক্ষেত্রে।
বিচারপতি ইয়ং দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে সিঙ্গাপুরের বিচারব্যবস্থা বদলে যায়। তিনি ১৯৯০ সাল থেকে পরবর্তী ১৬ বছর প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি যখন অবসর নেন, সিঙ্গাপুরের বিচারব্যবস্থা তত দিনে সারা বিশ্বে এক অনুকরণীয় মডেল হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর সংস্কার ছিল সুদৃঢ়, অবিচল আর সুদূরপ্রসারী। ২০০৮ সালের পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক রিস্ক কনসালট্যান্সি সার্ভে অনুসারে এশিয়ায় হংকংয়ের পরই শ্রেষ্ঠ বিচারব্যবস্থা রয়েছে সিঙ্গাপুরে। ২০১০ সালের ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের আইনের শাসন মানদণ্ড অনুসারে বিশ্বের ধনবান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুরের বিচারব্যবস্থা রয়েছে সর্বোচ্চ স্থানে।
সিঙ্গাপুর ধনী দেশ, মানুষ সেখানে কঠোরভাবে আইন মেনে চলে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও সেখানে আমাদের চেয়ে বেশি। সিঙ্গাপুরের মতো বিশাল পরিবর্তন তাই আমাদের বিচার বিভাগে আনা খুব কষ্টকর। কিন্তু তাই বলে তা অসম্ভব নয়। অসম্ভব নয় একটি অসাধারণ বিচারব্যবস্থার স্বপ্ন দেখাও।

২.
আমার স্বপ্নের বিচারব্যবস্থায় মানুষকে পারতপক্ষে আদালতে যেতে হবে না। কারও অভিযোগ থাকলে তাঁর আইনজীবী ই-মেইল করে তা আদালতে পাঠিয়ে দেবেন। যাঁদের সামর্থ্য নেই, তাঁরা সারা দেশে প্রতিটি উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত লিগ্যাল এইড (আইনি সহায়তা) আইনজীবীর কাছে যাবেন। আইনজীবীদের পারিশ্রমিক আর অফিস দেবে রাষ্ট্র। আদালতের প্রশাসনিক অফিসের লোকজন ই-মেইলে মামলা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নথিভুক্ত করে একটি কোড নম্বর দিয়ে দেবেন। অভিযোগকারী আইনজীবীর অফিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে (ই-মেইল, এসএমএস কিংবা সম্ভব হলে ব্যক্তিগতভাবে) সমন জারি করবেন। এর পরের সাত দিনের মধ্যে দুই পক্ষকে আইনজীবীসহ ‘সালিস বিচারক’-এর কাছে হাজির হতে হবে। ঠিক কোন তারিখে হাজির হতে হবে, তা মামলার কোড নম্বর ট্র্যাক করে জানা যাবে। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণ এবং নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডে তার বিবরণ থাকবে। এই বিচারকের একমাত্র কাজ হবে, সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। সেটি ব্যর্থ হলে বা কোনো পক্ষ সালিসের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে কেবল মামলাটি বিচারের জন্য নথিভুক্ত করা হবে। মামলায় বিচারকাজ শুরুর পর কোনো পক্ষ শুনানির তারিখ পেছাতে চাইলে তাঁকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তিনবারের বেশি তারিখ পেছানো যাবে না। সরকারি সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে ছুটির দিন বা রাতের বেলা আদালত বসবে, বেসরকারি সাক্ষীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। মামলা অবশ্যই ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো কারণে তা করতে ব্যর্থ হলে জেলা জজ এবং সুপ্রিম কোর্টে তার সুনির্দিষ্ট কারণ লিখে জানাতে হবে। মামলায় হেরে যাওয়া পক্ষকে মামলার অপর পক্ষের যাবতীয় খরচ দিতে হবে।
ফৌজদারি মামলা পুলিশের কাছে দায়ের করলে তা স্বতন্ত্র তদন্ত ইউনিটের কাছে করা হবে। এই ইউনিটের সদস্যরা পুলিশের অন্য কোনো কাজ করবেন না। তাঁদের ই-লিটারেসি থাকবে এবং সব রিপোর্ট ও নথি তাঁরা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করবেন। এই ইউনিটের অপরাধস্থল পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত অসাধারণ ফরেনসিক দক্ষতা থাকবে। অপরাধস্থলের ছবি, ভিকটিমের আঘাত বা অন্য কোনো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আলামত (যেমন: অপরাধীর হাতের ছাপ, কফ, সামান্য চুল বা রক্ত) সর্বোচ্চ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করার সব ব্যবস্থা সেখানে থাকবে। ফলে রিমান্ডে নিয়ে কাউকে পেটানোর প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশে।
পুলিশের তদন্ত ইউনিটগুলো কাজ শেষ করলে চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট প্রথমেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা পরীক্ষা করে দেখবেন। তাঁদের একমাত্র কাজ হবে তদন্ত সুষ্ঠু হলো কি না, তা নিশ্চিত করা। ছোটখাটো ফৌজদারি মামলায় (যেখানে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল হয়) অপরাধী দোষ স্বীকার করলে অর্ধেক শাস্তি হবে, বিচারের পর দোষী প্রমাণিত হলে দ্বিগুণ শাস্তি হবে। আপিলে কারও দোষ নিশ্চিত হলে শাস্তি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হবে। ছোট ফৌজদারি অপরাধের পুরো তদন্ত ও বিচারকাজ তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
বিচারকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের বিরাট ভূমিকা থাকে। সরকারি আইনজীবীরা তাই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে চাকরি পাবেন এবং যোগদানের আগে পর্যাপ্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত হবেন। বেসরকারি আইনজীবীদের বিভিন্ন কাজে ফি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে এবং তাঁদের অবশ্যই রিসিট দিয়ে ফি গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি আদালতে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানির জন্য অতিরিক্ত জেলা জজের নেতৃত্বে জেলা বারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি থাকবে। আদালতের ভেতরের সব কর্তৃত্ব থাকবে বিচারকের হাতে, কোনো আইনজীবী বা পেশকারের হাতে নয়।
প্রতিটি আদালতের সাপোর্ট স্টাফ (পেশকার, সেরেস্তাদার, নাজির ইত্যাদি) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়োগপ্রাপ্ত একজন উচ্চশিক্ষিত এবং আইন পেশায় অভিজ্ঞ কোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের অধীনে কাজ করবেন। আদালতের সব রেকর্ড প্রয়োজনে স্ক্যান করাসহ ইলেকট্রনিক ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করা হবে, রেকর্ডকিপার হিসেবে একজন বিশেষজ্ঞ-জ্ঞানসম্পন্ন অফিসারকে নিয়োগ করা হবে।
পুরোনো মামলার জট নিরসনের জন্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজদের নিয়ে কারাগারভিত্তিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে। তাঁরা কারাগারে প্রতিদিন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে যাঁরা পুরো কারাদণ্ড বা তার তিন-চতুর্থাংশ বিচারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই জেলে অতিবাহিত করেছেন, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দিয়ে মামলার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন এবং সংশ্লিষ্ট আদালতকে সেদিনই তা জানিয়ে দেবেন। বাংলাদেশে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মামলা ভুয়া। এই কমিটি ভুয়া মামলা দায়েরকারীদের নতুন ও কঠোর একটি আইনের আওতায় বিচারের ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুয়া মামলাকারীকে মামলার সব খরচ দিতে হবে এবং অন্তত এক বছর জেলে থাকতে হবে।
নতুন মামলার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সারা দেশে জরুরিভাবে এক হাজার এজলাস নির্মাণ করা হবে এবং সব আদালতে বিচারব্যবস্থা ডিজিটাইজড করা হবে। বিচারক শুধু বিচার করবেন, আদালত-প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন আইন পেশায় অভিজ্ঞতা রয়েছে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এমন ব্যক্তি বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারকেরা। সব বিচারককে বাধ্যতামূলকভাবে আদালত প্রাঙ্গণে নির্মিত সরকারি বাসভবনে থাকতে হবে এবং কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে। দেশের সব আদা+লত নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন।
জেল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবেন সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল। জেলে মাদক ব্যবসা বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, পুরো জেলখানা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসা হবে। দাগি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গ্যাংলিডারদের জন্য সন্দ্বীপ বা হাতিয়ায় আলাদা একটি জেলখানা নির্মাণ করা হবে। বন্দীদের অভিযোগ শোনার জন্য প্রতি সপ্তাহে অফিস সময়ের পর জেলা জজের নেতৃত্বে একটি নাগরিক প্রতিনিধিদল জেল পরিদর্শনে যাবে।

৩.
আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগে প্রধান বিচারপতি হবেন সব সংস্কারের মধ্যমণি। এ পদে তাই নিয়োগ পাবেন যোগ্য, সৎ, ব্যক্তিত্ববান ও উদ্ভাবনী চিন্তার নেতাসুলভ একজন মানুষ। যে দেশে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, ১৯৯০ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা পাকিস্তান আমলের সমবায় আন্দোলনের মতো অসামান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সে দেশে এমন ব্যক্তি অবশ্যই আছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমেই উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন। এই আইন অনুসারে সিনিয়র জেলা জজ ছাড়াও সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে যাঁদের অন্তত ৫০টি মামলা এককভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যাঁদের শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় শ্রেণী নেই এবং যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই—এমন আইনজীবীদের উচ্চ আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। এই মানদণ্ডগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করলে বর্তমান বিচারপতিদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ চাকরি হারাবেন। স্বপ্নের স্বদেশ যেহেতু, তাই আমার প্রধান বিচারপতি তা-ই করবেন। একই সঙ্গে কোনো বিচারপতি রাজনৈতিক-সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে, গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে বা এজলাসে কারও সঙ্গে অভদ্র ও অবমাননাকর ব্যবহার করে বিচারকদের আচরণবিধি ভঙ্গ করে থাকলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তাঁদের অপসারণের ব্যবস্থা করবেন। প্রধান বিচারপতি নিরপেক্ষ, সৎ ও যোগ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি সুনাম রয়েছে—শুধু এমন বিচারকদের রিট আবেদন শোনা ও নিষ্পত্তির এখতিয়ার দেবেন; বেঞ্চ গঠন ও ভেঙে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ঠিক করবেন এবং ডেপুটি চিফ জাস্টিসদের সঙ্গে পরামর্শ করে তা প্রয়োগ করবেন। সব বিচারপতি মাননীয় বলে সম্বোধিত হবেন এবং কালো গাউন পরা থেকে মুক্তি পাবেন।
প্রধান বিচারপতিকে সাহায্য করার জন্য আপিল বিভাগে দুজন ডেপুটি প্রধান বিচারপতি থাকবেন। একজন সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক বিষয়াদি তদারকি এবং অন্যজন মামলা ব্যবস্থাপনার তদারকিতে প্রধান বিচারপতিকে সহায়তা করবেন। প্রধান বিচারপতি নিজে সরাসরিভাবে তদারকি করবেন উচ্চ ও নিম্ন আদালতের সব সংস্কার কার্যক্রম। প্রধান বিচারপতি অবাধে সংস্কার কার্যক্রম চালাতে পারবেন। কারণ, বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ আর্থিক ও লোকবল নিয়োগের স্বাধীনতা থাকবে; থাকবে একটি শক্তিশালী বিচার প্রশাসন সচিবালয়। তাঁর আদালতের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস হবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, কোনো সরকার বা দলের আজ্ঞাবাহী নয়।

৪.
আমার স্বপ্নের বিচারব্যবস্থায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী অন্যায়কারী হলেও তিনি ভীতসন্ত্রস্ত থাকবেন। বিচারকেরা নির্ভয়ে ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠুভাবে বিচারকাজ করবেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের সব সুযোগ রহিত থাকবে এবং মহা প্রতাপশালী হিসেবে পরিচিত দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, সাংসদ, আমলা, রাজনীতিক, ব্যবসায়ীরা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আমার স্বপ্নের বিচারব্যবস্থায় উচ্চ আদালতের সংবিধানসংক্রান্ত রায় পড়ে মনে হবে, এটি দেশের স্বার্থে দেওয়া রায়, কোনো দলের স্বার্থে নয়।
বিচারব্যবস্থা হবে গরিববান্ধব, অসহায় মানুষের পরম আশ্রয়স্থল এবং অন্যায়কারীর জন্য ত্রাসস্বরূপ। আমার স্বপ্নের বিচারব্যবস্থায় বিচার শেষে ভুক্তভোগী মানুষের চোখে আসবে আনন্দের অশ্রু, বঞ্চনার কান্না নয়।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন