পরামর্শ
এখান থেকেই তোমাদের স্বপ্নের শুরু
আনিসুল হক
তোমরা খুব ভাগ্যবান যে এখনই, এই পঞ্চম শ্রেণীতেই তোমরা সম্মিলিত একটি বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছ। তোমাদের জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। এ রকম বয়সে বড় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারিনি। এ ধরনের পরীক্ষায় আমরা প্রথম অংশ নিয়েছি এসএসসি পরীক্ষার সময়। তবে ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার দিনটার কথা খুব মনে পড়ে। শীতকাল। নারকেল তেল জমে আছে। নারকেল তেলের শিশিতে পাটখড়ি ঢুকিয়ে তেল বের করে আম্মা আমার মাথায় দিয়ে দিলেন। নিজ হাতে আমার চুল আঁচড়ে দিলেন। সেই কথা খুব মনে পড়ে। মানে পরীক্ষার দিনে পরীক্ষার্থী মাত্রই রাজপুত্র বা রাজকন্যা।
এ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে পাঠ্যবই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো করে পাঠ্যবই পড়ো। সারা বছর যা পড়েছ, তা-ই এখন রিভিশন দাও, তবেই সাফল্য পাবে। মনে আত্মবিশ্বাস রেখো, দেখবে পরীক্ষাটা আপনা-আপনিই ভালো হয়েছে। তোমরা স্কুলে যেভাবে বার্ষিক পরীক্ষা দাও, এটাও কিন্তু সে রকমই পরীক্ষা হবে। তোমরা অযথা কোনো দুশ্চিন্তা করবে না।
এই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় তোমাদের কেউ খুব ভালো ফলাফল করবে, কেউ হয়তো মাঝারি ধরনের, কেউ কেউ হয়তো ততটা ভালো করতে পারবে না। তাই না? আবারও বলছি, মনের মতো পরীক্ষা দিতে না পারলেও তোমরা মন খারাপ করবে না। কারণ, ভবিষ্যতে আরও পরীক্ষা আছে, সেখানে খুব ভালো করার সুযোগ থাকবে। মনে রেখো, এটা তোমাদের জীবনে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। এখান থেকেই তোমাদের স্বপ্নের শুরু, সুন্দর অর্থবহ আগামী দিনের শুরু।
তোমাদের বলব, পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে প্রথমে খুব ভালো করে পড়ে নিয়ো। তারপর যে প্রশ্নের উত্তর বেশি ভালো পারবে, তার উত্তর লেখা শুরু করবে। লেখা শেষ হলে অবশ্যই রিভিশন করতে ভুলবে না।
অবশ্যই নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখো।
সবার জন্য আমার শুভেচ্ছা থাকল। নিশ্চয়ই পরীক্ষা ভালো হবে।
ভালো হবে ফলও। তোমরা কেবল তোমাদের মা-বাবা আর শিক্ষক-শিক্ষিকার গর্ব নও, তোমরা সারা বাংলাদেশের গর্ব।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক







sanjay chandra shil
২০১৩.০১.০২ ১৩:০৫