সবার মন জয় করল কৃতী শিক্ষার্থীরা
-
আমরা করব জয় একদিন—ঢাকার সংবর্ধনায় আসা কৃতি শিক্ষার্থীদের একাংশ
-
কৃতীদের উত্সাহ দিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী
-
যেন সত্যিকারের আনন্দযাত্রা!
-
মাইলসের জ্যামিং
-
‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে...’ গাইছেন কুমার বিশ্বজিত্
-
মঞ্চে আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবি
-
ঢেউয়ের দোলায় মনটা নাচে
-
সারাহ্ বেগম কবরী
-
সুলতানা কামাল
-
তারানা হালিম
-
মাহ্ফুজ আনাম
-
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
-
চঞ্চল চৌধুরী
-
জাভেদ ওমর
-
ইউসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল ইসলাম
-
নন্দন গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসরুর চৌধুরী
কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রাণের সাড়ায় জেগে উঠেছে নন্দন পার্ক। তরুণদের গান, হাসি আর উচ্ছলতায় ভেসে যাচ্ছে পুরো এলাকা। সবার দৃষ্টি হঠাৎ মঞ্চের দিকে। সেখানে টিভি নাটকের একজন জনপ্রিয় নায়ক এসেই সবার মন কেড়ে নিয়েছেন। তাঁর কথা আর গানে সবাই মুগ্ধ। মঞ্চে একের পর এক তারকারা আসছেন। সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন, কার পর কে আসেন। একসময় মঞ্চের সামনের মাঠের পেছন দিকে একজন তরুণ শিক্ষার্থী বলে উঠল, ‘ওই যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ না?’ শিক্ষামন্ত্রী একটু আগেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে এসেছেন। তাঁকে কাছে পেয়ে সবাই ঘিরে ধরল।
এত কাছে শিক্ষামন্ত্রী! এটা কেউ ভাবতে পারেনি। শিক্ষামন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। মন্ত্রী মহোদয় একটুও আপত্তি করছেন না। একটু হাসি, একটু কথা। এ তো শিক্ষার্থীদের জন্য বিরাট প্রাপ্তি। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তারক্ষীদের ঠেলেঠুলে সরিয়ে মন্ত্রীর পাশে চলে যাচ্ছে। শেষে রক্ষী দুজন বিরক্ত হয়ে মঞ্চের পেছনের ঠান্ডা ঘরে ঢুকে পড়লেন। বাইরে তখন প্রচণ্ড গরম। সিলেটে শিক্ষামন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু প্রথম আলোর এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকায় এসেছেন। কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার এই আয়োজনকে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। সবার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, কিছু মতবিনিময়কে তিনি খুব মূল্য দেন। কারণ, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি নিবেদিত।
প্রথম আলোর সারা দেশে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার আয়োজনের একটি বড় দিক হলো—শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এই বিরাট আয়োজনে সম্পৃক্ত হয়েছেন দেশের সেরা শিক্ষাবিদ, লেখক, শিল্পী, গায়ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও জ্ঞানীগুণী মানুষ। তাঁরা ৬৮টি স্থানে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তরুণদের নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এভাবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেশের কৃতী শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধ গড়ে উঠেছে। এটা আসলে ভবিষ্যতের একটি প্রতিশ্রুতিশীল নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠার সূচনা। সবগুলো জায়গাতেই দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আগ্রহ। যেমন নরসিংদীতে আমি দেখেছি, কী ভীষণ আবেগ-উৎসাহ নিয়ে কৃতী শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়েছে। সেখানে ৭৩০ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। তাদের অর্ধেকের বেশি ছাত্রী। তারা দূরের গ্রামের স্কুল থেকে এসেছে। চোখে-মুখে ছিল ভীষণ বড় কিছু প্রাপ্তির আনন্দ। বন্ধুসভার সদস্যরা সেখানে খুব অল্প সময়ে মুঠোফোনে সরাসরি কথা বলে বা এসএমএস করে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ফলে মাত্র তিন-চার দিনের মধ্যেই তাঁদের রেজিস্ট্রেশনের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে বন্ধুসভাকে সহযোগিতা করেছে ‘আমরা নরসিংদীবাসী’। এটা স্থানীয় তরুণদের একটি সংগঠন। পরের সপ্তাহে ওরাও নরসিংদীর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে। তাদের কাজ ও প্রথম আলোর কাজের মধ্যে একটা সুন্দর সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
এভাবে প্রথম আলোর উদ্যোগের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বের সেতু রচিত হয়। নরসিংদীর এক তরুণ নিজের মেধা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্র। তাঁর নাম তৌকির আহমেদ। তিনি একটি কফি হাউস পরিচালনা করেন, যেখানে তরুণেরা এসে সাহিত্য থেকে বিজ্ঞান—সব ধরনের চর্চা করেন। তিনি ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে তাঁর এলাকাকে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় এনেছেন। পাশেই নরসিংদী সরকারি কলেজ। সেই কলেজের সবাই তৌকিরের ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, ইন্টারনেটের সুবিধা সব শিক্ষার্থীর কাছে বিশ্ব জ্ঞানভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। তৌকির ‘আমরা নরসিংদীবাসী’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।
তিনি প্রথম আলোর কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা সংগঠনে তাঁর প্রযুক্তি সহযোগিতা দিয়েছেন। আমাদের সংবর্ধনার আয়োজন যে কতভাবে কত মেধাকে যুক্ত করেছে, এটি তার একটি দৃষ্টান্ত।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






