স্বাস্থ্য খাত: জন্মনিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অর্জন আরও নাটকীয়
জনস্বাস্থ্যে কিছু ‘অলৌকিক অর্জন’ হয়েছে
আহমদ মোশ্তাক রাজা চৌধুরী
সামাজিক খাতে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ আলোচনার বিষয় হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর সম্পাদক রামচন্দ্র গুহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে এ দেশ সব ধরনের বিরুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গর্বের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের অর্জনের সঙ্গে নিজের প্রদেশ পশ্চিমবঙ্গের তুলনা করে তিনি দুঃখও করেছেন যে সেখানে এতটা অগ্রগতি হয়নি। রামচন্দ্র উপসংহারে বলেছেন, ‘একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলে যে দেশকে খরচের খাতায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল, আজ তার কাছে আছে অনেক উদ্ভাবনভরা এক ঝুড়ি।’
পেছনের গল্প
আমাদের দেশ সম্পর্কে এসব প্রশংসার পেছনের গল্পটা কী? বাংলাদেশ আসলে তার চিরকালীন সব সমস্যা সত্ত্বেও ব্যতিক্রমী সব অর্জন করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য তার একটি। স্বাধীনতার সময় দেশের মাত্র ৫০ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেত। সেই হার এখন প্রায় সর্বজনীন হয়ে দাঁড়িয়েছে—দেশের ৯০ শতাংশ শিশু এখন বিদ্যালয়ে যায়। এদের মধ্যে মেয়েশিশুদের অর্জন বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালে বিদ্যালয়গামী ছেলেশিশুদের তুলনায় মেয়েশিশুদের সংখ্যা ছিল অর্ধেক আর এখন ছেলেদের চেয়ে বেশি মেয়েশিশু স্কুলে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষাতেও মেয়েরা দ্রুত ছেলেদের ধরে ফেলছে। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। গত চার দশকে গড় আয়ু, যেটি জীবনের সার্বিক কল্যাণের মান নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক, তা ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। লক্ষ করার বিষয়, গড় আয়ু পুরুষদের তুলনায় নারীর ক্ষেত্রে বেড়েছে বেশি। ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর গুটিকয়েক দেশের একটা, যেখানে নারী পুরুষের চেয়ে কম দিন বাঁচত। এখন সে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এতটাই যে নারীরা এখন গড়ে পুরুষের চেয়ে দুবছর বেশি বাঁচছে। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অর্জন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। ১৯৭০-এর দশকে প্রতি হাজার জীবিত জন্মে নবজাতক মৃত্যুর হার ছিল ২০০। এখন তা কমে ৫০-এ দাঁড়িয়েছে। একইভাবে মাতৃমৃত্যু হারও কমেছে। চার দশক আগে এক লাখ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ৮০০ মায়ের মৃত্যু হতো। এখন তা ২০০-এর নিচে নেমে এসেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অর্জন আরও নাটকীয়। মোট প্রজনন হার বা টিএফআর (যার মাধ্যমে একজন নারী গড়ে সারা জীবনে কতজন সন্তান ধারণ করেন তা প্রকাশ করা হয়) ১৯৭০-এর দশকে ৬.৩ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১০ সালে ২.৩-এ এসে দাঁড়িয়েছে। এটা প্রায় নিশ্চিত যে অচিরেই বাংলাদেশ ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল ফার্টিলিটি’ অর্জন করবে।
বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে কিছু ‘অলৌকিক অর্জন’ হয়েছে। টিকাদান তার একটি। আশির দশকের মাঝামাঝি মাত্র ২ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হতো। পাঁচ বছরের মধ্যে তা ৭০ শতাংশের ওপরে চলে যায়, ইউনিসেফের ভাষায় যা ছিল ‘প্রায় অলৌকিক’ ঘটনা। ডায়রিয়া ছিল অন্যতম প্রধান শিশুঘাতক কিন্তু তা থেকে উদ্ধারের জন্য খাওয়ার স্যালাইন পাওয়া যেত না বা পাওয়া গেলেও গরিব মানুষ তা কিনতে পারত না। এক দশক ধরে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মায়েদের খাওয়ার স্যালাইন বানানোর যে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল তার ফলে খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের শীর্ষে। পরিবার পরিকল্পনায় সাফল্যের ওপরও যথেষ্ট লেখালেখি হয়েছে, যা অনেক দেশের জন্য ঈর্ষার বিষয়। ১৯৫০-এর দশকে ‘বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি’র উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে শুরু করে আমরা এখন অনেকদূর এগিয়েছি—আমাদের পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ব্যবহারের হার এখন ৬০ শতাংশের ওপর। যক্ষ্মারোগের প্রাবল্যের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ওপরের দিকে। কিন্তু আমরা রোগী চিহ্নিতকরণ ও চিকিৎসা হার উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছি, যার ফলে রোগটির প্রাদুর্ভাব এখন কমে আসছে। যক্ষ্মা মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে কৌশল গ্রহণ করেছে সেটিও অনন্য। বাংলাদেশে সরকার-বেসরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে সরকার কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিনের একটি সাম্প্রতিক প্রকাশনায় বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে এই বলে যে, এ দেশে ‘কম খরচে ভালো স্বাস্থ্য’ অর্জিত হয়েছে। গবেষকেরা স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচক নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এই অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের তুলনামূলক আলোচনাও করেছেন। পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে মাথাপিছু কম আয় হলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি এ দেশ দুটোর চেয়ে ভালো। বাংলাদেশের গড় আয়ু যেখানে ৬৮ বছর ছাড়িয়েছে ভারত ও পাকিস্তানে তা ৬৫ বছরের বেশি নয়। নবজাতক মৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর দিক থেকেও ভারত (যথাক্রমে ৪৮ ও ২৩০) এবং পাকিস্তান (৬৬ ও ২৬০) থেকে বাংলাদেশ (৪২ ও ১৯৪) এগিয়ে আছে। জন-উর্বরতা হার হ্রাসের দিক থেকেও ভারত (২.৫) এবং পাকিস্তানের (৩.৬) তুলনায় বাংলাদেশ (২.৩) ভালো করছে। টিকাদান এবং খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহারের দিক দিয়ে আমাদের সাফল্য দুর্দান্ত। টিকাদান ও খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহারের হার বাংলাদেশে যথাক্রমে ৮২ ও ৮৩.৪ শতাংশ, অন্যদিকে ভারতে তা যথাক্রমে ৪৪ ও ৬১.২ শতাংশ এবং পাকিস্তানে যথাক্রমে ৪৭.৩ ও ৪৮ শতাংশ।
প্রধান নিয়ামক মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের এই ‘সুখকর বিচ্যুতি’ কীভাবে ঘটল? এর কয়েকটি ব্যাখ্যা হতে পারে, যার মধ্যে প্রধান স্বাধীনতার জন্য এ দেশের যুদ্ধ। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, যার চরম রূপ আমরা দেখি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে। এই সংগ্রাম শুধু একখণ্ড ভূমির জন্য ছিল না, বরং তা ছিল প্রকৃত মুক্তির লক্ষ্যে। এটি ছিল এ ভূখণ্ডের ঐতিহ্য, ভাষা ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই। এ সংগ্রামের লক্ষ্য ছিল নারীসহ দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। যুদ্ধে শুধু যে বিদেশি শত্রু ও তাদের দোসরেরা পরাজিত হয়েছে, তা-ই নয়; পরাজিত হয়েছে তাদের মধ্যযুগীয় মূল্যবোধ। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে সব ধরনের প্রগতিশীল চিন্তা বিকাশের পরিবেশ তৈরি হলো, যার মধ্যে ছিল নারীর মর্যাদা ও অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া। পরিবার পরিকল্পনার মতো কিছু কিছু উন্নয়নসংক্রান্ত ভাবনা, যা মুক্তিযুদ্ধের আগে প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়েছিল, স্বাধীনতার পর সেসব বাধা দ্রুত অপসৃত হলো।
স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকার এমন কিছু নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, যেখানে সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রধান প্রধান সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তারা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করেছে, যেখানে হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিযুক্ত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে সরকার, যার ফলে শুধু যে স্বাস্থ্য খাত সরাসরি উপকৃত হয়েছে তা-ই নয়, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষা, কৃষি এবং পথঘাট ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও, যা স্বাস্থ্য খাতকে আরও সামনে নিয়ে গেছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর ‘হ্যাঁ-সূচক কর্মকাণ্ড’ (সরকারের যেমন খাদ্যের বদলে শিক্ষা ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীবৃত্তি এবং এনজিওগুলোর মেয়েশিশু ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা) শিক্ষা খাতে লিঙ্গসাম্য নিয়ে আসার ব্যাপারে প্রভূত সাহায্য করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণের জন্য বৃহত্তর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নীতিমালা ও পরিকল্পনায় এ বিষয়ে জোর তো দেওয়া হয়েছেই, বেসরকারি সংস্থাগুলোও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীকেই প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রে রেখেছে। তার একটি উদাহরণ, ব্র্যাক ৮০ হাজার নারীকে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাঁরা গ্রামে ও শহরের বস্তিতে দরিদ্র নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। দেশের সব এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের প্রায় সব গ্রহীতা নারী। এসব কর্মসূচির ফলাফলের প্রতিফলন পাওয়া যায় কুমিল্লার মতলবে পরিচালিত একটি নিবিড় সমীক্ষায়, যেখানে দেখা গেছে, যেসব মা ব্র্যাকের নারীকেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন তাঁদের শিশুসন্তানদের মৃত্যুহার তুলনামূলক অনেক কম। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ আবারও এসে পড়ে—এর মধ্য দিয়ে দেশের কারও কারও মধ্যে দরিদ্র মানুষ ও নারীদের অবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন আন্দোলন ও প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর ভাবনা যুক্ত হয়। এর ফলে জন্ম হয়েছে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র, উইমেন ফর উইমেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিমালিকানা খাতও স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের সূচক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাকশিল্পের প্রসঙ্গ প্রথমেই চলে আসে। আমেরিকা ও ইউরোপের বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের হাজার হাজার গার্মেন্টস শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সে বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানির চার ভাগের তিন ভাগ। ফ্যাক্টরিগুলোর ৩০ লাখ শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী। তাঁরা গ্রামে পরিজনের কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন এবং এমন এক প্রজন্মের অংশ তাঁরা যাঁরা উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্পন্ন জীবন যাপন করতে চায়। ঝড়-বন্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের উঠে দাঁড়ানোর সামর্থ্য প্রায় প্রবাদপ্রতিম। স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ, পূর্বাভাস ও সাইক্লোন শেল্টার স্থাপনের ফলে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
সবটাই সুখচিত্র নয়
তবে দেশের উন্নয়নের পুরোটাই ফুলেল চিত্র নয়। নানা সাফল্য ও প্রবৃদ্ধিশীল অর্থনীতি (গড়ে ৬ শতাংশ) সত্ত্বেও বেশ কিছু সমস্যা বাংলাদেশের আরও এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দারিদ্র্য তাদের মধ্যে প্রধান। ৩০ শতাংশের বেশি নাগরিক যেকোনো বিবেচনায় অত্যন্ত দরিদ্র। আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য বিশাল, যা থেকে বেরিয়ে আসা যাচ্ছে না কিছুতেই। এর অন্যতম কারণ সুশাসনের অভাব। দুঃখজনক হলেও সত্য যে দুর্নীতির দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম সারিতে। স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহির অভাব প্রতুল এবং সম্পদের অপচয় হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতিও ভঙ্গুর ও আক্রমণাত্মক। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বস্তিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধির মতো অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় নিয়ে জাতীয় নীতিনির্ধারকদের তেমন মাথাব্যথা নেই। বেসরকারি সংস্থাগুলোর নিজেদের মধ্যে অথবা সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো জীবনযাপনজনিত ও অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থা আরও জটিল করবে। পানীয় জলে আর্সেনিকের বিষয়টিও নীতিনির্ধারকেরা মোটের ওপর ভুলেই আছেন। আর আছে অপুষ্টির প্রকোপ। সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর গড় আয় আমাদের চেয়ে কম কিন্তু আমাদের অপুষ্টির হার তাদের চেয়ে বেশি, যা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজের ওপর বিশ্বে এখন যে জোর দেওয়া হচ্ছে যার লক্ষ্য চিকিৎসার জন্য দরিদ্র মানুষের ব্যয় হ্রাস, তা এখনো বাংলাদেশে অবহেলিত রয়ে গেছে। সারা বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা তখন ঠায় বসে আছি। ভাবতে হবে এভাবে বসে থাকা আমাদের মানায় কি না।
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি উদার ও আধুনিক সমাজের প্রতি আমাদের বিশ্বাস ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হতে পেরেছে। দেশের সব নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের যে দীর্ঘ যাত্রা সেখানে কিছু অর্জন আমাদের হয়েছে। যেসব বাধা আমাদের পেছনে টানছে সেগুলো অতিক্রমে নবতর চেষ্টা আমাদের অর্জনকে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করবে সন্দেহ নেই।
আহমদ মোশ্তাক রাজা চৌধুরী: রকেফলার ফাউন্ডেশন, ব্যাংককে কর্মরত। সাবেক উপ-নির্বাহী পরিচালক, ব্র্যাক।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






