আমরাই পারব

ফারহানা জাহান | তারিখ: ২৪-১১-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
ফারহানা জাহান

ফারহানা জাহান

ছবি: প্রথম আলো

১৯৭১-এর সদ্যোজাত বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪০ বছর পার করে এসেছে। পৃথিবীর অসীম বয়সের সাপেক্ষে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ কৈশোরে পদার্পণ করেছে মাত্র। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ স্বাধীনতাকামী-আত্মপ্রত্যয়ী তরুণদের যে স্বপ্ন বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, তাঁদের মতোই হাজারো তরুণের হাত ধরে এ দেশ সামনে এগিয়ে চলেছে।
ব্যক্তিজীবনে যেমন সফলতা-ব্যর্থতা থাকে, তেমনি রাষ্ট্রেরও থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায়, সিডরে যখন দেশের প্রান্তিক অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়, জীবন পর্যুদস্ত হয়, তখন আমরা আশার আলো দেখতে পাই ত্রাণকাজে তরুণদের নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসতে দেখে। মেধা পাচার, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে একদিকে হই শঙ্কিত, আবার তরুণ বিজ্ঞানীদের সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পাটের জিনসূত্র আবিষ্কার ও পরবর্তীকালে গবেষণায় সাফল্য আমাদের করে অভিভূত। আমরা এখন স্বপ্ন দেখি বিজ্ঞানী হওয়ার—আমাদের সামনে আছেন বিজ্ঞানী মাকসুদুল ও তাঁর তরুণ দল।
এভারেস্ট বিজয়ের কাহিনি পড়তে গিয়ে ছোটবেলায় কার না মনে হয়েছে যে কোনো বাঙালি কি পারবে এভারেস্ট চূড়ায় যেতে? সেই অধরা স্বপ্ন বাস্তব হয়ে ধরা দিল মুসা ইব্রাহীমের হাত ধরে। মুসা ইব্রাহীমের পর এম এ মুহিত। এরপর মনে হয়েছিল, ছেলে বলেই হয়তো সম্ভব হলো, কোনো বাঙালি মেয়ে কি তা পারবে? এ প্রশ্নের জবাব মিলল নিশাত মজুমদার এবং ওয়াসফিয়া নাজরীনের এভারেস্ট জয়ের মধ্য দিয়ে।
পর্যটনশিল্পের দুরবস্থা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। তরুণেরা কিন্তু চিন্তা করেই থেমে নেই—কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত আবর্জনামুক্ত করতে তাঁরা শোভাযাত্রা করেছেন সাইকেল নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ইয়াবা, মাদক, তরুণসমাজের অবক্ষয়, সন্ত্রাস, নানা সমস্যার মধ্যে তরুণের দৃপ্তকণ্ঠ ‘মাদককে না’, ‘বদলে যাও বদলে দাও’ আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখায়। শিক্ষায় অনগ্রসর এ দেশের ছেলেমেয়েরাই এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিতর্ক, গণিত অলিম্পিয়াড, তথ্যপ্রযুক্তির ওপর প্রতিযোগিতা, তরুণ উদ্যোক্তা পুরস্কার ইত্যাদিতে কৃতিত্বের সঙ্গে অংশ নিচ্ছে। নারীদের অনগ্রসরতার মধ্যে আশার আলো ছড়ায় যখন বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেয়েরা এ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা করার দৃঢ় প্রত্যয় দেখতে পাই ২০১২ সালের ৯০ জন অদম্য মেধাবীর মধ্যে।
আজ থেকে ১০-১২ বছর আগেও কি ভেবেছি যে ক্রিকেট নামের অভিজাতদের খেলায় বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হবেন? আমাদের মাটিতে বিশ্বকাপের আসর বসবে? আমাদের আশা, এই পথ ধরেই অলিম্পিকের অধরা স্বর্ণও আমরা অচিরেই জিতে আসব। যানজট আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ আমরা ভুলে যাই যে এ দুটোর কোনোটিতেই বাংলাদেশ কিন্তু বিশ্বে প্রথম নয়। আশা করি, এ সমস্যা দুটিরও সমাধান হয়ে যাবে অচিরেই।
২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভালো ভালো দৃষ্টান্তকে সামনে নিয়ে আসতে হবে—যেন প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ পড়ে নতুন উদ্দীপনায় একজন মানুষ দিন শুরু করতে পারে। আমরা তরুণেরা যেন হতাশাগ্রস্ত না হই—আমরা আগেও পেরেছি, এখনো পারব। এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধমনিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনা আর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের রক্ত বইছে, আমরা সবকিছু হারিয়েও নতুন করে স্বপ্ন দেখি, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ‘হ্যাপিনেস ইনডেক্সে’ এগিয়ে থাকি—আমরাই পারি এ দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে।
ফারহানা জাহান: ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন