ডাচ্-বাংলা ব্যাংক—প্রথম আলো গণিত উৎসব
-
জামিলুর রেজা চেচ্ধুরী
-
কে এস তাবরেজ
-
মুহম্মদ জাফর ইশবাল
-
আ ফ ম খোদাদাদ খান
জামিলুর রেজা চৌধুরী
সভাপতি
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি
আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে গণিত উৎসব দ্বিতীয় দশকে পা দিচ্ছে। যখন আমরা শুরু করি, এটা যে এত সাফল্য অর্জন করবে, তা আশা করিনি। আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, বিশেষ করে স্কুলপর্যায়ে গণিতভীতি দূর করা। পাশাপাশি গণিত যে আনন্দের বিষয় হতে পারে, সেটাও আমরা প্রমাণ করেছি। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আমাদের বাংলাদেশ গণিত দল প্রতিবার যাচ্ছে এবং প্রতিবছরই অংশগ্রহণকারীরা ধারাবাহিকভাবে তাদের পারফরম্যান্স ভালো করছে। আমরা ইতিমধ্যে রোপৗ পদক ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছি। এবারের একাদশতম গণিত অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে আমরা আশা করি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে গণিতের পারফরম্যান্সে উন্নতি করব।
গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পক্ষ থেকে সবার প্রতি শুভেচ্ছা।
কে এস তাবরেজ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
বর্তমানে মুখস্থনির্ভর প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বিপরীতে আনন্দের সঙ্গে সৃজনশীলতা বিকাশের উদাহরণ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব। এ উৎসব এখন শুধু শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিযোগিতায় আবদ্ধ নেই; শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। সবার কাছে এটি হয়ে উঠেছে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। শুধু শিক্ষার্থীদের গাণিতিক উৎকর্ষ বিকাশই নয়, গণিতকে বইয়ের অক্ষরের দায় থেকে বের করে খেলার মাঠে এনে আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেছে। মাত্র কয়েক বছরে গণিত উৎসবকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে আসার জন্য সবার আগ্রহের পাশাপাশি দেশবরেণ্য কয়েকজন গণিতবিদ ও শিক্ষাবিদের অক্লান্ত পরিশ্রমের অবদান সর্বাগ্রে। এমন একটি সুসংগঠিত আয়োজনের পেছনে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল স্বেচ্ছাসেবী। সাধুবাদ গণিত অলিম্পিয়াডের সব স্বেচ্ছাসেবীকে। আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণিতের মেধার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের এসব অর্জন আবারও প্রমাণ করেছে, তাদের মেধা ও দক্ষতা বিশ্বমানের। এসবই আমাদের জন্য বড় আনন্দের। বরাবরের মতো এবারও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষার্থীদের, গণমানুষের প্রাণের গণিত উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বিগত বছরগুলোর মতো এবারের গণিত উৎসবের সব আয়োজন সফল হবে বলে আমি আশাবাদী। গণিত উৎসবের সব শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
সহসভাপতি
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি
দেখতে দেখতে আমরা গণিত অলিম্পিয়াডের ১১ বছরে পা দিচ্ছি। ১১ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ১১ বছর আগে পদক পাওয়া ছিল বিস্ময়ের ব্যাপার আর এখন এক-দুটি মেডেল প্রায় ডাল-ভাত হয়ে গেছে। আমরা জানি, আমাদের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশের জন্য সহজেই একটি পদক নিয়ে আসতে পারে। তাই এখন দেখতে চাই, গণিত অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে সবাই যেন বিশ্বমানের গণিতবিদ হতে পারে। এ দেশে কখনো কোনো ছেলেমেয়ে যেন গণিতকে আর কোনো দিন ভয় না পায়; সব ছেলেমেয়েরই যেন থাকে গণিতের জন্য ভালোবাসা আর ভালোবাসা।
আ ফ ম খোদাদাদ খান
(অব.) অধ্যাপক, গণিত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
(বর্তমানে) গণিত অধ্যাপক, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির উদ্যোগে একাদশ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে এ মাসেই। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আনন্দমুখর পরিবেশে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ১৭টি ভেন্যুতে ১৭ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণে এই উৎসবগুলো এ দেশে গণিতশিক্ষা ও গণিতের মাধ্যমে শিক্ষাকে বিকশিত করবে—এ আমার দৃঢ় প্রত্যাশা। সব অংশগ্রহণকারীর জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। এ সুযোগে আমি গত বছর ৫৩তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে যোগদানকারী বাংলাদেশ দলটি, বিশেষ করে রৌপ্যপদক জয়ী ধনঞ্জয় বিশ্বাস, ব্রোঞ্জপদক জয়ী সৌরভ দাস ও নূর মোহাম্মদ সফিউল্লাহকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। তাদের কৃতিত্বের জন্য আমরা গর্বিত। আশা করি, এবারের উৎসবগুলো থেকে বিজয়ী হয়ে যারা ৫৪তম আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে যাবে, তারাও তাদের কৃতিত্বের মাধ্যমে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। আমাদের বিদ্যালয়গুলোয় গণিতশিক্ষা অনেকটা পাঠ্যপুস্তকনির্ভর, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য চ্যালেঞ্জ খুবই সীমিত। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য তাদের প্রতিযোগিতামূলক সমস্যা সমাধানে উৎসাহী করতে হবে। এ ব্যাপারে গণিত অলিম্পিয়াডগুলো অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
সদস্য
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি
২০০৫ সালে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিশ্বের অন্যান্য দেশের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিজেদের মেধা যাচাই শুরু। শিক্ষায় বরাদ্দের বিশ্ব গড় জিডিপি এর ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও আমাদের মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলাফলও পরিষ্কার। বিশ্বের হাজার হাজার শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শুধু যে আমাদের নাম নেই তা-ই নয়, এ বিষয়ে আমরা বিচলিতও নই। কিন্তু মর্যাদার গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যত প্রমাণ করেছে। ২০০৫ সালে ৮৫তম আর ২০১২ সালে তা হয়েছে ৫৪তম! ডেনমার্ক, স্পেন ও নরওয়ের মতো দেশ আমাদের পেছনে! এবার আমাদের কেউই রিক্ত হস্তে ফিরে আসেনি। ধনঞ্জয় নিয়ে এসেছে প্রথম রৌপ্যপদক, দুজন পেয়েছে ব্রোঞ্জপদক। আমাদের দলের কোচ ও দলনেতা মাহবুব মজুমদারকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই আমাদের ছেলেমেয়েদের শুধু গণিত শেখানোর জন্যই নয়, দীর্ঘদিন বিদেশে থেকেও তাঁর মধ্যে যে দেশপ্রেম বিকশিত হয়েছে, তাঁর স্পর্শে আমাদের ছেলেমেয়েদের উজ্জীবিত করার জন্যও। বাংলাদেশ গণিত দলকে অভিনন্দন জানাই। আর তোমরা যারা আসন্ন গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে, ২০১৩ সালের আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়ার বাসনায় তাদের জন্য প্রার্থনা ‘তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি’।
মাহবুব মজুমদার
কোচ
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দল
এবারের গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া সব খুদে গণিতবিদকে অভিনন্দন। আমার বিশ্বাস, আইএমওতে রৌপ্যপদক অর্জন আমাদের সব শিক্ষার্থীকে অনুপ্রেরণা জোগাবে, সাহস সঞ্চার করবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা এখন জেনে গেছে, সুযোগ আর আগ্রহ পেলে আমরাও পারি বিশ্বের সামনে নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ রাখতে। আমি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে গণিত অলিম্পিয়াড হলো শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের একটি প্রমাণিত জায়গা। এখানে ভালো করা মানেই নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা। গণিত উৎসবে অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীর জন্য শুভেচ্ছা।







Mukul Biswas
২০১২.১২.২৫ ২০:২৩