একটি শুভ উদ্যোগ
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদসংলগ্ন দুর্গম এলাকার ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে শিশুবান্ধব শিক্ষা প্রকল্প। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সহযোগিতায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প এ শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
ইউনিসেফ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২১টি বিদ্যালয়ে শিশুবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ তৈরির সহায়তা প্রদান করা হবে। এসব বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার, শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য ফাইবার বোট সরবরাহ, প্রতিটি বিদ্যালয়ে রিসোর্স সেন্টার স্থাপন এবং বোটচালকদের পানি থেকে লোকজনকে উদ্ধারসহ সাঁতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া শিশুদেরও সাঁতারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এ প্রকল্পের সার্বিক লক্ষ্য হচ্ছে, কাপ্তাই হ্রদসংলগ্ন সুবিধাবঞ্চিত দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী অন্তত দুই হাজার শিশুর জন্য শিশুবান্ধব পরিবেশে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে শিশুরা তথ্যপ্রযুক্তি শেখার সুযোগ পাবে। প্রকল্প এলাকার কিশোর-কিশোরীরাও বিদ্যালয়ভিত্তিক রিসোর্স সেন্টারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির জগতে বাড়তি প্রবেশাধিকার পাবে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইরফান শরীফ বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সংস্কার, পানীয় জলের ব্যবস্থা হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধার আওতায় আসবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, ইঞ্জিনচালিত ফাইবার বোটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের সময় ছাড়া অন্য সময়ে জরুরি কাজে স্থানীয় লোকজন বোটগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দুটি বিদ্যালয়ে ফাইবার বোট সরবরাহ করা হয়েছে। এতে দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের অনেক সুবিধা হয়েছে বলে মনে করেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা। তিনি বলেন, ‘বর্ষাবাদলের দিনে নৌপথের শিক্ষার্থীরা প্রায় সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারত না। বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে অভিভাবকদেরও চিন্তায় থাকতে হতো। এখন ফাইবার বোট পাওয়ায় সে চিন্তা দূর হয়েছে এবং বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা যাচ্ছে।’
বালুখালী ইউনিয়নের হেমন্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবিনয় দেওয়ান বলেন, নিরাপদ সাঁতার প্রশিক্ষণ ও ফাইবার বোট সরবরাহের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে, যেসব অভিভাবক ছেলেমেয়েদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করতে পারেন না, তাঁদের খুব সুবিধা হয়েছে। ভবিষ্যতে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জাম দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম উন্নতিসহ স্থানীয় লোকজনের প্রতিদিনের দৈনিক সংবাদপত্র পড়া এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






