শিরোনাম:

শেষের আগে

| তারিখ: ১৩-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
  • পেপ গার্দিওলা

    পেপ গার্দিওলা

  • ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

    ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

শ্রমিক ন্যানেস
রানআপ বেয়ে যখন দৌড় শুরু করেন, ডার্ক ন্যানেস জানেন, এই দৌড় কেবলই একটা উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য নয়। এই দৌড় প্রতিপক্ষের রানের স্রোতে বাঁধ তুলে দেওয়ার জন্যও নয়। এই দৌড় তাঁর পরিবারের জন্য। শিল্পে নয়, তাঁর বিশ্বাস শ্রমে। উদয়াস্ত খেটে যাওয়া সেই সময় শ্রমিকদের একজন মনে করেন নিজেকে। সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে অন্ন নিয়ে যারা ফেরে ঘরে। শুনতে অহেতুক কাব্যের বাতুলতা মনে হতে পারে, কিন্তু ন্যানেসের জন্য ক্রিকেট এখন তাঁর পরিবারের চাহিদা মেটানোর শেষ অবলম্বন।
ন্যানেস যেন এক যাযাবর। জন্মেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। ডাচ রক্তের সূত্রে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন হল্যান্ডের হয়ে। মজার ব্যাপার হলো, ২০০৯ সালের জুনে হল্যান্ডের জার্সি গায়ে টি-টোয়েন্টি খেলার দুই মাসের মাথায় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে অভিষেক! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেমন খেলেছেন, তেমনি একসময়ের পেশাদার স্কিয়ার ন্যানেস খেলেছেন স্কিয়িংয়ে বিশ্বকাপেও!
এখন ক্রিকেটই ধ্যান-জ্ঞান। ক্রিকেটই রুটি-রুজি। অস্ট্রেলিয়া বা হল্যান্ড বাদ দিয়ে থিতু হয়েছেন ইংল্যান্ডে। সেখানেই থাকে তাঁর পরিবার। নিজেকে ‘ফ্রিল্যান্সার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার’ পরিচয় দেওয়া ন্যানেস ভালো করেই জানেন, পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতে হলে আগামী আইপিএলের নিলামে নিজের ভালো দর তুলতেই হবে। গত বছর বেঙ্গালুরু ছেড়ে দিয়েছে তাঁকে। এবার তাই আবার নিলামে উঠবেন। কিন্তু নিলামে ভালো দর হাঁকার জন্য আগে ভালো কিছু তো করা চাই।
বিগ ব্যাশকে তিনি নিয়েছেন সেই সুযোগ হিসেবে। খেলছেনও দারুণ। আট ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট। তার চেয়েও বড় কথা, ইকোনমি খুব ভালো। সাড়ে ছয়। বিগ ব্যাশটা ভালোমতো কাটলেই আইপিএলে ভালো দর। আর আইপিএলে ভালো দর মানেই পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য!

ফুটবলের শক্তি
ফুটবলের শক্তি কতটা? ফুটবল আপনার জাগতিক দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। ফুটবল পুরো একটা জাতিকে উজ্জীবিত, আন্দোলিত করতে পারে। ফুটবল বাধিয়ে দিতে পারে বিরাট প্রাণঘাতী রক্তাক্ত সংঘর্ষ। আবার ফুটবল থামিয়ে দিতে পারে যুদ্ধ। ১৯৬৭ সালে পেলের সান্তোস নাইজেরিয়া সফরে এলে দেশটির গৃহযুদ্ধের বিবদমান দুই পক্ষ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি করেছিল! শুধু গৃহযুদ্ধ নয়, ফুটবল ক্ষণিকের জন্য হলেও থামিয়ে দিয়েছিল বিশ্বযুদ্ধও!
১৯১৪ সালের কথা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রণডঙ্কা তখন ইউরোপের আকাশে। বড়দিনের ঠিক আগের রাতে ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের যুদ্ধ হঠাৎ করে থেমে গেল। দুই পক্ষ সাদা পতাকা উড়িয়ে দিল যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত। বড়দিনের উৎসবে গোলাগুলি কি না করলেই নয়? থেমে গেল যুদ্ধ। সমরনায়কদের নির্দেশ কিছুক্ষণের জন্য হয়ে গেল অকার্যকর। নো-ম্যানস ল্যান্ডে শুরু হয়ে গেল জার্মান ও ইংলিশ সেনাদের ফুটবল ম্যাচ! বেলজিয়ামের ওয়াইপ্রেসে ঘটেছিল এই বিস্ময়কর ঘটনা।
ক্রিসমাস ট্রুস নামে ইতিহাসে বিখ্যাত এই ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু অজানা তথ্য জানা গেল সমপ্রতি প্রকাশিত এক চিঠি থেকে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করা স্টাফ সার্জেন্ট ক্লেমেন্ট বারকার নিজে সেই ফুটবল ম্যাচে খেলেছেন। সেই খেলার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে চার দিন পর নিজের বাড়িতে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
ফুটবলের এই বিস্ময়কর শক্তির ঘটনাটি সবাইকে মনে করিয়ে দিতে ২০১১ সাল থেকে ক্রিসমাস ট্রুস টুর্নামেন্ট নামের একটি প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। যেখানে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং জার্মানির উঠতি ফুটবলাররা অংশ নেন। এই টুর্নামেন্ট আপাতত ২০১৪ সাল পর্যন্ত চলবে, ওই বছরই পূর্ণ হবে সেই ক্রিসমাস ট্রুসের ১০০ বছর।

শোধবোধ
৭ জানুয়ারি জুরিখে শুধু ব্যালন ডি’অর থেকেই নয়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বঞ্চিত হয়েছেন পেপ গার্দিওলার করমর্দন থেকেও!
টানা চার বছর তাঁকে দর্শক বানিয়ে বর্ষসেরার এই পুরস্কার জিতে চলেছেন লিওনেল মেসি। ব্যাপারটা রোনালদোর জন্য হজম করা কঠিনই। সেদিনের রাতটা তাঁর জন্য আরও তিক্ত হয়ে গেছে বার্সেলোনার সাবেক কোচ গার্দিওলার কাছ থেকে দৃশ্যত এক রকম অপমানিত হয়েই।
ফিফার গালা এই অনুষ্ঠানে দর্শক আসনে আরও অনেক ফুটবল তারকা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বসে ছিলেন বার্সার সাবেক সফলতম কোচ। পেছন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় গার্দিওলাকে দেখতে পান রোনালদো। নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে পেছন থেকে কাঁধে আলতো টোকা দিয়ে গার্দিওলার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। করমর্দনের জন্য বাড়িয়ে দেন হাত। কিন্তু গার্দিওলা দেখেও না-দেখার ভান করে এড়িয়ে যান রোনালদোকে!
কেন এমনটা হলো, এটা ইচ্ছাকৃত কি না এ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে। অনেকের ধারণা, বার্সার কোচ থাকার সময় রোনালদো একবারের এল ক্লাসিকোতে অভদ্র আচরণ করেছিলেন গার্দিওলার সঙ্গে। সাইডলাইন থেকে থ্রো ইন করার সময় গার্দিওলার হাত থেকে বল নিতে গিয়েছিলেন রোনালদো। গার্দিওলা তাঁর হাতে বল না তুলে পাশে ফেলে দেন। এতে চটে গিয়ে রোনালদো ধাক্কা মেরেছিলেন গার্দিওলাকে। সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত বার্সার খেলোয়াড়েরা ছুটে আসেন। পরিস্থিতি ভালোই উত্তাপ ছড়িয়েছিল তখন। সেই আগুন বুঝি এখনো আছে গার্দিওলার মনে!
 রাজীব হাসান

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন