শিক্ষার্থীর জীবনে এই পরীক্ষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ

আইনুন নিশাত | তারিখ: ১৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
আইনুন নিশাত

আইনুন নিশাত

এসএসসি পরীক্ষা সামনে। সব শিক্ষার্থীর জীবনে এই পরীক্ষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরীক্ষার ফলাফল জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে। সারা জীবনের জন্য এ পরীক্ষায় পাওয়া জিপিএ রাজটিকার মতো প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর ললাটে আটকে থাকবে। তাই পরীক্ষার প্রস্তুতি যেমন সিরিয়াসলি নেবে, পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়েও ঠিক তেমন গুরুত্ব দেবে। আমি এসএসসি পাস করেছি ৫০ বছর হতে চলল। কাজেই এখনকার পাঠ্যসূচির সঙ্গে ততটা পরিচিত নই।
প্রথম আলোর পড়াশোনা পাতায় মাঝে মাঝে কৌতূহল নিয়ে চোখ বোলাই, মজাই লাগে।
এখন যেমন বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে প্রশ্ন হয়, আমাদের সময় তা ছিল না, প্রশ্নের ধরন ছিল অন্য রকম। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার কারণে পরীক্ষার হলে ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে আচরণ করবে, সেটা নিয়ে কিছু কথা বলব। কারণ, সব পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের আচরণ প্রায় একই রকম থাকে।
প্রথমে বলব, নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই পরীক্ষার হলে পৌঁছানোর বিষয়টি। বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরে যানজটের বিষয় রয়েছে। কাজেই বাসা থেকে দেরিতে বের না হয়ে বরং পরীক্ষাকেন্দ্রের চত্বরে আগে পৌঁছে অপেক্ষা করাটা ভালো। প্রতিবছরই চোখে পড়ে যে পরীক্ষার দিন কিছু ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকেরা ঊর্ধ্বশ্বাসে পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে দৌড়াচ্ছে। হয়তো যানজটের জন্য রিকশা কিংবা গাড়ি থেকে নেমে দৌড়াতে হচ্ছে। এতে সেই ছাত্রছাত্রী নার্ভাস হয়ে পড়ে এবং পরীক্ষায় তার প্রতিফলনও পড়তে পারে। আর প্রথম দিন তো একটু আগেই যেতে হবে ও বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কারণ, সিট খুঁজে নিতে একটু সময় তো লাগবে।
এবার পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্নপত্র পাওয়ার পরে করণীয় নিয়ে বলব। আমি নিশ্চিত, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এ বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের যথাযথ পরামর্শ দিয়েছেন। তবুও বলছি, সাবধানে যথাযথভাবে রোল নম্বরসহ অন্য বিষয়গুলো প্রথম পৃষ্ঠায় লিখবে। প্রশ্ন পাওয়ার পর দ্রুত উত্তর না লিখে বরং পুরো প্রশ্ন ভালো করে পড়ে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর দেবে তা ঠিক করে নেওয়া। এই সময়ে কোন প্রশ্নের জন্য কতটা সময় দেবে তা ঠিক করে ফেলা। যদি ওই প্রশ্নপত্রের সর্বমোট নম্বর ১০০ হয়। আর পরীক্ষার সময় হয় তিন ঘণ্টা। ধরো যদি বাংলা প্রথম পত্রের মোট নম্বর ১০০। সৃজনশীল অংশের নম্বর ৬০, সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং বহুনির্বাচনী অংশে নম্বর থাকবে ৪০, সময় থাকবে ৪০ মিনিট। সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনীর জন্য আলাদা আলাদা সময় সমীকরণ বানানো যেতে পারে। সৃজনশীলের জন্য ১৩০ মিনিট, নম্বর ৬০। সমীকরণ হলো সৃজনশীলে ৬০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ১২০ মিনিটে (বাকি ১০ মিনিট রিভিশনের জন্য রাখবে)। বহুনির্বাচনীতে ৪০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর শেষ করবে ৩৫ মিনিটে, বাকি ৫ মিনিট রাখবে রিভিশনের জন্য। এভাবে তোমার পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েরও সময়ের সমীকরণ ঠিক করে নেবে।
পরীক্ষার খাতায় উত্তর কীভাবে পরিষ্কারভাবে লিখতে হবে সে বিষয়ে শিক্ষকেরা যেসব সুপরামর্শ দিয়েছেন তা মনে রেখে পরীক্ষা দিলে অবশ্যই গ্রেড ভালো হবে। এবার বলব শেষ কথা, আমার শিক্ষকতার দীর্ঘ সময় দেখেছি, অনেক সময় একজন ছাত্র হয়তো সঠিক উত্তর জানে কিন্তু সময়ের অভাবে পরীক্ষার হলে খাতায় তা লিখতে পারেনি। অনেকে পরীক্ষার পদ্ধতিকে দোষ দিয়ে থাকে।
কিন্তু মনে রাখবে, একই পদ্ধতিতে অন্যরাও পরীক্ষা দিচ্ছে। কাজেই পরীক্ষাকে সিরিয়াসলি নিতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।
 ড. আইনুন নিশাত: উপাচার্য, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন