সিএসআরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরামর্শ
সিএসআর কর্মকাণ্ডের প্রকাশনা উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিরা
প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কর্মকাণ্ডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলছেন, বিচ্ছিন্নভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত সিএসআর কর্মকাণ্ডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হলে দেশের উন্নয়নে তা আরও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সিএসআর কর্মকাণ্ড প্রকল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতা দলিল উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত দলিল উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। বক্তব্য দেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আনিস এ খান, এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিএসআর কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহের কোনো অভাব নেই। বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমরা অনেক সিএসআর কর্মকাণ্ড দেখতে পাই। কিন্তু এখন সময় এসেছে সমন্বিত উদ্যোগে এসব কাজ করার। এ জন্য সিএসআরের সব অর্থ নিয়ে সরকারি উদ্যোগেই একটি আলাদা তহবিল গড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’
ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, সিএসআরের সব অর্থকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে সরকার চাইলে জাতীয় শিক্ষা তহবিল বা ট্রাস্ট নামের বিশ্বাসযোগ্য একটি তহবিল গড়ে তুলতে পারে। শিক্ষা খাতে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সিএসআরে আগ্রহী, তারা সেখানে তাদের অর্থ জমা দেবে। সেই অর্থে এ খাতের উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। তার বিপরীতে অর্থদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকার কিছুটা স্বীকৃতিও দিতে পারে। আর সিএসআরের বিপরীতে সরকারের কর রেয়াত-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও এতে সহজতর হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআরের অর্থ দিয়ে একটি সমন্বিত তহবিল গড়ার চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মুনাফার ৫ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআর কর্মকাণ্ডে অনেক বেশি সক্রিয় হলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এটা নিয়ে মাথাও ঘামায় না। অথচ তারা ব্যবসা থেকে অনেক লাভ করে।
শাহীন আনাম বলেন, ‘সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি টেকসই ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়েও এখন ভাবতে হবে। সে সঙ্গে এই খাতে পেশাদারি বাড়ানো দরকার। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে এখন চাইলে একেকটি ব্যাংক বা একেকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একেকটি গ্রামের শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্ব নিতে পারে।’ রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, সিএসআর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের বিষয়টি এখন খুবই জরুরি হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন শুধু মুনাফার কথা ভাবলে আর চলবে না। মুনাফার একটি অংশ নিয়ে তাদের সিএসআর কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও এমআরডিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এবং কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থে দেশের পিছিয়ে থাকা একাধিক অঞ্চলে সিএসআরের মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গড়ে ওঠা সাফল্যের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







